১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এক যে ছিলেন বাজিয়ে

বেঁচে থাকলে তার বয়স হত ১০৪ বছর, তিনি সেতারের কিংবদন্তি শিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্কর। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যকে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন সারা বিশ্বে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এই বন্ধু শিল্পী বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নব্বই পেরিয়েও হাজির হয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক কনসার্টে। রবিশঙ্করের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীতে কয়েকটি ছবি ফেইসবুকে শেয়ার করেছেন তার মেয়ে সেতারবাদক আনুশকা শঙ্কর।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2024, 06:31 PM

Updated : 07 Apr 2024, 06:31 PM

Image

রবিশঙ্করের তৃতীয় স্ত্রী সুকন্যা শঙ্করের সংসারে জন্ম নেওয়া মেয়া আনুশকা শঙ্কর তার বাবার হাত ধরে সেতারবাদক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন।

Image

ছবির ক্যাপশনে আনুশকা লিখেছেন, “বাবার জন্মদিনে সেতার বাজিয়ে তাকে স্মরণ করছি। বাবার জন্য এর চেয়ে ভালো উপহার আর কী হতে পারে?”

Image

বাবা আর বাবার কনসার্ট দুটোই মিস করছেন আনুশকা।

Image

বাংলাদেশের নড়াইলে ছিল রবিশঙ্করের পৈতৃক ভিটা। তার বাবা নড়াইল ছেড়ে পাড়ি জমান ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসিতে। ওই শহরেই ১৯২০ সালের ৭ এপ্রিল রবিশঙ্করের জন্ম। তার বড় ভাই উদয়শঙ্কর ছিলেন এই উপমহাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী।

Image

আল্লারাখা খানের তবলার সঙ্গতে সেতার বাজাচ্ছেন রবিশঙ্কর। এই যুগলের পরিবেশনার বুঁদ থেকেছেন দেশে-বিদেশের শ্রোতারা।

Image

রবিশঙ্কর ছিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মাইহার ঘরানার স্রষ্টা আচার্য আলাউদ্দিন খাঁর শিষ্য। আলাউদ্দিন খাঁ তার ইউরোপ সফরে তরুণ রবিশঙ্করকে বলেছিলেন, রবি যদি সব ছেড়ে তার কাছে আসতে পারেন, তবেই তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করবেন আলাউদ্দিন খাঁ। রবিশঙ্কর তাই করেছিলেন।

Image

মুক্তিযুদ্ধের সময় রবিশঙ্করের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অংশ। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যের জন্য এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে রবিশঙ্কর ও শিল্পী জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে নিউ ইউর্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে হয় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। কনসার্টে সঙ্গে ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা এবং ওস্তাদ আলী আকবর খান।

Image

দুই বন্ধু রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন। ‘আই মি মাইন’ নামের আত্মজীবনীতে হ্যারিসন লিখেছেন, রবিশঙ্কর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত নানা দেশের পত্রিকা ও সাময়িকীর সংবাদগুলো তার কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেসব পড়ে হ্যারিসনের মনে হয়েছিল এই কনসার্ট হতেই হবে।

Image

জীবন সায়াহ্নে এসেও পণ্ডিত রবিশঙ্কর নিজেকে একজন বৈশ্বিক সংগীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, পারফরমার এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন মেধাবী দূত হিসেবে তুলে ধরার কাজে সক্রিয় ছিলেন। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় মারা যান রবিশঙ্কর। মৃত্যুর এক দিন পর গ্র্যামিতে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে।