ওজন কখন মাপছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ
ওজন মাপারও আছে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম।
ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করলেই অনেকের মধ্যে ওজন মাপার প্রবণতা বেড়ে যায়।
সকালে উঠে, দুপুরে খাওয়ার পর, বিকালে ব্যায়ামের পর, রাতে ঘুমানোর আগে— দিনে কয়েকবার স্কেলে দাঁড়িয়ে দেখেন ওজন কমছে কি-না। তবে প্রতিবারই দেখেন তারতম্য।
কখনও ৫০০ গ্রাম কম, কখনও ১ কেজি বেশি। এতে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান অনেকেই।
আসলে দিনের বিভিন্ন সময়ে ওজন স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে। তাই যে কোনো সময়ে মাপলে সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “ওজন মাপারও আছে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম। সঠিক সময়ে মাপলে শরীরের আসল অবস্থা বোঝা যায়। এলোমেলো সময়ে মাপলে ফলাফল বিভ্রান্তিকর হয় এবং ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় হতাশা বাড়ে।”
যে সময়গুলোতে ওজন মাপা উচিত নয়
দিনের বিভিন্ন সময়ে ওজনের তারতম্য স্বাভাবিক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একজন মানুষের ওজন এক থেকে তিন কেজি পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। তাই এলোমেলো সময়ে মাপলে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।
খাওয়ার পরপরই: খাবার বা পানি গ্রহণের পর শরীরে সাময়িকভাবে ওজন বেড়ে যায়। এটি চর্বি নয়, শুধু খাবারের ওজন। তাই খাওয়ার পর ওজন মাপলে ভুল ফলাফল আসবে।
ব্যায়ামের ঠিক পরেই: ব্যায়ামের পর ঘাম ঝরে শরীর হালকা মনে হয়। তবে এটি আসলে ওজন কমা নয়, শুধু পানি কমে যাওয়ার প্রভাব। ব্যায়ামের পর ওজন মাপলে কম দেখাবে, যা স্থায়ী নয়।
মাসিক চলাকালীন: নারীদের মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পানি জমে ফোলাভাব দেখা দেয়। এতে দুয়েক কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়তে পারে, যা পরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর: লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। কার্বোহাইড্রেটও একই কাজ করে। ফলে হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
অ্যালকোহল গ্রহণের পর: অ্যালকোহল শরীরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে ওজন কখনও বেশি, কখনও কম দেখাতে পারে।
ওজন মাপার সঠিক সময় ও নিয়ম
ওজন মাপার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সময় হল- সকালে ঘুম থেকে উঠে, পেট খালি অবস্থায়।
বাথরুম সেরে নেওয়ার পর, কোনো খাবার বা পানি না খেয়ে ওজন মাপতে হবে। এ সময় শরীরে বাড়তি কোনো খাবার বা পানি থাকে না, ফলে সঠিক ওজন পাওয়া যায়।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
একই সময়ে মাপা: সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাপতে হবে। প্রতিবার একই সময়ে মাপলে তুলনা করা সহজ হয়।
একই যন্ত্র ব্যবহার করা: ভিন্ন যন্ত্রে ওজনে তারতম্য হতে পারে।
হালকা পোশাকে মাপা: ভারী কাপড় বা জুতা পরে মাপা যাবে না। খালি পায়ে বা হালকা পোশাকে মাপাই ভালো।
সমতল মেঝেতে রাখা: কার্পেট বা অসমতল জায়গায় যন্ত্র রেখে মাপলে ভুল ফলাফল আসতে পারে।
সপ্তাহে একবার মাপা: প্রতিদিন মাপলে সাময়িক ওঠানামায় বিভ্রান্ত হতে হবে। সপ্তাহে একবার মাপলে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি বোঝা যায়।
ওজন কমানোর সঠিক পথ
ওজন কমানো একটি ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের সামান্য ওঠানামা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুস্থ জীবনযাপনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
ডা. আফসানা হক নয়নের পরামর্শ, “ওজন মাপা শুধু একটি সূচক। সঠিক সময়ে মাপলে নিজের অগ্রগতি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন এবং এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস পাবেন। সুস্থ থাকতে ওজন মাপুন, তবে সঠিক নিয়ম মেনে। ছোট ছোট অভ্যাস বদলে শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা যায়।”
আরও পড়ুন
