২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চশমা দীর্ঘদিন ভালো রাখতে

চশমা পরিষ্কার করার নিয়ম না মানলে ফ্রেম ও কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2026, 02:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:37 PM

চশমা শুধু দৃষ্টিশক্তির সহায়ক নয়, অনেকের জন্য এটি প্রতিদিনের জীবনেরই অংশ। তবে সামান্য অসতর্কতায় চশমার কাচে দাগ পড়া, স্ক্র্যাচ হওয়া, পাওয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা ফ্রেম ঢিলে হয়ে চশমার মেয়াদ কমে যায়।

সঠিক যত্ন নিলে চশমা দীর্ঘদিন ঝকঝকে ও ব্যবহারযোগ্য থাকতে পারে।

নিয়মিত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস

চশমার কাচ পরিষ্কার না রাখলে ধুলা-ময়লা জমে দৃষ্টিতে ঝাপসা-ভাব আসে এবং কাচে স্থায়ী দাগ পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

“প্রতিদিন ব্যবহার শেষে কাচে জমে থাকা ধুলো বা তেলতেলে দাগ হালকা পানিতে ধুয়ে নেওয়াই ভালো”- পরামর্শ দেন ‘চশমা বিপণি ফোর সাইট ভিশন’য়ের ব্যবস্থাপক সাঈদ হাসান।

তিনি বলেন, “পরিষ্কার করার সময় কাচের ওপর সরাসরি ঘষাঘষি না করে প্রথমে পানি দিয়ে ধুলা ধুয়ে নেওয়া জরুরি। এতে শক্ত কণা কাচের ওপর ঘষা লেগে স্ক্র্যাচ তৈরি করতে পারে না।"

সঠিক কাপড় ব্যবহার করা জরুরি

অনেকেই শার্টের আঁচল, রুমাল বা টিস্যু দিয়ে চশমা মুছে থাকেন। এতে কাচ পরিষ্কার হলেও অজান্তেই সূক্ষ্ম আঁচড় পড়ে যেতে পারে।

“চশমার সঙ্গে যে নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় দেওয়া থাকে, সেটি দিয়েই কাচ মুছলে ঝুঁকি কমে।” – মন্তব্য করেন সাঈদ হাসান।

তবে কাপড়টি নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখাও জরুরি, কারণ নোংরা কাপড়ে জমে থাকা কণা কাচে দাগ ফেলতে পারে।

পানির দাগ থেকে বাঁচার উপায়

চশমা ধোয়ার পর অনেক সময় কাচে পানির দাগ পড়ে যায়, যা পরে পরিষ্কার করলেও সহজে ওঠে না। এ সমস্যা এড়াতে ধোয়ার পর কাচ ঝরঝরে করে মুছে নেওয়া উচিত।

আর বাতাসে শুকাতে দিলে পানির ফোঁটার দাগ কাচে বসে যেতে পারে। প্রয়োজনে হালকা সাবান বা চশমা পরিষ্কারের তরল ব্যবহার করা যায়, তবে শক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়।

স্ক্র্যাচ হওয়া রোধে সতর্কতা

চশমার কাচে স্ক্র্যাচ পড়লে দৃষ্টিতে বিরক্তিকর প্রভাব পড়ে, যা চোখের জন্য ভালো নয়। তাই চশমা খোলা অবস্থায় কখনই উল্টো করে রাখা উচিত নয়, যাতে কাচের অংশ নিচের দিকে না লাগে।

টেবিল বা যে কোনো শক্ত জায়গায় রাখার সময়, কাচের অংশ ওপরের দিক করে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

পাশাপাশি পকেটে বা ব্যাগে ঢোকানোর সময় খোলা অবস্থায় না রেখে অবশ্যই কেস ব্যবহার করা ভালো।

পাওয়ার নষ্ট হওয়া ঠেকাতে যা করবেন

চশমার পাওয়ার সাধারণত নষ্ট হয় কাচের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে বা ফ্রেম বেঁকে গেলে।

সাঈদ হাসান বলেন, “এক হাতে চশমা খোলা বা পরার অভ্যাস ফ্রেমের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ধীরে ধীরে কাচের অবস্থান বদলে দিতে পারে। দুই হাত ব্যবহার করে চশমা পরা ও খোলার অভ্যাস করলে এই সমস্যা কমে।”

এছাড়া নিয়মিত চশমার দোকানে ফ্রেম ঠিক করিয়ে নিলে পাওয়ার ঠিক থাকে।

তাপ থেকে চশমা দূরে রাখুন

অতিরিক্ত গরমে চশমার কাচ ও ফ্রেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে, চুলার পাশে বা সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় চশমা রেখে দিলে কাচের প্রলেপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এতে অ্যান্টি-রিফ্লেকশন বা অ্যান্টি-স্ক্র্যাচ স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে, জানান এই চশমা বিক্রেতা।

রাসায়নিক পদার্থ থেকে সাবধান

পারফিউম, হেয়ার স্প্রে, ক্লিনিং স্প্রে বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি চশমার কাচে লাগলে প্রলেপ নষ্ট হতে পারে।

চশমা পরে এসব ব্যবহার করলে কাচে দাগ পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই আগে এসব পণ্য ব্যবহার করে পরে চশমা পরাই নিরাপদ।

নিয়মিত পরীক্ষা ও সমন্বয়

দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ফ্রেম ঢিলা হয়ে যাওয়া বা কাচের অবস্থান সরে যাওয়াটা স্বাভাবিক। এতে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যাও হতে পারে।

তাই কিছুদিন পরপর চশমা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে স্ক্রু টাইট করা বা নাকের প্যাড ঠিক করিয়ে নিলে চশমা আগের মতো আরামদায়ক থাকে।

চশমার কেস ব্যবহারের গুরুত্ব

অনেকেই কেস সঙ্গে রাখাকে ঝামেলা মনে করেন। তবে  এটি চশমা সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ উপায়।

শক্ত কভারযুক্ত কেসে রাখলে চাপ লাগা, ভেঙে যাওয়া কিংবা কাচে দাগ পড়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষ করে ব্যাগে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে চশমা রাখলে কেস ছাড়া রাখা উচিত নয়।

ব্যবহারভেদে আলাদা যত্ন

অফিসে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার করলে বা বাইরে বেশি চলাফেরা করলে চশমার ওপর চাপও বেশি পড়ে। তাই ব্যবহার অনুযায়ী যত্ন নেওয়া জরুরি।

বাইরে গেলে ধুলা ও ঘাম থেকে বাঁচাতে মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করা, আর ঘরে ফিরে কেসে তুলে রাখার অভ্যাস চশমার আয়ু বাড়ায়।

আরও পড়ুন

যেভাবে বুঝবেন চশমার প্র্রয়োজন

চশমার কাচে যেন দাগ না পড়ে

গোসলের সময় কনট্যাক্ট লেন্স পরা থাকলেই বিপদ

চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট