১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ই-সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে: প্রজ্ঞা

“তামাক কোম্পানিগুলো মূলত তরুণদের টার্গেট করেই নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যকে নিরাপদ বা কম ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করছে, যা মোটেও সত্য নয়।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 04:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

ই-সিগারেট, ভেপিংসহ অন্যান্য নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ দেওয়ায় তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।

এমন পরিস্থিতিতে তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ সব নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে তারা। 

রোববার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা বলেছে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন পাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে ই-সিগারেট, ভেপিং, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ দেওয়ায় তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। 

“তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো তামাকপণ্যকে নতুন রূপে, নতুন মোড়কে এবং আগ্রাসী প্রচারের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে বিশেষভাবে উপস্থাপন করছে। কোম্পানিগুলো মূলত তরুণদের টার্গেট করেই নতুন প্রজন্মের পণ্যকে নিরাপদ বা কম ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করছে, যা মোটেও সত্য নয়।”

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। 

প্রজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ কোটি মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে আহরিত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ সব নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

প্রজ্ঞা মনে করে, তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সবধরনের তামাকপণ্যের কর ও দাম কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।