২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

গানে ও পাঠে বাংলার দুর্গা: লোকজ সুর থেকে মহালয়ার ভোর

লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

১৮৩০-১৮৪০ দশকে দুর্গাপূজায় কলকাতার এক ভবনে ইউরোপীয়দের আপ্যায়ন করছেন নর্তকী ও সংগীতশিল্পীরা, শিল্পী উইলিয়াম প্রিন্সেপ।

অনুরুদ্ধ গোস্বামী অনুরুদ্ধ গোস্বামী

Published : 21 Oct 2026, 01:43 PM

Updated : 21 Oct 2026, 01:44 PM

শরতের আকাশ মানেই অনাবিল শিহরন, বাতাসে শিউলি ফুলের সুবাস আর দূরের নীলিমায় ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা কাশফুলের ভেলা। পঞ্জিকার পাতার হিসাব ছাপিয়ে এই রূপ দেখামাত্রই বাঙালির মন অচেনা আনন্দে নুয়ে পড়ে, যার মূল সুর বাঁধা থাকে দুর্গাপূজার আবাহনে।

এই উৎসব শুধু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বা ধর্মীয় গণ্ডিবদ্ধ কোনো আচার-অনুষ্ঠান নয়; মূলত আবহমান বাংলার সর্বজনীন সাংস্কৃতিক স্পন্দন, যেখানে মিশে আছে মাটির গন্ধ, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন নাড়ির টান, আর হাসি-কান্নার মেলবন্ধন। ধর্মীয় পরিচয়ের সীমানা পেরিয়ে এই উৎসব হয়ে ওঠে সমগ্র বাঙালির প্রাণের উৎসব, যেখানে প্রতিটি মানুষ শরতের এই রূপের মাঝে খুঁজে পান আপন শেকড়কে।

এর কেন্দ্রবিন্দুতে যে দেবী দুর্গার অবস্থান, তার স্বরূপটি বড়ই আকর্ষণীয়। সংস্কৃত শাস্ত্র বা পুরাণের পাতা উল্টালে আমরা দেখি ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এক মহাজাগতিক শক্তির প্রতীক—যিনি ত্রিলোকের ত্রাস অসুরকুলকে বিনাশ করতে দশহাতে অস্ত্র ধারণ করে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। তিনি পরমাপ্রকৃতি, অশুভ শক্তির বিনাশকারী এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রক্ষাকর্ত্রী। কিন্তু বাংলার লোকমানস এই প্রমূর্ত ভয়ংকরী ও অলৌকিক সত্তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আদলে আপন করে নিয়েছে।

ঘরের চৌহদ্দিতে, লোকসংস্কৃতির আঙিনায় তিনি কোনো দূরের মহাশক্তিধর দেবতা নন; তিনি হয়ে ওঠেন আমাদেরই ঘরের মেয়ে ‘উমা’। হিমালয় ও মেনকার কৈলাসের কোল ছেড়ে যিনি প্রতি বছর শরৎকালে মর্ত্যের বাপের বাড়িতে আসেন কয়েকদিনের চ্যুতি বা ছুটির আনন্দে। ফলে দেবীর এই দ্বিবিধ রূপ—একদিকে বিশ্ববিধাত্রী মহাশক্তি এবং অন্যদিকে ঘরের বালিকাবধূ, বাংলার সংস্কৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য।

এই দ্বৈত রূপের প্রকাশ ঘটে নানা লোকছড়ায়, আগমনী ও বিজয়ার গানে, শাক্ত পদাবলীতে, চণ্ডীপাঠে এবং মহালয়ার সুপ্রভাতী অনুষ্ঠানে। রামপ্রসাদ সেনের মতো সাধকদের গানে আমরা যখন দেখি মেনকা আকুল হয়ে প্রতিজ্ঞা করছেন, “গিরি, এবার আমার উমা এলে, আর উমা পাঠাব না/ বলে বলবে লোকে মন্দ, কারো কথা শুনবো না,” তখন সেখানে কোনো শাস্ত্রীয় জটিলতা থাকে না। ফুটে ওঠে সাধারণ এক জননী বা মায়ের চিরন্তন বেদনা ও জেদ, যিনি কিছুতেই তার সন্তানকে দূরে পাঠাতে চান না।

