মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু: প্রসেনজিৎ, মিমি, স্বস্তিকারা শোকার্ত
“উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে এমন বিষাদে ঢেকে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারছি না।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গপূজায় উৎসবের আলো এখন ম্লান। শহরের চোরবাগানে দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সেখানে এখন শোকের আবহ। এ ঘটনায় শোকার্ত কলকাতার সিনেমার অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ বলছে, ফেইসবুকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ লিখেছেন, “চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে এমন বিষাদে ঢেকে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারছি না। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার গভীরতম সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় আহতদের আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।
নায়িকা মিমি চক্রবর্তী বলেন, মানুষের জীবন সত্যিই ভীষণই অনিশ্চিত।
সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় যে বা যারা দুর্ভোগের শিকার, তাদের সবার জন্য প্রার্থনা করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। জীবন সত্যিই বড় অনিশ্চিত! এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর সকলকে শক্তি দিন।”
দিনটিকে ‘অভিশপ্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন, আহতরা প্রত্যেকে দ্রুত সুস্থ হোন, চিকিৎসকদের ওপর শেষ ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই, যারা স্বজন হারালেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই, অভিশপ্ত দিন আজ।”
অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত লিখেছেন, ‘মিলিয়ে গেল উৎসব’।
কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মণ্ডপ থেকে বের হওয়ার পথে পদদলনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে আসা মানুষের বিপুল চাপেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, মণ্ডপে ঢোকার জন্য মানুষকে প্রায় ৯০ মিনিট লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।
বৃষ্টির কারণে মানুষের মধ্যে দ্রুত মণ্ডপে ঢোকার তাড়া তৈরি হয়েছিল। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল সরু। একসঙ্গে অনেক মানুষ চলাচল করতে গেলে চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অন্ধকার।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন আরেক কথা। তার ভাষ্য, আয়োজকদের একটি ঘোষণা দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি তৈরির কারণ হয়ে থাকতে পারে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে না এলে মণ্ডপ ভেঙে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল মাইকে।
আর তাতেই ভিড়ের মধ্যে দ্রুত বের হওয়ার তাড়া তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন অনেকে।
