০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ছেলেবেলার সেইসব ছড়া

ছড়াকার ওবায়দুল গনি চন্দন ছিলেন কিডজ-এর নিয়মিত লেখক। বিভিন্ন সময়েই তিনি তোমাদের জন্য মজার মজার ছড়া উপহার দিয়েছেন। তোমাদের জন্য সর্বমোট ২২টি বই লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে ছড়ার বই যেমন আছে, তেমনই আছে নানা কাহিনিমূলক বইও। ওবায়দুল গনি চন্দন ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ছোটবেলায় পড়া পৃথিবী বিখ্যাত ছড়ার অনেক নেপথ্য কাহিনি লিখেছেন ওবায়দুল গনি চন্দন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই লেখাটি পুনর্মূদ্রন করা হল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

>> ওবায়দুল গনি চন্দন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2014, 05:11 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:20 PM

টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার

‘টুইংকল টুইংকল লিটল স্টার’ বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় ছড়া। সবে কথা বলতে শুরু করেছে এমন বাচ্চাদের মুখেও শোনা যায় এ ছড়াটি। ছোটদের কল্পনার জগৎকে আরও রঙিন করে দিতে ছড়াটির জুড়ি নেই। আপনাদের সবার ছড়াটি আদ্যোপান্ত মুখস্থ থাকলেও অনেকেই হয়ত জানো না, ছড়াটি কে লিখেছেন।

ইংরেজি ছড়াটির জন্মভূমি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের অ্যান টেইলর এবং তার বোন জেন টেইলর দুজন মিলে এই ছড়াটি লেখেন।

১৮০৬ সালে ছড়াটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে ইংরেজি ছড়াটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাই পরবর্তীতে এই ছড়াটির অনুকরণে আরও অনেক ছড়া লেখেন অন্য ছড়াকাররা। মূল ছড়াটিতে ২০ লাইনের মোট পাঁচটি পঙক্তি থাকলেও প্রথম চার লাইনই সবার কাছে বেশি পরিচিত এবং পঠিত। মূল ইংরেজি ছড়াটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য স্টার।’

মেরি হ্যাড আ লিটল ল্যাম্ব

দেড় শতকেরও বেশি সময় আগে ১৮৩০ সালের ২৪ মে  ‘মেরি হ্যাড আ লিটল ল্যাম্ব’ নার্সারি রাইম বা ছড়াটি প্রকাশ করেন সারাহ জোসেফা হাল। তিনি একটি সত্য ঘটনার জের ধরে এই ছড়াটি রচনা করতে উৎসাহী হন বলে ধারণা করা হয়।

সে সময় মেরি সয়্যার নামে এক বালিকার একটি পোষা মেষ বা ভেড়া ছিল। সে তার ভাইয়ের কথাতে একদিন সেটাকে স্কুলে নিয়ে যায়। মেষ দেখে স্কুলে ছোটখাটো হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। অবস্থা দেখে স্কুল অফিসে মেরিকে ডেকে পাঠানো হয়। সে সময় নিয়ম অনুযায়ী কলেজের ছাত্ররা ধর্মযাজকের সঙ্গে থেকে পড়ালেখা করত। মেরি যেদিন ভেড়াটিকে স্কুলে নিয়ে যায়, সেদিনই জন রোলস্টোন নামে ও রকম এক কলেজছাত্র স্কুল পরিদর্শনে এসেছিল। স্কুলে মেরির ভেড়া আনার বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করে।

পরদিন ঘোড়ার পিঠে চড়ে স্কুলে এসে মেরির হাতে এক টুকরো কাগজ ধরিয়ে দেয়, যেখানে এই রাইমের প্রথম তিন লাইন লেখা ছিল।

অনেকে মনে করেন, পুরো কবিতাটিই কাল্পনিক। এটি যিশুকে কল্পনা করে লেখা হয়েছে। এখানে মেরির ভেড়া হচ্ছে যিশু। এর সাদা পশম দ্বারা যিশুর পবিত্রতাকে বোঝানো হয়েছে। কবিতাটির উৎস সম্পর্কে দুই ধরনের মতো প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, সারাহই প্রথম এ কবিতাটি রচনা করেন। আবার অনেকের ধারণা, রোলস্টোন কবিতাটির প্রথম চার লাইন ও শেষবার লাইন রচনা করেন। টমাস আলভা এডিসন তার আবিষ্কৃত ফনোগ্রাফে যে কথাগুলো প্রথম রেকর্ড করেন সেটা হল, এই ছড়ার কয়েকটি লাইন। পুরো ঘটনাটি যে স্কুলে ঘটেছে সে স্কুলটির নাম রেডস্টোন স্কুল।