মেনকা নিজেও জানেন এই আকুলতা বা প্রতিজ্ঞা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ পঞ্জিকার নিয়মে দশমী আসবেই এবং উমাকে বিদায় দিতে হবে স্বামীর ঘর কৈলাসে। আগমনীর এই আনন্দ আর বিজয়ার এই অন্তিম বিষাদের মধ্য দিয়েই বাংলার শরৎ তার নিজস্ব অনন্য সুর খুঁজে পায়।

এই পারিবারিক ও ঘরোয়া রূপটি কেমন করে বাংলার লোকজীবনের গভীরে শিকড় গেড়েছে, তা আমাদের বুঝতে সাহায্য করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার ‘লোকসাহিত্য’ গ্রন্থের ‘গ্রাম্যসাহিত্য’ প্রবন্ধে তিনি এক আলোচনার অবতারণা করে দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও চাওয়া-পাওয়া লোকছন্দের জাদুকরি ছোঁয়ায় উচ্চতর শিল্পরূপ পায়।

শ্রাবণের শেষে পাবনা-রাজশাহীর জলমগ্ন মাঠের ওপর দিয়ে নৌকায় ভ্রমণের সময় মাঝিদের সমবেত গান শুনে রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন যে, জীবনের যে দৈন্য বা অভাব গদ্যের সোজা ভাষায় বললে করুণ ঠেকত, ছন্দ ও সুরের আবরণে তা এক নান্দনিক সুষমায় মণ্ডিত হয়ে ওঠে। মানুষ তার প্রতিদিনের যান্ত্রিক বা কষ্টকর সংসারকে ছন্দে ও লয়ে সাজিয়ে একটু সুন্দর করে দেখতে চায়, আর লোকসাহিত্য হলো সেই সুন্দরেরই জীবন্ত দলিল।

রবীন্দ্রনাথ ছড়ার বিষয়বস্তুকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছিলেন—‘হরগৌরী’ ও ‘কৃষ্ণরাধা’। এর মধ্যে হরগৌরীর কাহিনিতে ফুটে ওঠে বাঙালির ঘরের কথা, আর কৃষ্ণরাধার কাহিনিতে থাকে বাঙালির ভাবের কথা বা মনস্তাত্ত্বিক আকুতি। হরগৌরীর সংসারে দেবদেবীরা কোনো দুর্গম ও রহস্যময় অলৌকিক জগতে বসে থাকেন না। বাঙালির মনোজগতে কৈলাস ও হিমালয় পর্বতমালা যেন ঠিক গ্রামের পাশের পানা-পুকুরের ঘাট কিংবা ঘরের পেছনের আমবাগানের কাছে এসে দাঁড়ায়।

সেখানে শিব হলেন অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ—উদাসীন কিংবা গেরুয়াধারী যোগী, আর উমা হলেন আদুরে মেয়ে। এই পরিচিত পরিবেশের কারণেই উমা আর কোনো দূরের দেবী থাকেন না, বরং তিনি হয়ে ওঠেন আমাদেরই পাড়ার বা ঘরের কোনো তরুণী মেয়ে, যিনি বাপের বাড়ির টানে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

গিরিরাজ হিমালয়কেও আমরা দেখি সম্পূর্ণ সাধারণ সংসারী বাঙালি পিতার চরিত্রে। সংসারের চালচিত্র বুঝতে বা কোনো কঠিন শোক-দুঃখ চট করে অনুভব করতে তার একটু যেন দেরিই হয়। মেনকার তিরস্কার ও অভিমান ভরা কথা শোনার পরেই কেবল তার ঘুম ভাঙে এবং তিনি মেয়েকে আনতে রওনা হন। সঙ্গে মেনকা স্নেহভরে পাঠান খাজা, মণ্ডা ও মনোহরের মতো সুস্বাদু মিষ্টি। কৈলাসে পৌঁছে মেয়ের সঙ্গে তার নানান বচসা বাধে, শিবের গেরুয়া জীবন ও দারিদ্র্য নিয়ে অভিমান জমে ওঠে, আর উমার চোখের জলে সেখানকার নন্দী-ভৃঙ্গী পর্যন্ত আকুল হয়ে পড়ে।

এই পৌরাণিক পরিবেশের ভেতর দিয়ে আসলে ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত পারিবারিক জীবনের নানা ছোটখাটো টানাপোড়েন, হাসিকান্না, রাগ-অভিমান এবং মানভঞ্জনের পালা। শিবের সঙ্গে উমার খুনসুটি, বাপের বাড়ি আসার আনন্দ এবং প্রস্থানকালে সিদ্ধির লাড়ু হাতে তুলে দিয়ে স্বামীকে নরম করার দৃশ্যগুলো কোনো দেবলোকের মহিমা প্রচার করে না; বরং তা আমাদের চিরচেনা সমাজচিত্রেরই প্রতিচ্ছবি।

আগমনী গানগুলোর পেছনে কাজ করে মনস্তাত্ত্বিক এক অপেক্ষা। মেনকার স্বপ্নে উমাকে দেখার যে লোকছড়া প্রচলিত আছে, তাকে আগমনী গানের ভূমিকা বলা চলে। আর কন্যাদানের সেই চিরন্তন বেদনার কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ মর্মস্পর্শী ভাষায় লিখেছিলেন যে, শরৎ-সপ্তমীর দিনে সমস্ত বঙ্গভূমির ভিখারি-বধূ কন্যা যেন মাতৃগৃহে আগমন করে, আর বিজয়ার দিনে সেই ভিখারি-ঘরের অন্নপূর্ণা যখন আবার স্বামীগৃহে ফিরে যায়, তখন সমস্ত বাংলাদেশের মানুষের চোখ জলে ভরে ওঠে।

পুরাণের বৃহৎ কাহিনি এখানে সহজ ও দৈনন্দিন ভাষা পেয়েছে। মা-বাবার কোল খালি করে মেয়ের চলে যাওয়া, দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা এবং সেই অপেক্ষার অন্তে মিলনের আনন্দ—এসব কোনো বিমূর্ত দর্শন নয়, বরং প্রতিটি মানুষের নিজস্ব জীবনের জীবন্ত অভিজ্ঞতা। এই গান ও ছড়াগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুখে মুখে ফিরেছে বলেই এগুলো কেবল কোনো ধর্মীয় উপাসনার অঙ্গ হয়ে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।

লোকজ ধারার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের জগতে শাক্ত পদাবলী দেবীবন্দনার সংগীতকে আধ্যাত্মিক মাত্রা দান করেছে। আগমনী ও বিজয়ার গান মূলত এই শাক্ত পদাবলীরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার অন্য ধারাটিতে মূর্ত হয়ে ওঠে পরম সত্তার সঙ্গে ভক্তের একান্ত নিবেদন। এই ধারায় রামপ্রসাদ সেন এবং কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের অবদান অতুলনীয়। সেখানে দেবীর সঙ্গে ভক্তের সম্পর্ক নিছক কোনো ভয়ের উপাসনা বা আনুষ্ঠানিক পূজা-প্রার্থনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। দেবী সেখানে হয়ে ওঠেন পরমাপ্রকৃতি জননী কিংবা আপনজন, যার কাছে ভক্ত তার সুখ-দুঃখ, সাংসারিক অভাব-অনটন এবং মনের সমস্ত গোপন দাবি অকপটে ও নির্ভয়ে জানাতে পারে।

এই বিভিন্ন ধারাগুলোর সুর ও মেজাজ একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও তারা একই নদীর ভিন্ন ভিন্ন স্রোতের মতো এক বিন্দুতে এসে মেলে। আগমনী গানের মূল সুরটি বাঁধা থাকে উমার আসার আনন্দ এবং পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার রোমাঞ্চে। বিজয়ার গান মানেই বুকফাটা কান্না, চোখের জল এবং এক অদ্ভুত বিষাদ, যা প্রিয়জনের বিদায়লগ্নে প্রতিটি মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়।

