২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
Published : 02 Apr 2025, 01:03 PM
অটিজম আক্রান্তদের আমাদের সমাজের অনেকেই অবহেলার চোখে দেখে থাকেন। কিন্ত, প্রকৃতপক্ষে অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, এটি এক ভিন্নধর্মী মানসিক বিকাশ।
সমাজে এই ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সচেতনতা ও একটু সহানুভূতি।
এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে, ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য ছিল মানুষকে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে জানানো এবং অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
২০০৮ সালে কার্যকর হওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত কনভেনশন (সিআরপিডি) এই প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। যে চুক্তিতে হয়েছে, অটিজম আক্রান্তসহ সব ব্যক্তির রয়েছে সমান মর্যাদা ও সুযোগ পাওয়ার অধিকার।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অটিজম হচ্ছে একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা সাধারণত শিশুর শৈশবে প্রকাশ পায়। এটি ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে এবং এটি কোনো জাত, ধর্ম বা অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না।
অটিস্টিক ব্যক্তিদের আচরণ ও সামাজিক মেলামেশার ধরন কিছুটা আলাদা হলেও, যথাযথ সহায়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেলে তারাও সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৫ সালের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য 'নিউরোডাইভারসিটির অগ্রগতি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিএস)'।
এই প্রতিপাদ্যটি মূলত অটিজমসহ স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে।
এবারের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার, অসাম্য হ্রাস, এবং অটিজমবান্ধব শহর ও সমাজ গঠনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জাতিসংঘ বলছে, এখনো অনেক দেশে অটিজম সম্পর্কে ভুল ধারণা আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক মানুষ জানেই না যে অটিস্টিক ব্যক্তিরা কীভাবে সমাজে অবদান রাখতে পারে। অনেক জায়গায় সঠিক চিকিৎসা বা শিক্ষার সুবিধাও নেই।
সংস্থাটি আশা করছে, তাদের সঙ্গে অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অটিজম-বান্ধব নীতিমালা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রসার সম্ভব হবে।
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস শুধুমাত্র একটি প্রতীকী দিবস নয়, এটি একটি মানবিক আন্দোলনের অংশ, যার উদ্দেশ্য হল—অটিস্টিক ব্যক্তিদের জীবনের মানোন্নয়ন ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: ঢাকা।