এটি ১৭৯৮ সালে নির্মিত হয়। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের স্টার্লিংয়ে স্কুলটি প্রথম স্থাপিত হয়। তবে তা স্থানান্তর করে সানবারিতে নেওয়া হয়।

থ্রি ব্লাইন্ড মাইস

তিনটা ইঁদুরের কাহিনি শুনে মনে হচ্ছে মজার কোনো ব্যাপার বুঝি। ভাবছেন তিনটা ইঁদুরের দৌড়াদৌড়ি দেখে এ ধরনের একটা রাইম মনে পড়েছে লেখকের।

আসলে কিন্তু মোটেও তা নয়। এর পেছনে অন্যরকম একটা ঘটনা আছে। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির মেয়ের নাম ছিল মেরি। তিনি পরে ইংল্যান্ডের রানি হন।

মেরি ছিলেন একজন ধর্মান্ধ ক্যাথলিক। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, খ্রিস্টান ধর্মের অনেক ভাগ রয়েছে। তার মধ্যে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট উল্লেখযোগ্য। এই দুই সম্প্রদায় পরস্পরকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না।

রানি প্রথম মেরি ক্যাথলিক হওয়ায় তিনিও প্রটেস্ট্যান্টদের মোটেও ভালো চোখে দেখতেন না। চরম অত্যাচার করতেন তিনি এই সম্প্রদায়ের উপর। রাইমটিতে রানি প্রথম মেরিকে কৃষকের স্ত্রী বলা হয়েছে। আর তিনটি অন্ধ ইঁদুর বলতে বোঝানো হয়েছে সে সময়ের তিন যাজককে। এই তিন বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন প্রটেস্ট্যান্ট যাজক। বিদ্বান এই তিন ব্যক্তি রানির অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই রানি তাদের কঠোর শাস্তি দেন। ছড়ায় যেমনটি অন্ধ ইঁদুরের কথা বলা হয়েছে তাতে মনে হতে পারে তাদেরও হয়ত অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ঠিক অন্ধ করে দেওয়া হয়নি। বরং তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।

দেয়ার ওয়াজ এন ওল্ড ওম্যান:

শিশুদের জন্য মজার এ ছড়াটির উৎস ইংল্যান্ডে। সেখানে জুতার ভেতরে বসবাসকারী এক মহিলার কথা ছড়াটিতে বলা হয়েছে। জুতার আকৃতির একটা বাড়িতে বসবাস এবং সেখানে তার অনেক সন্তানদের নিয়ে এক মহিলার জীবনকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই রাইমটির উৎস সম্পর্কে দুই ধরনের কথা প্রচলিত আছে। সেগুলো অনেকটা এ রকম। প্রথমটি রাজা ২য় জর্জের স্ত্রী রানি ক্যারোলিনকে নিয়ে, যার আট সন্তান ছিল।

তার অনেক সন্তান ছিল বলেই এ ছড়াটি তাকে নিয়ে লেখা বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় মত হচ্ছে, রাজা দ্বিতীয় জর্জ নাকি পুরুষদের মধ্যে প্রথম সাদা রংয়ের আলগা চুল ব্যবহার করতে শুরু করেন। সাদা নকল চুল ব্যবহারের কারণে তাকে আড়ালে অনেকে বৃদ্ধ মহিলা বা ওল্ড ওম্যান বলে সম্বোধন করতেন। ছড়ায় যে বাচ্চাকাচ্চাদের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হল তার রাজসভার সভ্য। আর বিছানা হল রাজসভা। ছড়ার মধ্যে হুইপ শব্দটা লক্ষ করার মতো। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সংসদে এই নামে একটি পদ আছে। হুইপের কাজ হল সাংসদদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।