২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সাঁতাও’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ, মুক্তি জানুয়ারিতে

টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণকে রংপুর অঞ্চলে বলে ‘সাঁতাও’। উত্তরের তিস্তাপাড়ের মানুষের সংগ্রামী জীবন নিয়েই এ সিনেমা।

‘সাঁতাও’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ, মুক্তি জানুয়ারিতে

সাঁতাও সিনেমার একটি দৃশ্য।

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Oct 2022, 03:08 PM

Updated : 18 Oct 2022, 03:08 PM

বছরের এক সময় তলা ফাটা নদী, অন্য সময় উজানের থইথই পানিতে সর্বস্বান্ত কৃষক; উত্তরের তিস্তাপাড়ের এই সংগ্রামী জীবনের চিত্র নিয়ে আসছে বছর মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমা ‘সাঁতাও’।

মঙ্গলবার সাঁতাওয়ের ট্রেইলার প্রকাশ পেয়েছে, আর আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি মুক্তি পাবে গণঅর্থায়নের এ সিনেমা।

ট্রেইলারে ফুটে উঠেছে উত্তরবঙ্গের এক নারীর বিয়ে, মাতৃত্বহীনতা ও গৃহপালিত পশুকে সন্তান জ্ঞান করার চিত্র। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে তিস্তা নদীর বুকজুড়ে মরুভূমির মত চর, আবার বর্ষায় তিস্তার আগ্রাসনে কৃষকের সর্বস্বান্ত হওয়ার দৃশ্য।

Image

সাঁতাওয়ের একটি দৃশ্যে আইনুন পুতুল।

আইনুন পুতুল, ফজলুল হক ও আব্দুল্লাহ আল সেন্টুসহ অনেকে সাঁতাওয়ের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

নির্মাতা খন্দকার সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “ট্রেইলার মুক্তির আগের দিন একটি ভালো খবর পেলাম। ভারতের গোয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ার ৫৩তম আসরে অংশ নিচ্ছে সাঁতাও। সেই সঙ্গে ২৭ জানুয়ারি মুক্তি দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি।”

এই নির্মাতা জানান, টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণকে রংপুর অঞ্চলে বলে ‘সাঁতাও’। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপনের চিত্রায়নের প্রয়াস থেকে এ সিনেমার কাজে হাত দেওয়া।

“উজানের বাঁধে মরুভূমিতে রূপ নেওয়া ভাটি অঞ্চলের কৃষকের হাত-পা বাঁধা প্রকৃতি আর এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে; সেইসব কৃষকদের যাপিত জীবনের যন্ত্রণা আর সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত হয়েছে সাঁতাও।

“শৈশবে সাঁতাওয়ের কবলে ঘরে বন্দি থাকার অনুভূতি নিয়ে আমার সিনেমা। এতে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি তথা মাটি, প্রাণী ও মানুষের সম্পর্কের গল্প। আছে মাতৃত্বের সার্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না।”

তিনি বলেন, ওই এলাকায় এমন জনগোষ্ঠী আছেন, তারা গান গেয়ে মাতম করেন, গান গেয়ে আনন্দ করেন। তাদের সুখ দুঃখ সবকিছু প্রকাশ ঘটে সংগীতে। তাদেরই ‘সুরেলা জনগোষ্ঠী’ বা মিউজিক্যাল কমিউনিটি বলা হচ্ছে।

“নানা প্রকল্পের নাম করে নদীর উপর একের পর এক বাঁধ নির্মিত হয়েছে। উজানে বাঁধের কারণে ভাটি অঞ্চল পরিণত হচ্ছে মরুভূমিতে। কৃত্রিম সেচে চাষাবাদ হচ্ছে, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে গ্রামের প্রভাবশালীদের হাতে। সাধারণ কৃষক সেখানে অসহায়। আবার ভরা বর্ষায় বাঁধ খুলে দেওয়ায় কৃষকের ফসল ও গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে।

“কৃষকের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে দাদন ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র ঋণদাতা সংস্থাগুলো। এক দিকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তির চাপ, অন্য দিকে কৃষির জন্য বৈরী পরিবেশ। গ্রাম ছেড়ে কৃষক শহরে যাচ্ছে, হাত দিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। হয়ত দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ফিরে আসছে গ্রামে।”

নির্মাতা সুমন বলেন, এমন সব চলমান ঘটনার বিপরীতে থাকা একজন সাধারণ কৃষক ফজলু। মা-বাবাহীন ফজলু বিয়ে করে উজানের গ্রামের মেয়ে পুতুলকে। পুতুলের একাকীত্ব দূর করতে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য হয়ে আসে একটি গরু। ফজলু, পুতুল আর তাদের গরুকে ঘিরে এগোতে থাকে সাঁতাওয়ের গল্প।

প্রকৃতি ও ঋতুচক্রের প্রভাব সঠিকভাবে তুলে ধরতে মোট ছয় লটে শুটিং করার কথা জানিয়ে সুমন বলেন, যে জমির ধান লাগানোর দৃশ্য ধারণ হয়েছে সেই জমিরই ধান কাটার সময় আবার শুটিং হয়েছে।

 গণঅর্থায়নে কীভাবে এ সিনেমা তৈরি হল, সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শুরুতে সিনেমার গল্প নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়েছি। বাণিজ্যিক উপাদান না থাকায় তারা এই সিনেমায় আগ্রহ দেখাননি। পরে ১ হাজার ৫৫৯ জন মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন একেকজন।

“৩৭৫ জন প্রকাশ্য অনুদানের মাধ্যমে এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বাকিরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন।”

সাঁতাও সুমনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, তাই প্রত্যাশাও অনেক।

তিনি বললেন, “এর আগে আমার স্বল্পদৈর্ঘ্য পৌনঃপুনিক যারা দেখেছেন, প্রশংসা করেছেন। আমি আশা করি গণমানুষের এই সিনেমাটা গণমানুষ দেখবে।”

সাঁতাওয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ফজলুর রহমান নির্মাতা তারেক মাসুদ পরিচালিত রানওয়ে সিনেমায় রাহুল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টু ওটিটি প্লাটফর্মে ‘বাংকার বয়’, ‘শুক্লপক্ষ’, ‘কারাগার’ ও একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত নাটক ‘পুণজন্ম’তে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন বলে পরিচালক সুমন জানান।