মেদ কমাতে ৭ ধরনের খাবার

কিছু খাবার আছে যেগুলো শরীরের চর্বি কাটাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পেটের মেদ কমাতে উপকারী এইসব খাবার সম্পর্কে জানা থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।

>>বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 March 2014, 08:19 AM
Updated : 30 March 2014, 08:19 AM

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আসফিয়া আজিম।

ওজন কমাতেআমরা কত কিছুই না করি! প্লেটে খাবারের পরিমাণকমিয়ে শশা, গাজর আর সুপ খেয়েই কাটিয়ে দিই দিনেরপর দিন। তারপরও এত কষ্টের ফলাফল ওজন মেশিনখুব সহজে দিতে চায় না। ডায়েট শুরুর প্রথম দিকেচটপট ওজন কমলেও একটা সময় পর ওজন হ্রাসের গতি কমে আসে।হতাশা নিয়েঅনেকে আবিষ্কার করেন, ওজন তো কমছেই না বরং দীর্ঘদিন থেকে সুপআর শশা খাওয়ার ফলে শরীরে দেখা দিচ্ছে অপুষ্টি। চুল পড়ে যাচ্ছে, চামড়া শুষ্ক হয়ে পড়ছে, চেহারায়লাবণ্য নেই বললেই চলে।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরাবলেন, শরীর দীর্ঘদিন ধরে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাবার না পেলে ‘স্টারভেশন’ অবস্থায় চলে যায়। প্রয়োজনেরতুলনায় কম পরিমাণে খাবার পাওয়ার কারণে শরীর সেই খাবার ব্যবহার করারপরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং খাবারকে জমিয়ে রাখতে শুরু করে। এটাইহল ‘স্টারভেশন’ অবস্থা।

শরীর যখনখাবার ব্যবহার না করে জমাতে শুরু করে, তখন ওজন তো কমেই না বরং অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তেশুরু করে।

অন্যদিকেশরীরের ভেতরের কার্যকলাপ কম গতিসম্পন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে মেটাবলিকসিস্টেমের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে খাবারের ক্যালরি চর্বি হয়ে শরীরে জমা হতেশুরু করে।

তাহলে উপায়?এমন কি কোনো ‘ম্যাজিক’ নেই, যাতে করে পেট ভরে খেলেও বাড়বে না ওজন! উত্তর হল, আছে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ৭ ধরনের খাদ্যোপাদানকে ‘ম্যাজিক ফুড’ বলে অভিহিতকরেছেন। তাঁদের মতে, এ ৭ ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণেনিয়মিত খেলে ওজন অবশ্যই কমবে।

ফল ও সবজি

এ খাবারগুলোতেমাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও ফাইবার বেশি থাকার কারণে তা কোলেস্টেরল ও পেটের চর্বি কমাতেসাহায্য করে। খাবারের আঁশ চর্বিকণাকে বেঁধে ফেলে এবং মলমূত্রেরমাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।পাশাপাশিফল ও সবজিতে আঁশজাতীয় উপাদান বেশি থাকার কারণে ক্ষুধার অনুভূতি হ্রাস করে। প্রতিদিন অন্ততচার-পাঁচ ধরনের ফল ও সবজি খেলে তা অন্যান্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায়। এ বিশেষ কয়েকটি কারণেই পেটের মেদ কমাতে ফল ও সবজিকাজ করে থাকে।

সবুজ চা

হালকা এপানীয় কেবল শরীরকে সতেজই রাখে না, সঙ্গে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সবুজ চায়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রাচুর্য পরোক্ষভাবেঅতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে।

বাদাম ও অলিভ অয়েল

প্রতিদিনেরখাবার তালিকায় প্রোটিন থাকা যেমন অত্যাবশ্যক, ঠিক তেমনি জরুরি ‘ফ্যাট’-জাতীয়খাবারের উপস্থিতি। আঁতকে উঠলেন? কিন্তু এটাই সত্যি।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদেরমতে, সব ‘ফ্যাট’ই শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়।শরীরকে সবধরনের খাদ্য উপাদানের সুষম বণ্টনই সুস্থতাকে নির্দেশ করে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেলেরমতো দেহে ফ্যাটেরও প্রয়োজন। বিশেষ করে কিছু ভিটামিনশোষণের জন্য প্রয়োজন ফ্যাট।

এ, ডি,কে এবং ই ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে, যদি শরীর তার প্রয়োজনমতো ফ্যাটের সরবরাহ থেকেবঞ্চিত হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারতালিকায়রাখুন কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কুমড়ার বিচি, শিমের বিচি, কিডনি বিন ও জলপাইয়ের তেল। বাদাম ও দানাজাতীয় খাবার থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তাকে পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘মনোআনস্যাচুরেটেডফ্যাট’। এই ফ্যাট রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণকমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।

মনোআনস্যাচুরেটেডফ্যাট ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দেখভালকরে, চামড়ার মসৃণতা বাড়াতে সাহায্য করে পাশাপাশি মেটাবলিক রেট বাড়ায়, যা ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিকমাছে থাকে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতেদায়ী চর্বিকে পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। বাদাম ও জলপাই তেলের মতোসামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

মসলা

রান্নায়যেসব মসলা ব্যবহার করা হয়, যেমন রসুন, হলুদ, দারুচিনি, আদা— এগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গেসামঞ্জস্যপূর্ণ। মসলার নিজস্ব গুণাগুণের কারণে তা শরীরকে আয়ুর্বেদিককিছু উপকারিতা দিয়ে থাকে। আবার মসলা খাবারকে সহজপাচ্যকরে, যা খাবারকে সুস্বাদু করার সঙ্গে সঙ্গে হজমেও সাহায্য করে। আদা, দারুচিনি ও হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পরোক্ষভাবেওজন কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে।

পানি

শরীর থেকেবর্জ্য বের করে দিতে পানির ভূমিকা অসাধারণ। বলাহয়, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি ওজন হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে। পানি শরীরকে সতেজ রাখে, অযথা ক্ষুধাভাবকে দূর করে। বারবার পানি পান করার ফলে শরীর চাঙাবোধ করে। মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়।তাই ওজনকমানোর অন্যতম আরেকটি জরুরি পদক্ষেপ পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

আঁশজাতীয় খাবার

এই ধরনের খাবার রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে,যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আঁশজাতীয় খাবারে ভিটামিন-বিবেশি থাকে, যা রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।পাশাপাশিআমাদের বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর) সচল রাখার মাধ্যমে শরীরকে তার খাবার পরিপূর্ণভাবেসদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরিজমা রাখার প্রবণতা কমাতে আঁশজাতীয় খাবারের জুড়ি মেলা ভার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক