০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ডেসপিকেবল মি!

সিনেমা! কথাটা শুনলেই কয়েকটা শব্দ এমনিতেই মাথায় চলে আসে। এই যেমন- নায়ক, নায়িকা, ভিলেন ইত্যাদি। কিন্তু আজকে তোমাদেরকে এমন একটা মুভির কথা বলব যার গল্পে কোনোই নায়ক নেই। আছে শুধুই ভিলেন। আর সেই ভিলেনও আবার ছোটখাট কোনো চোর-ছ্যাচ্চড় নয়, একেবারে বিশাল মাপের চোর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

>> সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2014, 02:11 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:19 PM

এই ভিলেনের একমাত্র কাজই হল দেশ-বিদেশে চুরি করে বেড়ানো। তাও আবার যে সে জিনিস না। আইফেল টাওয়ার আর পিরামিডের মতো বড় জিনিসই কেবল চুরি করে সে। এক কথায় বলা যায় পৃথিবীর চোরদের রাজা সে। এই মস্ত-বড় ভিলেনের নাম হচ্ছে ‘গ্রু’। আপন বলতে এক বুড়ি মা ছাড়া আর কেউ নেই তার। থাকবেই বা কী করে? নিজেকে ছাড়া ও যে আর কাউকে ভালোইবাসে না!

বড়দের কথা না হয় বাদই দিলাম। ও এমনকি তোমাদের মতন মিষ্টি মিষ্টি ছেলে-মেয়েদেরকেও সহ্য করতে পারে না। একা একাই নিজের কাজ নিয়ে বেশ চলছিল গ্রুর জীবন। কিন্তু হঠাৎ এ কী হল! এক সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি খুলেই চরম একটা খারাপ খবর পেল গ্রু। কে যেন মিশরের বড় গিজা নামের পিরামিডটাকে চুরি করে নিয়ে গেছে। সবাই ভাবছে এই অকাজটা বুঝি গ্রু-ই করেছে।

গ্রু কিন্তু মোটেই এ কাজ করেনি। এমনকি ব্যাপারটা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে নতুন কোনো চোর এসে তার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে পিরামিড চুরি করে নিয়ে যাবে। চুরির কথাটা জানার পর খুব রেগে গেল গ্রু। কিন্তু রাগলে হবে কী? রাগার সময় কি তখন আর আছে? পৃথিবীর সবচাইতে বড় চোরের সুনামটা যে গ্রু এর হাতছাড়া হয়ে যেতে বসেছে।

নিজের সুনাম ফিরিয়ে আনতে নতুন কিছু চুরি করার কথা ভাবল গ্রু। নতুন আর বড় কিছু, যার কথা আর কারও মাথাতেই আসবে না। বিশেষ করে নতুন চোরটার তো না-ই।

বন্ধু ড: নেফারিওর সাহায্যে গ্রু পরিকল্পনা করল, ও এবার চাঁদটাকে চুরি করে আনবে আকাশ থেকে। সেই ছোট্টবেলা থেকে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে ছিল গ্রুর। ইচ্ছে ছিল চাঁদে যাবার। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে আর নিজের সুনাম ফিরিয়ে আনতে চাঁদকে চুরি করতে নামল। অত বড় চাঁদ চুরি করা কী আর সোজা কথা? চুরি করে রাখবেই বা কোথায়? তাই ঠিক করা হল প্রথমে বড় জিনিসকে ছোট করার যন্ত্র বানাবে সে। চাঁদকে ছোট করে তারপর সেটাকে চুরি করবে। আরও একটা ব্যাপার ও চিন্তা করল, চাঁদ চুরি করতে তো অনেক টাকার দরকার ।

টাকার সন্ধানে গ্রু গেল ‘ব্যাঙ্ক অব এভিল’ বা শয়তানের ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মি: পারকিন্সের কাছে। অনেক বোঝাল সে পারকিন্সকে। কিন্তু কোনোমতেই রাজি হলেন না পারকিন্স। তার একটাই কথা, প্রথমে বড় জিনিসকে ছোট করার যন্ত্রটা বানিয়ে দেখাতে হবে তাকে। তারপর তিনি টাকা দেবার কথা ভেবে দেখবেন। গ্রু যন্ত্র বানানোর জন্য তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গেল মি: পারকিন্সের অফিস থেকে। যাবার সময় তার দেখা হল আরেক তরুণ চোর ভেক্টরের সঙ্গে। বিরক্তিকর ব্যবহারের জন্য ভেক্টরকে যাওয়ার আগে নিজের যন্ত্রের মাধ্যমে জমিয়ে দিয়ে গেল গ্রু।

এবার গোপন একটা জায়গায় যন্ত্রটা বানানো শুরু করল গ্রু। কিন্তু সমস্যা বাঁধল তার পরপরই। ব্যাংকে গ্রুর ব্যবহারে বেশ রাগ হয়েছিল ভেক্টরের। তাই গ্রুর যন্ত্র তৈরি হতে না হতেই সেটাকে নিয়ে পালিয়ে গেল সে।

চুপি চুপি বলে রাখছি, এই ভেক্টরই কিন্তু অনেকদিন আগে সেই পিরামিড চুরি করেছিল। যাই হোক, এত কষ্ট করে বড় জিনিসকে ছোট করার যন্ত্রটা বানানোর পর সেটাকে হাতছাড়া হতে দেখে বেশ রেগে গেল গ্রু। ভেক্টরের বাড়িতে গিয়ে হানা দিল সে যন্ত্রটা ছিনিয়ে আনতে।কিন্তু ভেক্টরের বাড়ির চারপাশে এত কড়া পাহারা ছিল যে গ্রু বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই পারল না।

সব চেষ্টা যখন বিফল হল, গ্রু তখন অপেক্ষা করতে লাগল ভেক্টরের বাড়িতে ঢোকার কোনো উপায় পাওয়া যায় কিনা সে আশায়। সুযোগ পেয়েও গেল খুব তাড়াতাড়িই। তরুণ ভেক্টরের খুব পছন্দের খাবার ছিল কুকি।

মার্গো, এডিথ আর অ্যাগনেস। এতিমখানায় থাকা তিনবোন। বাবা-মাকে হারিয়ে ছোটবেলা থেকে এতিমখানায় থাকত ওরা। প্রতিদিন নিয়ম করে বের হতে হত ওদের হাতে বানানো কুকি বেচতে। দিনশেষে কুকি বেচার টাকাগুলো তুলে দিতে হত মিস হেট্টির হাতে। নাহলে শাস্তি দিত ওদের হেট্টি। সেদিন সকালেও আর সব দিনের মতন কুকি বেচতে বেরিয়েছিল ওরা তিন বোন। কিন্তু কী ভাগ্য, ঘুরতে ঘুরতে ঠিক হাজির হল ওরা ভেক্টরের বাড়ির সামনে। কুকি দেখে তো একদমই লোভ সামলাতে পারল না ভেক্টর। ঢুকতে দিল ওদেরকে বাড়ির ভেতরে। সব কুকি বেচে ভেক্টরের বাড়ি থেকে বেরিয়েও এলো মেয়েরা। কিন্তু বেরোনোর সময়ই ওরা চোখে পড়ে গেল গ্রুর। এই মেয়েদের সাহায্যেই তো ভেক্টরের বাড়িতে ঢোকা যায়! ভাবল সে।

নকল দাঁতের ডাক্তার সেজে মিস হেট্টির ওখান থেকে নিয়ে এলো সে মার্গো, এডিথ আর অ্যাগনেসকে। নিজেদের নতুন বাড়িতে যাবে, সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে ভেবে প্রথমে খুব খুশি হয়েছিল তিন বোন।

কিন্তু ওদের কপাল খারাপ। গ্রু তো বাচ্চাদের একদমই পছন্দ করত না। খুব কড়াকড়ির মধ্যে থাকা শুরু হল মেয়েদের। তবে এরমধ্যেই ওদের তিনজনের ভাব হয়ে গেল মিনিয়নদের সঙ্গে। মিনিয়ন, গ্রুর নিজস্ব অদ্ভুত প্রাণীর বিশাল এক দল। ধীরে ধীরে গ্রুর সব গোপন গবেষণাগারেও ঘোরাঘুরি করতে শুরু করল ওরা।

মেয়েদের ওপর বেশ বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বলতে পারছিল না গ্রু। কারণ ওদেরকেই তো ওর এখন সবচাইতে বেশি দরকার। ভেক্টরের বাড়ি থেকে ছোট করার যন্ত্রটা তো ওরাই এনে দেবে ওকে। আর হ্যাঁ! সত্যি একদিন গ্রুকে ওরা এনেও দিল ওর চুরি হয়ে যাওয়া যন্ত্রটা। এরপর গ্রু ভাবতে লাগল কি করে রেহাই পাওয়া যায় মার্গো, এডিথ আর অ্যাগনেসের কাছ থেকে।

