শুষ্ক ত্বকে এক রকম আবার তৈলাক্ত ত্বকে অন্য রকম বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে হয়।
Published : 24 May 2023, 06:11 PM
‘আমার ত্বক স্বাভাবিক, এর যত্ন নিতে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না, কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে কিছুটা তৈলাক্ত হয়ে যায়’- এমনটা আমরা অনেকের মুখেই শুনি। এর প্রধান কারণ হল ঋতু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তন।
পরিবর্তিত ঋতু ও আবহাওয়ার কারণে ত্বকের যত্নে শীতকালের প্রসাধনী বসন্ত বা গরমকালে ব্যবহার করা যায় না।
কানাডার টরন্টো নিবাসী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং ‘ফ্যাসেট ডার্মাটোলজি’র প্রতিষ্ঠাতা গীতা যাদভ গরমকালে ত্বকের ভালো রাখতে ধরন অনুযায়ী বডি ওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
স্বাভাবিক ত্বক
স্বাভাবিক ত্বক বলতে বোঝায় এমন ত্বক যার উল্ল্যেখযোগ্য কোন সমস্যা নেই এবং ভারসাম্য বজায় থাকে।
ডা. যাদভ বলেন, “এক্ষেত্রে ত্বক সঠিক পরিমাণ সিবাম উৎপাদন করে। ফলে খুব বেশি তৈলাক্ত বা শুষ্ক হয়ে পড়ে না তখন তাকে স্বাভাবিক ত্বক বলা যেতে পারে।”
এই ধরনের ত্বকের অধিকারীরা প্রায় সব ধরনের বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
শুষ্ক ত্বক
ডা. যাদভ বলেন, “শুষ্ক ত্বকের বৈশিষ্ট্যই হল কম সিবাম উৎপাদন, যার মানে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই কম আর্দ্র থাকবে এবং আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।”
ঠাণ্ডা মাসগুলোতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেওয়া কঠিন। তবে গ্রীষ্মকালেও শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের আর্দ্রতা রক্ষাকারী ক্রিম বা তেল ভিত্তিক বডি ওয়াশ ব্যহারের পরামর্শ দেন তিনি।
তার কথায়, “যদিও অনেকেই এই সময়ে জেল বা ফোমিং ক্লেঞ্জারের দিকে ঝুঁকেন। তবে আমার মতে ময়েশ্চারাইজিং ফর্মুলার বডি ওয়াশ ব্যবহার করাই ভালো। সারা বছরই ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষাকারী উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে।”
তৈলাক্ত ত্বক
ডা. যাদভ বলেন, “তৈলাক্ত ত্বক গরমকালে আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। কারণ গরম আবহাওয়া আরও বেশি সিবাম উৎপাদনে সক্রিয় হয়ে ওঠে।”
ফলে ত্বক চিটচিটে, অনেক ক্ষেত্রে ময়লা ও জীবাণুর আবাসস্থল হয়ে উঠতে পারে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জেল বা ফোমিং প্রসাধনী ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
সংবেদনশীল ত্বক
সংবেদনশীল ত্বক হল ত্বকের আরেকটি ধরন যেখানে আর্দ্রতা সুরক্ষকের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। তাই স্বাভাবিকের তুলনায় এর বাড়তি পরিচর্যা ও প্রসাধনীর প্রয়োজন হয়।
ঘন ও ক্রিম ধরনের, সুগন্ধ মুক্ত এবং সেরামাইড সমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহারের পরামর্শ দেন ডা. যাদভ।
এতে আর্দ্রতার সুরক্ষার স্তর সুদৃঢ় থাকে। সংবেদনশীল ত্বকে জেল ও ফোম ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। এতে সংবেদনশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
ব্রণ প্রবণ ত্বক
ব্রণ প্রবণ ত্বকের অধিকারীদের জন্য গরমকাল মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যের নয়।
“গরম আবহাওয়া তেল উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে লোমকূপ আবদ্ধ হয়ে যায়। আর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ব্রেকআউট দেখা দেয়”, বলেন ডা যাদভ।
তেলের পাশাপাশি ঘাম ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধির জন্য চমৎকার পরিবেশ তৈরি করে। ফলে নিতম্ব, পিঠ ও বুকে ব্রণ দেখা দেয়।
ডা. যাদভ বলেন, “ব্রণ প্রবণ ত্বকের অধিকারীদের ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এমন সক্রিয় উপাদান সমৃদ্ধ জেল বা ফোমিং ক্লেঞ্জার ব্যবহার করা উচিত। আর ক্রিম ভিত্তিক প্রসাধনী থেকে দূরে থাকা উচিত। ক্রিমি ভিত্তিক প্রসাধনী ত্বকের ছিদ্রগুলোকে আবদ্ধ করে ব্রণ সৃষ্টি করে।”
একজিমা প্রবণ ত্বক
শুষ্ক ত্বকের মতো একজিমা প্রবণ ত্বকের আর্দ্রতার সুরক্ষক স্তর দুর্বল।
“একজিমা প্রবণ ত্বকের অধিকারীদের এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত যেন ‘লিপিড’ স্তর সুরক্ষিত থাকে এবং আর্দ্রতা হ্রাস পেতে না পারে”, বলেন ডা. যাদভ।
এক্ষেত্রে, তিনি ওটস সমৃদ্ধ ক্রিমধর্মী প্রসাধনী ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটা ত্বকের আর্দ্রতা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, “পরিষ্কারক উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা শুষে আরও বেশি রুক্ষ ও একজিমা প্রবণ করে তুলতে পারে। তাই এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো।”
আরও পড়ুন
দেহ পরিষ্কার করতে লুফা মোটেই নিরাপদ না