আর ভক্তিপর্যায়ের পদাবলীগুলো মানুষের মনকে নিয়ে যায় এক শান্ত ও ধীর আত্মোপলব্ধির জগতে, যেখানে ভক্ত ও ভগবানের মধ্যকার ব্যবধান ঘুচে যায়। এই বৈচিত্র্যময় সুরের জন্যই বাংলার দুর্গোৎসব কেবল আনন্দ বা উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং আনন্দের সঙ্গে বিষাদের সূক্ষ্ম ও সুন্দর অনুভূতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে এই সমস্ত ঘরোয়া ও পারিবারিক আবেগের পাশাপাশি দুর্গাপূজার আরেকটি শক্তিশালী ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ‘চণ্ডীপাঠ’। ‘দেবীমাহাত্ম্য’ নামে পরিচিত এই সংস্কৃত আখ্যানটি মূলত হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান পবিত্র গ্রন্থ ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণের’ একটি অংশবিশেষ। এই অংশের মূল বিষয়বস্তু হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবীর সংঘাত, মহিষাসুরসহ বিভিন্ন দানবদের বধ এবং ধর্মের ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা।

আগমনী গানে যিনি আমাদের ঘরের আদুরে মেয়ে উমা, চণ্ডীপাঠে তিনিই আবার মহাশক্তি মহিষাসুরমর্দিনী—যিনি সমগ্র বিশ্বের রক্ষাকর্ত্রী এবং অশুভের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। এর মাধ্যমে দুর্গোৎসবে ভারসাম্য রক্ষিত হয়। পারিবারিক ও ঘরোয়া আবেগের পাশাপাশি সেখানে সমানভাবে জায়গা পায় শক্তি, সাহস, সংগ্রাম এবং বিজয়ের বীরত্বপূর্ণ আখ্যান, যা মানুষকে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

বহু বছর ধরে এই আখ্যান শ্রোতাকুলের কাছে নিভৃতে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করেছে আকাশবাণী কলকাতার মহালয়া-অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। চণ্ডীর নির্বাচিত স্তোত্র, সুরসমৃদ্ধ গান এবং নাটকীয় আবহসংগীতের মিশ্রণে দেবীর আবির্ভাব ও অসুরবধের কাহিনি সেখানে এক অপূর্ব শ্রবণ-অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই পুরো অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাণীকুমারের রচনাশৈলী, পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সংগীত পরিচালনা এবং সবচেয়ে বড় কথা, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বর। মহালয়ার ভোরে ঘুমজাগানিয়া কণ্ঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই গম্ভীর ও প্রাণস্পর্শী চণ্ডীপাঠ বহু প্রজন্মের বাঙালির কাছে শরতের আগমন বার্তার আনন্দের প্রতীক।

মহালয়ার সেই ভোরে অন্ধকার চিরে বেতারযন্ত্রের সুবাদে যখন চণ্ডীপাঠের ধ্বনি ভেসে আসে, তখন পূজার প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও প্রতিটি মানুষের মনে উৎসবের আমেজ জেগে ওঠে। স্তোত্রোপাঠের গাম্ভীর্য, শাঁখের আওয়াজ এবং আবহসংগীতের মূর্ছনা মিলে অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করে, যা শ্রোতার কল্পনায় দেবীর আগমনকে জীবন্ত করে তোলে। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলার সব মানুষ এই সুরের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকেন।

মহালয়ার সেই ভোরের আলো ফোটার পর থেকে শুরু করে বিজয়া দশমীর বিষাদময় পর্যন্ত সময়টুকুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় উৎসবের দিনগুলো। তারপর দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উমা ফিরে যান তার স্বামীর ঘরে, কৈলাসের শিখরে। বিসর্জনের সেই জলে ভেজা প্রতিমা আর ঢাকের বিদায়ি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে আসে, মনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কিন্তু এই বিদায়ের অর্থ এই নয় যে উৎসবের চিরতরে সমাপ্তি ঘটল। বাঙালির মন জানে যে এই বিষাদ কোনো স্থায়ী সমাপ্তি নয়, বরং এটি আগামী বছরের এক নতুন প্রতীক্ষার সূচনা মাত্র।