১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

'ডাকঘর’ নিয়ে শততম মঞ্চে আসছে পালাকার

শুক্রবার বিকাল ৫টায় ৯৯তম এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১০০তম প্রদর্শনী হবে নাটকটির।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Oct 2025, 08:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:28 PM

রবি ঠাকুরের কালজয়ী নাটক ‘ডাকঘর’ ফের মঞ্চে ফিরছে ‘পালাকারের’ প্রযোজনায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই নাটকটির শততম প্রদর্শনী হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে নাট্যদলটি।

জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ৯৮তম এই নাটকের প্রদর্শনী হবে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় ৯৯তম এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১০০তম প্রদর্শনী হবে নাটকটির।

পালাকার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্দেশক শামীম সাগরের নির্মাণে ‘ডাকঘর’ এক অনন্য নাট্য অভিজ্ঞতা। যেখানে মুক্তি, অপেক্ষা ও জীবনের গভীরতর অর্থ এক সূক্ষ্ম নাট্যরূপে ধরা দিয়েছে। নিষেধ ও প্রাচীরের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের শেষ ডাক শোনার অপেক্ষায় থাকা অমলের গল্প যেন আজও প্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণাদায়ী।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পালাকার নিয়মিতভাবে বৈচিত্রপূর্ণ থিয়েটার প্রযোজনা নির্মাণ ও প্রদর্শন করে আসছে। তাদের অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত প্রযোজনা ‘ডাকঘর’ বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে।

পালাকার এর ভাষ্য, "এই শততম মঞ্চায়ন কেবল একটি প্রযোজনার পুনরাগমন নয়—এটি পালাকারের দীর্ঘ নাট্যযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।"

নাটকের গল্প সংক্ষেপ

শরতের প্রাণোচ্ছল উৎসবে মেতে ওঠে ছেলেদের দল। সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই গগন হরকরার গানে বাজে উদাস সুর, জাগে মাধবদত্তের অন্তর। কবিরাজের চিকিৎসা বা সুধার মায়া—কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না তার মুক্ত প্রাণকে। এই মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঠাকুরদা হাজির হন কখনো দইওয়ালা, কখনো প্রহরী, আবার কখনো ফকিরের রূপে—অমলের সরল মনে বুনে দেন অসংখ্য স্বপ্নের বীজ।

মাধবের অন্তরে জন্ম নেয় অমল—এক মুক্ত আত্মা, যে কল্পনার ঘোড়ায় চড়ে উড়ে যেতে চায় সীমার ওপারে। মাধব ও অমল, বাস্তব আর কল্পনা—দুই সত্তার টানাপোড়েনেই গড়ে ওঠে নাটকের মূল সুর। শেষ পর্যন্ত কবিরাজের বিষবড়ি কিংবা ফুলের মালাও অমলকে ধরে রাখতে পারে না। মুক্ত প্রাণের ডাকে সে পাখা মেলে দেয় অসীমে, নাটাই থেকে ছুটে যাওয়া এক স্বাধীন ঘুড়ির মত। থেকে যায় কেবল বাস্তববাদী মাধবের নশ্বর দেহ, আর বাতাসে ভেসে থাকে মুক্তির গানের প্রতিধ্বনি।

নাটকটির সহ-নির্দেশনা আছেন ফরহাদ লিমন। মঞ্চ-পরিকল্পনায় আমিনুর রহমান মুকুল। মঞ্চ-নির্মাণে ইকতারুল, ববি, সাজ্জাদ, অংকন, রমিজ। আলোক-পরিকল্পনায় জুনায়েদ ইউসুফ।