৮০০তম প্রদর্শনীর অপেক্ষায় লোক নাট্যদলের 'কঞ্জুস'
১৯৮৭ সালে প্রথম মঞ্চে আসে 'কঞ্জুস' নাটক
চার দশকের পথচলায় আটশতম প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে লোক নাট্যদলের সাড়া জাগানো নাটক ‘কঞ্জুস’ ।
তাদের এই অর্জন ঘিরে দলটি শিগগিরই এক উৎসবের মধ্য দিয়ে 'আটশতম' প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে নাট্যদলটি।
ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের বিখ্যাত কমেডি ‘দ্য মাইজার’ অবলম্বনে ‘কঞ্জুস’ নাটকটির রূপান্তর করেছেন তারিক আনাম খান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী।
১৯৮৭ সালে প্রথম মঞ্চে আসার পর থেকে টানা চার দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দর্শক মাতিয়ে চলেছে এ প্রযোজনাটি। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে নাটকটির ৭৯৮তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
পুরোনো ঢাকার আবহ ও স্থানীয় 'ঢাকাইয়া' ভাষার নিখুঁত ব্যবহারে সাজানো হয়েছে নাটকটির গল্প।
নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হাড়কিপ্টে ‘হায়দার আলী খান’-এর ভূমিকায় শুরু থেকেই মঞ্চে অভিনয় করছেন অভিনেতা আবদুল্লাহ আল হারুন।
নাটকের গল্পটি গড়ে উঠেছে হায়দার আলী খানের ছেলে কাযিম আলী খান, মেয়ে লাইলি বেগম এবং বদিউজ্জামান ওরফে বদি মিয়ার প্রেম ও পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে।
সমুদ্র ভ্রমণে লাইলির প্রেমে পড়ে বদি মিয়া শেষ পর্যন্ত হায়দার আলীর খাস চাকর হয়ে যায়। অন্যদিকে কাযিম ভালোবাসে পাশের বাড়ির মর্জিনা বেগমকে। কিন্তু গোল বাঁধে তখন, যখন বাবা হায়দার আলীর চোখ পড়ে সেই মর্জিনার ওপরই।
ঘটক গোলাপজানের মধ্যস্থতায় এগোতে থাকে জটিল অথচ হাস্যরসে ভরা পারিবারিক এ গল্প। এই ঘটকের চরিত্রে রূপদানকারী সামসাদ বেগম একাই পাঁচশরও বেশি প্রদর্শনীতে অভিনয় করে রেকর্ড গড়েছেন বলে জানিয়েছে নাট্যদলটি।
মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, সংগীত, পোশাক ও রূপসজ্জার সমন্বয়ে নির্মিত এই পরিবেশনা চার দশক ধরে নতুন নতুন দর্শক তৈরি করে চলেছে। রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিশ্বের একাধিক দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি।
