অঙ্কুরিত রসুন খাওয়া কি নিরাপদ?
গাছ বের হওয়া রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়।
রান্নাঘরে রাখা রসুনে হঠাৎ সবুজ অঙ্কুর দেখা গেলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এটি কি নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি খাওয়া যাবে?
অনেকের ধারণা, অঙ্কুরিত রসুন মানেই তা ফেলে দিতে হবে। তবে রন্ধন-বিশারদরা বলছেন, অঙ্কুরিত রসুন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি খাবারের স্বাদ ও পুষ্টি দুইই বাড়াতে পারে।
রসুনে অঙ্কুর গজানোর কারণ
প্রতিটি রসুনের কোয়ার ভেতরেই একটি ছোট অঙ্কুর থাকে, যাকে ‘জার্ম’ বলা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্কুর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নতুন গাছে পরিণত হওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে রাখলে রসুন দ্রুত অঙ্কুরিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেফ ও প্রশিক্ষক মাইকেল হ্যান্ডাল রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “রসুন যদি শীতল ও অন্ধকার জায়গায় রাখা হয়, তাহলে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে অনেকেই ভুল করে ফ্রিজে রাখেন, এতে অঙ্কুর দ্রুত বের হয়ে আসে।”
“একইভাবে আলুর পাশে রাখলেও রসুন দ্রুত অঙ্কুরিত হতে পারে, কারণ আলু থেকে নির্গত গ্যাস রসুনের বৃদ্ধিকে দ্রুত করে”- বলেন তিনি।
অঙ্কুরিত রসুন খাওয়া কি নিরাপদ?
অঙ্কুরিত রসুন খাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন হল, এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি-না?
এ বিষয়ে হ্যান্ডাল পরিষ্কারভাবে বলেন, “রসুনের ভেতরের সবুজ অঙ্কুর এবং বাইরের বের হওয়া কচি অংশ দুটিই খাওয়ার উপযোগী।”
শুধু তাই নয়, এই অঙ্কুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও থাকে। ফলে এটি শুধু নিরাপদই নয়, বরং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উপকারী।
স্বাদের পরিবর্তন ও রান্নার কৌশল
অঙ্কুরিত রসুন ব্যবহারের আপত্তির মূল কারণ হল এর স্বাদ। কাঁচা অবস্থায় এই অঙ্কুর কিছুটা তিতকুটে লাগতে পারে। তবে রান্না করলে এই তিতকুটে-ভাব অনেকটাই কমে যায়।
শেফ হ্যান্ডাল বলেন, “ভাজা, ভাপে রান্না বা হালকা তেলে নেড়ে রান্না করলে অঙ্কুরিত রসুনের স্বাদ নরম হয়ে আসে। এটি সহজেই ভাত, মাংস, সবজি কিংবা ডিমের রান্নায় ব্যবহার করা যায়। এমনকি পেস্ট বা চাটনির মতো খাবারেও ব্যবহার করলে আলাদা এক ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়।”
রান্নায় অঙ্কুরিত রসুনের ব্যবহার
অঙ্কুরিত রসুন রান্নাঘরে বহুমুখী উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সাধারণ রসুনের মতোই এটি ভাজি, তরকারি বা ভর্তায় ব্যবহার করা সম্ভব।
আবার আলাদা করে হালকা ভেজে খাবারে পরিবেশন করাও যায়।
এমন কি অঙ্কুর কুচি করে সালাদ বা বিভিন্ন ‘ডিপ’ ধরনের খাবারে ব্যবহার করা যায়। এর স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজ পাতার মতো ব্যবহারযোগ্য, যা খাবারে নতুন মাত্রা যোগ করে।
‘জার্ম’ বা ভেতরের অংশ রাখা না ফেলা
রসুনের ভেতরের সবুজ অংশ বা ‘জার্ম’ নিয়ে প্রশ্ন বা দ্বিধা থাকে। কেউ এটি রেখে রান্না করেন, আবার কেউ বাদ দেন।
শেফ মাইকেল হ্যান্ডালের মতে, “এটি সম্পূর্ণ নিজের পছন্দের বিষয়।”
যদি কেউ তিতকুটে স্বাদ কমাতে চান, তাহলে ছুরি দিয়ে সহজেই এই অংশ আলাদা করে ফেলা যায়। তবে রান্না করার পর এই তিতকুটে-ভাব অনেকটাই কমে যায়, তাই এটি রেখে দিলেও সমস্যা নেই।
রসুন ফেলে দিতে হবে যখন
অঙ্কুর বের হওয়া মানেই রসুন নষ্ট হয়ে গেছে— এ ধারণা ভুল। তবে কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে রসুন ব্যবহার না করাই ভালো।
যদি রসুন নরম হয়ে যায়, চাপ দিলে বসে যায়, বা বাদামি রং ধারণ করে, তাহলে সেটি আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এ ধরনের রসুনে পচন শুরু হয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সংরক্ষণের সঠিক উপায়
রসুন যাতে দ্রুত অঙ্কুরিত না হয়, সেজন্য সংরক্ষণ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
এই রন্ধনশিল্পীর পরামর্শ অনুযায়ী, “রসুন শুকনা, শীতল এবং অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিত। খোলা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পাত্রে রাখলে এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।”
ফ্রিজে রাখা থেকে বিরত থাকা ভালো, কারণ এতে আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং অঙ্কুর দ্রুত গজায়। একইভাবে আলুর পাশে না রাখাই উত্তম।
আরও পড়ুন
