Published : 15 Mar 2022, 12:02 PM
প্রসাবের সামান্য বেগ পাওয়ার পরও মুত্রথলি তা কিছু সময় ধরে রাখতে না পারলে ’লিকেজ’ হয়, অর্থ্যাৎ প্রসাব ঝরে পড়ে।
জোরে হাসলে, হাঁচি দিলে বা ভারী কোনো ব্যায়াম করার সময়ও প্রসাব একটু একটু করে ’লিকেজ’ হতে পারে অথবা মুত্রথলির সবটুকু প্রস্রাব একবারে ঝরে যেতে পারে।
সাধারণত যখন প্রসাবের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় তখন ‘স্ফিঙ্কটার’ মাংসপেশি শক্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যাতে প্রস্রাব অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হয়ে না যায়।
দোলনা অথবা ফানেল আকারের পেলভিক ফ্লোর পেশি মুত্রাশয়, অন্ত্র ও জরায়ুকে ঘিরে রাখে। এই পেলভিক ফ্লোর এবং স্ফিঙ্কটার পেশি মিলে মুত্রথলিতে প্রস্রাব ধরে রাখা অথবা প্রসাব করা নিয়ন্ত্রণ করে।
বিভিন্ন কারণে সেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় অনেকেই প্রসাবের চেপে রাখেন। এতে পেশির দৃঢ়তা কমে গেলে ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হতে পারে।
এছাড়া গর্ভকালে, কম বয়সে সন্তান জন্ম দিলে, মেনোপজ ও স্থূলতার কারণেও মুত্রথলিতে প্রস্রাব ধরে রাখা ও মুত্রত্যাগে কার্যকরী পেশি ও স্নায়ু দুর্বল হতে পারে।
ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স কোনো রোগের উপসর্গও হতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
এর সঙ্গে বাড়িতে বসে টানা কয়েকদিন দুটো ব্যায়াম করলেও উপকার মিলবে।
উইমেনসহেলথ ডটগভ ওয়েবসাইটে বলছে, কিগেল বা পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম প্রস্রাব ঝরে পড়া নিরাময়ে নারীর জন্য বেশ কার্যকর; প্রতি ১০ জনে ৪ জন এতে উপকার পেয়েছেন।
কিগেল ব্যায়াম প্রতিদিন করা যাবে; এমনকি গর্ভকালেও।
এই ব্যায়ামে মুত্রথলি খালি করে একটি চেয়ারে বসে নিম্নাংগের পেশি ভেতরের দিকে চাপতে হবে অর্থ্যাৎ সংকুচিত করতে হবে।
এতে অনেকটা প্রস্রাব আটকে রাখার মত চাপ পড়বে ভেতরের পেশিতে। এই অবস্থায় ২০ থেকে ২৫ পর্যন্ত গুণতে হবে। তারপর শিথিল করতে হবে পেশি। এভাবে প্রতি বসাতে ১০ থেকে ১৫ বার করতে হবে। দিনে চার থেকে পাঁচ বার এই ব্যায়াম করতে হবে।
অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে মাস খানেকের মধ্যে এতে উপকার মিলবে।
অসুস্থ হওয়ার পরই এ ব্যায়াম করার চেয়ে বিশেষ করে সন্তান প্রসবের পর নিয়মিত কিগেল করা হলে তা ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স রোধে কাজে দেয় বলে চিকিৎসকদের ভাষ্য।
এই ব্যায়াম শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করেও করা যায়। এছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রস্রাব করতে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
প্রস্রাবের বেগ না পেলেও শুরুতে ৩০ মিনিট পর পর টয়লেটে যাওয়া যায়। এভাবে একটু একটু করে সময় বাড়াতে হবে। এই পদ্ধতিকে চিকিৎসকরা ’ব্লাডার ট্রেনিং’ বলে থাকেন।