১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীনের চিরবিদায়

সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক দেয়।

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীনের চিরবিদায়
ডালিয়া নওশীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Apr 2026, 05:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ডালিয়া নওশীন মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন নজরুল সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন। অবস্থার অবণতি হলে গত ২৭ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নজরুল সংগীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনি তো কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। উনাকে দেখতে গতকালই আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ছিলেন।”

মাগরিবের নামাজের পর গুলশান সোসাইটি মসজিদে ডালিয়া নওশীনের জানাজা হবে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের মেয়ে ডালিয়া নওশীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক দেয়।

পাঁচ বছর বয়সে তিনি সুধীন দাশের কাছে উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত ও নজরুল সংগীতের দীক্ষা নেন। ১৯৭৩ সালে ছায়ানট থেকে সংগীতের পাঁচ বছর মেয়াদী শিক্ষা নিয়ে তিনি সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ১৪ বছরের কিশোরী। এপ্রিল মাসে তিনি পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’য় যোগ দেন। 

তাদের দল প্রথমে ‘রূপান্তরের গান’ নামে একটি গীতিনাট্য গায়। পরে সেই গীতিনাট্যের নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তির গান’ নাম দেওয়া হয়।

বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে সংগীত পরিবেশন করার পর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন ডালিয়া নওশীন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে ‘বিশেষ গ্রেডের’ শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত ডালিয়া নওশীন দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছেন।

ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ।

গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের এক শোক বার্তায় বলা হয়, "ডালিয়া নওশীন মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সাথে বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে সংগীত পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি করেছেন। এবং সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিবেদিত হবার আহ্বান জানিয়েছেন।"

"স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সাথে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে অনন্য ভূমিকার জন্য চীরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।"

শোক বার্তায় বলা হয়, নজরুল সংগীতের শিল্পী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং নাগরিক জীবনে ‘পৌষ মেলা’ প্রথম আয়োজনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।