গ্রু একদিন মেলায় নিয়ে গেল মেয়েদের। ভাবল, মেলার ভেতরে একসময় ওদেরকে রেখে দিয়ে আস্তে করে বাসায় চলে আসবে সে। কিন্তু সে গুড়ে বালি! মেয়েদেরকে রেখে তো আসা গেলই না, বরং ওদেরকে খুব ভালোবেসে ফেলল গ্রু মেলার ভেতরে। বাড়ি ফিরে মি: পারকিন্সকে জানালো গ্রু, যন্ত্রটা সে বানাতে পেরেছে।

কিন্তু মি: পারকিন্স সোজা বলে দিলেন যে চাঁদ চুরি করার জন্য একটা টাকাও দেবেন না তিনি। আসলে ভেক্টর ছিল মি: পারকিন্সেরই ছেলে। নিজের ছেলেকে দিয়েই চাঁদ চুরি করাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গ্রু চাঁদকে ছোট করার যন্ত্রটা চুরি করায় তার সব আশা ভেঙে গিয়েছিল। খুব রেগে গিয়েছিলেন তিনি।

পারকিন্সের কথা শুনে খুব মন খারাপ হল গ্রুর। এবার কী হবে? টাকা না থাকলে কী করে চাঁদ চুরি করবে সে? গ্রুর কষ্ট দেখে এগিয়ে এল মার্গো, এডিথ আর অ্যাগনেস। ওদের নিজেদের জমানো অল্প টাকাগুলো দিয়ে দিল ওরা গ্রুকে। মিনিয়নরাও ওদের সব টাকা-পয়সা দিয়ে দিল গ্রুকে। সবার এত ভালোবাসা দেখে খুব ভালো লাগল গ্রুর। আবার সে ঝাঁপিয়ে পড়ল চাঁদকে চুরি করার অভিযানে।

দেখতে দেখতে সবকিছু ঠিক হয়ে গেল। এমনকি চাঁদকে চুরি করার দিনক্ষণও ঠিক হয়ে গেল। কিন্তু সমস্যা বাঁধল অন্য জায়গায়। যেদিন গ্রুর চাঁদ চুরি করার কথা, সেদিনই আবার মেয়েদের নাচের প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা । ওদিকে গ্রুর তো মনেই ছিল না মেয়েদের নাচের অনুষ্ঠানের কথা। সে মহানন্দে ছুটে গেল মহাকাশে চাঁদটাকে টুক করে পেড়ে আনতে। আর পেড়ে সে আনলও। এসেই সে সরাসরি চলে এলো মেয়েদের নাচের অনুষ্ঠানে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মেয়েদের নাচ শেষ। মন খারাপ করে চলে যাচ্ছিল গ্রু। এমন সময় একটা চেয়ারের পেছনে একটা চিঠি দেখতে পেল ও।

ভেক্টরের লেখা চিঠি। মেয়েদেরকে তুলে নিয়ে গেছে ভেক্টর। চাঁদ চাইছে সে! চাঁদ তাকে দিয়ে দিলে তবেই সে ছেড়ে দেবে মেয়েদের। কী হবে এরপর? মেয়েদের ফিরে পেতে সত্যিই কি এতদিনের চেষ্টা আর কষ্টে পাওয়া চাঁদটাকে ভেক্টরের হাতে তুলে দেবে গ্রু? ভেক্টর চাঁদটা হাতে পেলেই বা কী করবে? লুকিয়ে রাখবে সবসময়? আর কি আকাশে চাঁদকে দেখতে পাওয়া যাবে না? এরপর কী হল জানতে দেখ ইউনিভার্সাল পিকচার্সের বানানো অ্যানিমেটেড ছবি ডেসপিকেবল মি। পেরি কফিন আর ক্রিস রিনাউডের পরিচালনায় তৈরি হওয়া এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১০ এর ৯ জুলাইয়ে। কী হল? খুব জানতে ইচ্ছে করছে পুরো ছবিটার গল্প? তবে দেরী করছ কেন? মাকে বলে এখুনি খানিকটা সময় চেয়ে নাও আর দেখে ফেল মিনিয়ন, গ্রু আর তিন বোনের গল্প নিয়ে বানানো মুভি ডেসপিকেবল মি।