১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, তথ্য নয়: সরকারি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গে

সংবাদমাধ্যমের কোথাও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করারও সুযোগ থাকছে না তাদের; রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্র বা অন্য রাজ্যের, কিংবা ভারতের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন বক্তব্যে মিলবে শাস্তি।

অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, তথ্য নয়: সরকারি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি। ছবি: আনন্দবাজার

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 May 2026, 03:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:39 PM

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এখন থেকে অনুমতি ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করতে পারবেন না, কোনো তথ্য বা নথিও দিতে পারবেন না বলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে। 

মঙ্গলবার পাঠানো এ নির্দেশনায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আরও বলেছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী সংবাদপত্র, সাময়িকী বা কোনো ধরনের প্রকাশনায় লিখতে পারবেন না; পত্রিকা সম্পাদনা বা পরিচালনার সঙ্গেও থাকতে পারবেন না যুক্ত। রেডিও বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োজ্য হবে।

এখন থেকে অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মী বেসরকারি বা অন্যদের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া কোনো মিডিয়া অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে বা সহযোগিতা করতে পারবেন না। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আছে, কিন্তু অন্যদের অনুষ্ঠান—এমন ক্ষেত্রেই একই নিয়ম মানতে হবে। 

সংবাদমাধ্যমের কোথাও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করারও সুযোগ থাকছে না তাদের; এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না যা রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্র বা অন্য রাজ্যের সম্পর্ক কিংবা ভারতের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের পাঠানো ‘কড়া’ নির্দেশনায় এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। 

তারা লিখেছে, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী যে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় রাজ্যের সব দপ্তর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এটি কঠোরভাবে মেনে চলতেও কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সব কর্মী, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, অন্যান্য সরকারি কর্মী, জেলখানার কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এসব নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মহল বলছে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (এআইএস) কন্ডাক্ট রুলস ১৯৬৮, ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস (ডিউটিজ, রাইটস অ্যান্ড অবলিগেশন অব দ্য গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ) রুলস ১৯৮০ ও ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস কন্ডাক্ট রুলস ১৯৫৯ এর অধীনে আগে থেকেই এ ধরনের নির্দেশনা ছিল। 

সরকারি কর্মীরা যেন সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলে—সে কথাই মঙ্গলবারের নির্দেশনায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সচিবালয়ের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে সরকারি কর্মীদের নানান মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা এবং প্রশাসনের নানান তথ্য বাইরে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছিল। তার প্রেক্ষিতেই এই ‘কড়া নির্দেশনা’ জারি করা হয়েছে। 

বিরোধীরা বলছেন, এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের জনসমক্ষে মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সঙ্কুচিত হল। তবে সরকার তা মানতে রাজি নয়। তাদের মতে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রুখতেই তাদের এই পদক্ষেপ।

এসব আচরণবিধি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কেউ এই নির্দেশনা মেনে না চললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, বলেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন।