অতিরিক্ত খাবার না খেয়েও হঠাৎ ওজন বৃদ্ধির যত কারণ
শারীরিক নানান কারণের পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকেও ওজন বাড়তে পারে।
মনে করা হয়, বেশি খাওয়া মানেই ওজন বাড়া। তবে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। অনেক কিছুই ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই হঠাৎ ওজন বাড়লে অবহেলা করা যাবে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সব সময় অতিরিক্ত খাবারই ওজন বাড়ার একমাত্র কারণ নয়। শরীরের ভেতরের কিছু পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা বা লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যাও অজান্তে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বলতে বোঝায়, খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েও শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া।”
“যদি সপ্তাহে প্রায় দেড়-দুই কেজি ওজন বেড়ে যায়, অথবা এক মাসে শরীরের মোট ওজনের পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
বয়স বাড়ার সঙ্গে বিপাকক্রিয়া কমে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ‘মেটাবলিজম’ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মাংসপেশির পরিমাণ কমে এবং চর্বির পরিমাণ বাড়তে থাকে।
ফলে আগের মতো খাবার খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এর গতি অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
হরমোনের ওঠানামা
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন ওজনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বয়ঃসন্ধিকাল: শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে ওজনও বাড়ে।
মাসিক চক্র: অনেক নারী মাসিকের আগে শরীরে পানি জমে যাওয়ার কারণে কয়েক কেজি ওজন বেড়ে যেতে দেখেন।
গর্ভাবস্থা: শিশুর সুস্থ বৃদ্ধির জন্য ওজন বাড়া স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়।
মেনোপজ: ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ায় অনেক নারীর ওজন বাড়তে শুরু করে।
মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব
দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। এটি পেটের চর্বি বাড়ায় এবং বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।
ঘুমের অভাবও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা
হঠাৎ ওজন বাড়ার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা।
এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও ওজন বাড়তে পারে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা কর্টিকোস্টেরয়েড ধরনের ওষুধ এর মধ্যে অন্যতম।
যা করা যেতে পারে
হঠাৎ ওজন বাড়লে নিজেকে দোষারোপ না করে কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহায়ক হবে।
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা হরমোন পরীক্ষা করে মূল কারণ বের করা যায়। পাশাপাশি কিছু অভ্যাসও সাহায্য করতে পারে। যেমন-
আরও পড়ুন
