২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বসের সঙ্গে তর্কে জেতার কৌশল

বসের কোনও কথা ভুল মনে হচ্ছে, তবে তর্ক করতে সাহস পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় জয়ী হওয়ার রয়েছে উপায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 06:49 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

কর্মক্ষেত্রে বসের কোনো একটি পরিকল্পনা আপনার কাছে চরম ভুল মনে হচ্ছে, বা পারিবারিক কোনো বড় সিদ্ধান্তে প্রিয়জনের নেওয়া পদক্ষেপটি নিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে অধিকাংশই দ্বিধায় পড়ে যান— হয় তারা সম্পর্কের অবনতি বা দলছুট হওয়ার ভয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন, অথবা এমনভাবে তর্কে জড়ান যা পারস্পরিক বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়।

তবে আচরণ বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিজের অবস্থান বা মতামতকে বিন্দুমাত্র ছোট না করেও অত্যন্ত সুনিপুণভাবে অন্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা এবং তর্কে জয়ী হওয়া সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাকসেসফুল ডিসঅ্যাগ্রিমেন্ট’ বা সফল দ্বিমত পোষণের শিল্প।

মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক পোর্টাল ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ল্যারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের লিডারশিপ ও অর্গানাইজেশনাল সাইকোলজির অধ্যাপক ড. রোনাল্ড ই. রিজিও বলেন, “সেরা সম্পর্ক এবং সফল টিমগুলো কখনই অন্ধ আনুগত্যে চলে না; বরং যেখানে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে নিরাপদে দ্বিমত প্রকাশ করা যায়, সেখানেই প্রকৃত সুখ ও সাফল্য আসে।”

সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে তর্কে জেতার কৌশল

ড. রিজিও বলেন, তর্কের মূল উদ্দেশ্য কাউকে ভুল প্রমাণ করা নয়, বরং অপর পক্ষ যেন আপনার বার্তাটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে সেই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি করা।”

‘আমি’ বা ‘আমার’ বলা বা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহার: দ্বিমত পোষণের সময় কখনও অপর পক্ষকে সরাসরি সংশোধন বা আক্রমণ করা যাবে না। কথা বলতে হবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, যা কথোপকথনকে কোনো অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করায় না। যেমন বলা যায়, ‘আমার মনে হয় এই জায়গাতে সমস্যা আছে।’

অন্যের মতামতের প্রাথমিক স্বীকৃতি দেওয়া: নিজের ভিন্ন যুক্তিটি টেবিলে উপস্থাপন করার ঠিক আগে সামনের মানুষের ধারণার শক্ত দিকগুলোর প্রশংসা বা তাকে ‘ভ্যালিডেশন’ বা স্বীকৃতি দিতে হবে।

মনোবিজ্ঞানের নিয়মে মানুষ যখন নিজে সম্মানিত বোধ করে, তখন তার মস্তিস্ক অন্যের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত বা সচল হয়।

স্পষ্ট প্রশ্ন বা ব্যাখ্যা চাওয়া: সরাসরি ‘আপনার পরিকল্পনা ভুল’, না বলে এমন কিছু বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন ছুড়ে দিতে হবে, যা অপর পক্ষকে নিজের পরিকল্পনাটি নিয়ে পুনরায় অবচেতনে ভাবতে বাধ্য করে।

এটি প্রমাণ করে যে, আপনি তর্কে প্রতিরোধ করছেন না, বরং বিষয়ে গভীরভাবে যুক্ত আছেন।

বাস্তব তথ্য নির্ভর বর্ম ব্যবহার: মুখের কথার চেয়ে তর্কের টেবিলে বাস্তব পরিসংখ্যান, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা নিখুঁত ডেটা বা তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি।

এটি মানুষের অহং বা ‘ইগো’র লড়াই থামিয়ে পুরো বিষয়টিকে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রামাণ্য করে তোলে।

কার্যকর বিকল্পের প্রস্তাবনা: শুধু কারও পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে মানুষ অবচেতনে ‘ডিফেন্সিভ’ বা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

এর পরিবর্তে সেই ভুলের বিকল্প বা একটি সাশ্রয়ী পদ্ধতি সামনে রাখলে, মস্তিস্ক সেটিকে একটি সমাধান হিসেবে লুফে নেয়।

কণ্ঠস্বর ও গলার ওঠা-নামা শান্ত রাখা: তর্কের সময় শব্দের ওজনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, বলার ভঙ্গি।

একটি মেদহীন, শান্ত ও ধীর কণ্ঠস্বর একই সঙ্গে আপনার আত্মবিশ্বাস ও প্রতিপক্ষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নির্দেশ করে, যা মস্তিস্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’ বা পুরষ্কার প্রাপ্তির অংশকে শান্ত রাখে।

চূড়ান্ত ও সাধারণ লক্ষ্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া: আলোচনার এক পর্যায়ে সবাইকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, ভিন্ন পথ হলেও সবার অন্তিম উদ্দেশ্য কিন্তু একই।

যখন বোঝানো যায় সবার উদ্দেশ্য এক, তখন তর্কের লড়াই মুহূর্তেই একটি ‘শেয়ার্ড প্রবলেম’ বা যৌথ উদ্যোগে রূপান্তর করে দুপক্ষের জন্যই জয়ী হওয়ার পরিস্থিতি এনে দেয়।

আরও পড়ুন

ঝগড়ার পর যা করা যাবে না

ঝগড়ার মাঝে যে কথা বলা মানা

সহকর্মীর সঙ্গে ঝগড়া মেটানোর উপায়

সবসময় ঝগড়া বাধানোর কারণ