ফ্যাটি লিভার চিকিৎসায় চিরতার ক্যাপসুলের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

চিরতার উপাদান অ্যান্ডোগাফোলাইড ফ্যাটি লিভারে ভালো কাজ করে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Jan 2023, 03:16 PM
Updated : 18 Jan 2023, 03:16 PM

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় চিরতার (কালোমেঘ) পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা ৪০ জন রোগীকে চিরতার তৈরি ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

মানুষের যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলে। ফ্যাটি লিভারের কারণে যকৃত ও শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়।

বুধবার বিএসএমএমইউর ডা. মিল্টন হলে এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউর ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

তিনি বলেন, তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন, চিরতার একটি উপাদান অ্যান্ডোগাফোলাইড ফ্যাটি লিভারে ভালো কাজ করে। চিরতায় অ্যান্ডোগ্রাফোলাইড কি পরিমাণ আছে তা দেখা হয়েছে।

“আমরা দেখেছি ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় পাঁচটি বিষয়ে কালোমেঘ বা চিরতা কাজ করে। কতটুকু চিরতা দিলে কতটা অ্যান্ডোগ্রাফোলাইড থাকবে, সে হিসাব করে ৩৩০ মিলিগ্রামের ক্যাপসুল তৈরি করা হয়েছে। ক্যাপসুল তৈরি করেছে একটি ওষুধ কোম্পানি।”

তিনি জানান, ৪০ জন রোগীর মধ্যে প্রথম ২০ জনকে ৩৩০ মিলিগ্রামের তিনটি ক্যাপসুল দৈনিক তিনবার দেওয়া হবে। আর দ্বিতীয় দলে ২০ জনকে দেওয়া হবে দৈনিক দুইবার।

“রোগীরা বাসায় থেকে ওষুধ সেবন করবেন। তাদের নিয়মিত ফলোআপ করা হবে, আমরা টেলিফোনে তাদের খোঁজ রাখব। তারা হাসপাতালেও আসবেন। ৬ মাস পর তাদের পরীক্ষা করে প্রাথমিক ফলাফল দেখা হবে।”

অনুষ্ঠানে ডা. মো. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বিএসএমএমইউ এখন গবেষণায় জোর দিচ্ছে।

“কোভিডের সময় এখানে ভাইরাসটির ফুল জেনোম সিকোয়েন্সিং হয়েছে। গবেষণা বাজেটও ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রবর্তন করা হয়েছে ভাইস চ্যান্সেলর পদক।“

বিএসএমএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্সসের চিফ সায়েন্টিস্ট ড. গাজী নুরুন নাহার সুলতানা, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. জাকির সুলতান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এ হায়দার, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফয়েজ হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক রেজিনা আফরিন, রাজশাহী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. এনায়েত আলী প্রামানিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক