ভালো নেই প্রতুল মুখোপাধ্যায়, চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে
২০১৬ সালে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ১৪ হাজার কৃষককে তাদের জমি ফেরত দেওয়া হয়। তখন তার কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল ‘আমি বাংলায় গান গাই’।
‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই’ আজও সবার মন ছুঁয়ে যায়। আজও বাঙালির ঠোঁটে বারবার ফিরে ফিরে আসে সেই গান। কিন্তু এই গানের শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় ভালো নেই একদমই।
গুরুতর অসুস্থ এই প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেই তাকে এসএসকেএম-এ ভর্তি করানো হয়। ক্রমাগত নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল শিল্পীকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তাররা তাকে ভর্তি করে নেন। তবে প্রথমদিকের চেয়ে এখন কিছুটা স্থিতিশীল তার অবস্থা।
সোমবার এসএসকেএম হাসপাতালে তাকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতুল মুখোপাধ্যায় ১৯৪২ সালে বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক। ১৯৫২ সালে তার স্কুলে যাওয়া শুরু। স্কুলের মঞ্চেই দাপিয়ে অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তিনি। ‘গায়ক অভিনেতা’ হিসেবে একটি স্কুলের নাটকের মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
১৯৬২ সালে তিনি প্রথম গান লেখেন। তারপর এক দশক ধরে বেশ কয়েকটি গণসংগীত রচনা করেছেন। নকশালদের মধ্যে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘সেজদা কমরেড’ নামে।
ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে।
২০১৬ সালে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ১৪ হাজার কৃষককে তাদের জমি ফেরত দেওয়া হয়। তখন তার কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল ‘আমি বাংলায় গান গাই’। তার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চার্লি চ্যাপলিন’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও আলু বেচো’।
দেশাত্মবোধক গান সম্পর্কে একবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “দেশাত্মবোধক গান সাধারণত গর্ব, অহংকার, ‘আমরা সেরা’ বলার মতো সাহস থাকে।”
