Published : 12 Aug 2026, 06:53 PM
মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা প্রসাধনী রাখার প্রয়োজন ছাড়াও ব্যাগ এখন রুচি ও স্টাইলের অংশ। পরিপাটি পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ না থাকলে, ফ্যাশনে যেন পূর্ণতা আসে না।
তাই ফ্যাশনের পরিবর্তিত ধারায় ব্যাগ এখন কেবল ব্যবহারিক অনুষঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও কৌশল।
দেশীয় ফ্যাশনেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। এখন এমন ব্যাগই প্রয়োজন যা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য দেবে, অন্যদিকে সব ক্ষেত্রেই সমান মানিয়ে যাবে।
অর্থাৎ রং, নকশা ও বহনের সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য থাকলেই সেটি বেশি কাঙ্ক্ষিত। তাই শুধু সুন্দরের দিক থেকেই নয়, ব্যবহারিক সুবিধা রেখেই তৈরি হচ্ছে এ সময়ের ব্যাগ।
মাখনের মতো কোমল হলুদ
এ মৌসুমে মানাসই রং হল কোমল রংগুলো। তাই মাখনের মতো কোমল হলুদ রংয়ের ব্যাগ এই সময়ে বেছে নেওয়া যেতেই পারে।
অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অহং’–এর প্রধান ও ব্যাগ ডিজাইনার নিশাত ফেরদৌস বলেন, “কয়েক বছর আগেও উজ্জ্বল হলুদ ব্যবহারে দ্বিধা দেখা যেত। তবে কোমল হলুদ এখন অনেকটাই নিরপেক্ষ রংয়ের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এটি অফিস থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান সব জায়গাতেই সহজে ব্যবহার করা যায়।”
বিশেষ করে সাদা, ক্রিম, হালকা ধূসর, আকাশি কিংবা মাটির রংয়ের পোশাকের সঙ্গে কোমল বর্ণের ব্যাগ মানানসই।
টকটকে লাল ফিরেছে
এই সময়ের আরেকটি সাহসী রং টকটকে লাল। একরঙা পোশাকের সঙ্গে লাল রংয়ের ব্যাগ, আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে।
“বিশেষ করে সাদা, কালো কিংবা বেইজ রংয়ের পোশাকের সঙ্গে লাল ব্যাগ আলাদা বৈপরীত্য আনে”, বলেন নিশাত।
নীল, সাদা ও মাটির রংয়ের আবেদনও আছে
কোমল আকাশি নীল ব্যাগও বর্ষার সঙ্গে মানানসই।। এই রং গরমের সময়ে স্বস্তির আবার বর্ষার পোশাকের জন্য যথাযথ।
নিশাত বলেন, “সাদা রংয়ের গঠনধর্মী ব্যাগ কখনই ফ্যাশনের বাইরে যায় না। এটি প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। তবে সাদা ব্যাগ ব্যবহার করলে নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি।”
“মাটি রং, বাদামি, খয়েরি ও জলপাই রংয়ের ব্যাগও সমসাময়িক থাকবে। কারণ এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এবং সহজে পুরোনো মনে হয় না”, বলেন এই ব্যাগ ডিজাইনার।
বড় ব্যাগের প্রয়োজন ফুরায়নি
এ সময়ে দুই ধরনের ব্যাগই সমানভাবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ব্যাগে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, চাবি ও প্রয়োজনীয় কিছু প্রসাধনী রাখা হয়।
আবার বাইরে ঘোরাঘুরি বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য এসব ব্যাগ বেশ সুবিধাজনক।
অন্যদিকে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের কাছেও বড় ব্যাগের চাহিদা অনেক। কারণ এতে কাগজপত্র, পানির বোতল, ছাতা, খাতা সহজেই সঙ্গে রাখা যায়।
তাই ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় বড় ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
একই ব্যাগে চাই একাধিক ব্যবহার
“এখন এমন ব্যাগের চাহিদা রয়েছে, যেটার ফিতা প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা বড় করা যায়। কাঁধে ঝোলানো, হাতে ধরা কিংবা শরীরের আড়াআড়ি ব্যবহার করা যায়”, বলেন নিশাত ফেরদৌস।
একটি ব্যাগেই একাধিক সুবিধা পাওয়া যায় বলেই এই ধরনের ব্যাগ বেশি গ্রহণযোগ্য।
যে রংয়ের ব্যাগ মানাবে
সুতির শাড়ি, জামদানি, কাতান, থ্রি–পিস, কুর্তা কিংবা ফতুয়ার সঙ্গে হালকা হলুদ, সাদা, বাদামি ও জলপাই রংয়ের ব্যাগ মানানসই।
আবার উৎসবের পোশাকে লাল, সবুজ বা নীলের উপস্থিতি বেশি থাকলে, সঙ্গে ছোট আকারের উজ্জ্বল রংয়ের ব্যাগ নেওয়া যায়।
“এছাড়া প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য এমন রং বেছে নেওয়া ভালো, যা বছরের সব মৌসুমেই ব্যবহার করা যায়”, যোগ করেন নিশাত।
নকশায় সরলতার ছাপ
ব্যাগের নকশাতেও অতিরিক্ত অলংকরণ বা ডিজাইনের ফ্যাশন নেই বরং সরলতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পরিষ্কার রেখা, পরিমিত সেলাই, ছোট ধাতব অলংকরণ, হ্যান্ড পেইন্ট, রং-তুলির প্রাধান্য এবং ব্যবহারিক ভেতরের অংশ এসব বৈশিষ্ট্য এ সময়ের উপযোগী বলে মন্তব্য করেন, নিশাত ফেরদৌস।
আরও পড়ুন