১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে একটি পানীয়

যদিও দুয়েকটি খাবার সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে না, তবে কার্যকর করতে ভূমিকা রাখে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 06:27 PM

Updated : 15 Oct 2026, 06:27 PM

আদা ও হলুদ, দুটিই রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ। কখনও মাছের ঝোলে, কখনও ডালে আবার কখনও চায়ের কাপে জায়গা করে নেয় এগুলো।

রান্নার স্বাদ বাড়ানোর বাইরেও এদের রয়েছে স্বাস্থ্যগুণ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুষ্টিবিদ মারিসা পেরোত্তা প্রতিদিন সকালে আদা ও হলুদ দিয়ে তৈরি বিশেষ পানীয় পান করার কথা বলেন। এই অভ্যাসে খাদ্যতালিকায় উদ্ভিজ্জ উপাদান যুক্ত হয়। 

তবে আদা-হলুদ কীভাবে শরীরের কাজে লাগে, কোন উপায়ে গ্রহণ করা উপকারী এবং কোন ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সেসব নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

দিনের শুরুতে আদা-হলুদের পানীয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি’তে অবস্থিত ‘পিসঅ্যাবল নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েলনেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও যোগচর্চার প্রশিক্ষক মারিসা পেরোত্তা দৈনিক অভ্যাসের অংশ হিসেবে, সকালে আদা ও হলুদ দিয়ে তৈরি বিশেষ পানীয় পান কথা জানান। 

রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি পরামর্শ দেন, “এই পানীয়তে থাকবে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, আদা, হলুদ, লেবু ও লাল মরিচের গুঁড়া।

প্রয়োজন অনুযায়ী এর সঙ্গে পানি মিশিয়ে পান করেন হবে।

“তবে স্বাদটি ঝাঁঝালো হওয়ায় সবার কাছে পানীয়টি সমান উপভোগ্য নাও হতে পারে। সকালে এই পানীয় পান করা খাবারে উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান যোগ করার সহজ একটি উপায়”, বলেন তিনি।

হলুদের মধ্যে যা আছে

হলুদ শুধু খাবারের রং ও স্বাদ বাড়ায় না, এতে রয়েছে ‘কারকিউমিন’ নামের একটি সক্রিয় যৌগ। 

মারিসা পেরোত্তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অণুর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং প্রদাহের প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া কিছু অস্থিতিশীল অণু কোষের ক্ষতি করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এসব অণুর প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে প্রদাহ শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত প্রদাহ নানান স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

হলুদের কারকিউমিন নিয়ে গবেষণার একটি বড় অংশ এই দুই বিষয়কে ঘিরে।

মারিসা বলেন, “তবে হলুদ খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে বা সংক্রমণ হবে না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।”

খাবারে হলুদ ব্যবহার করা আর এর নির্যাস বা কাঁচা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়।

সাধারণ রান্নায় হলুদ রাখা যায়, তবে কোনও রোগের চিকিৎসা হিসেবে অতিরিক্ত হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ করা উচিত নয় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া।

আদার উপকারিতা

আদা রান্নার একটি উপাদান হলেও হজমের অস্বস্তি ও বমিভাব কমানোর উপকারিতার জন্য এটি পরিচিত।

আদার মধ্যে জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন সক্রিয় উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলো নিয়ে হজম, প্রদাহ এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কার্যকারিতা বিষয়ে গবেষণা আছে।

মারিসা পেরোত্তার মতে, “আদার সম্ভাব্য জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য এবং হজমে সহায়তার বিষয়টি, এটিকে খাবারের উপযোগী একটি উপাদান করে তুলেছে। তবে পরীক্ষাগারে কোনো উপাদানের জীবাণুরোধী কার্যকারিতা দেখা গেলেই মানুষের শরীরে সেটি একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়।”

“আদা খেলে সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করা নিশ্চিত, এমন প্রমাণও নেই”, বলেন তিনি।

আদা ব্যবহারের সহজ উপায় হল, রান্নায় নিয়মিত এর ব্যবহার। ডাল, সবজি, স্যুপ বা মাছ-মাংসের রান্নায় আদা যোগ করা যায়।

অল্প আদা তৈরি করা গরম পানীয় কাশিতে আরাম দেয়। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে কারও কারও বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি বা মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

বিকল্প ব্যবস্থা

আদা-হলুদের ঝাঁঝালো পানীয় সবার পছন্দ হবে, এমন নয়। বিশেষ করে খালি পেটে ভিনেগার, লেবু ও ঝাল উপাদান মিশিয়ে তৈরি পানীয় খেলে অম্লতা বা বুকজ্বালার সমস্যা থাকলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

“তাই পানীয়টি ভালো না লাগলে জোর করে গ্রহণের প্রয়োজন নেই”, বলেন এই পুষ্টিবিদ।

মারিসা পেরোত্তা প্রতিদিনের খাবারে হলুদ মেশানোর সহজ কয়েকটি উপায়ও উল্লেখ করেছেন। ফলের পানীয়, দই বা ওটসের সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে নেওয়া যায়। আদা ও হলুদ দিয়ে স্যুপ তৈরি করাও ভালো বিকল্প। 

এসব উপকরণ একসঙ্গে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। খাবারের স্বাদ ও ব্যক্তিগত সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করাই ভালো।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে আর যা জরুরি

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নানান অঙ্গ, কোষ ও জৈবিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে কাজ করে। এটি ভালো রাখতে একটি মাত্র খাবারের বদলে সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

“প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ বা অন্যান্য উপযুক্ত আমিষের উৎস রাখা জরুরি। এসব খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পায়”, বলেন মারিসা।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাও সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুরনো খবর:

বাজে খাদ্যাভ্যাসে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করা জরুরি
খোসপাঁচড়া রোধে চাই সচেতনতা