মামুনুর রশীদকে অভিনয় করতে মানা? কী বলেছেন জামিল আহমেদ
“কারো ভয়ে তো নাটক বন্ধ হতে পারে না,” বলেছেন মামুনুর রশীদ
দেশের বর্তমান বাস্তবতায় শিল্পকলার মঞ্চে মামুনুর রশীদকে ‘কিছুদিন অভিনয় না করার’ পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ।
তবে এটা কোনো ‘অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নয়’ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে পড়েছেন জামিল আহমেদ। নাট্যকর্মীদের অনেকেই তার এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট লিখছেন।
বর্ষিয়ান অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদারকেও মহাপরিচালক অভিনয় করতে মানা করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখছেন।
তবে ফেরদৌসী মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “আমাকে কেউ এরকম কিছু বলেননি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “রাঢ়াঙ নাটকটিতে আমি যেন ‘কিছুদিন অভিনয় না করি’, সেটি আমাকে বলেছেন শিল্পকলার মহাপরিচালক।”
সৈয়দ জামিল আহমেদ বলছেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই’ মামুনুর রশীদকে এ কথা বলেছেন তিনি। এটা নিয়ে এরকম ‘ইস্যু তৈরি হওয়ায়’ তিনি মর্মাহত।
মামুনুর রশীদ বলেন, “সৈয়দ জামিল আহমেদ একই সঙ্গে যেমন ব্যক্তি, আবার তিনি শিল্পকলার মহাপরিচালকও। ফলে তিনি যখন শিল্পকলাকেন্দ্রিক কোনো বিষয়ে আমাকে ফোন করেন, তখন সেটি তো মহাপরিচালকের জায়গা থেকেই বলেছেন বলে ধরে নেব।”
অভিনয়ে মানা কেন
শিল্পকলা একাডেমিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাডেমি থেকে আরণ্যক প্রযোজিত ‘রাঢ়াঙ’ নাটকটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে চায় শিল্পকলা একাডেমি। কিন্তু এই নাটকে মামুনুর রশীদ অভিনয় করার কারণে কিছু লোকের ‘ক্ষোভ’ রয়েছে।
সম্প্রতি দেশ নাটকের ‘এহসানুল আজিজ বাবু’কে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে কিছু লোক ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ করার দাবি তোলে। এরকম কোনো পরিস্থিতি যেন না হয়, সেজন্য মামুনুর রশীদকে ফোন করেছিলেন শিল্পকলার মহাপরিচালক।
জামিল আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামুনুর রশীদ আমার কাছে ভীষণ সম্মানের জায়গায় আছেন। তাকে নিষিদ্ধ করার আমি কে? আমি কেবল পরিস্থিতি জানানোর জন্য তাকে ফোন করেছিলাম।
“জুলাই আন্দোলনের সময় মামুনুর রশীদসহ কয়েকজন একটা বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে কিছু লোক তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। মামুনুর রশীদের মত একজন গুণী শিল্পী যেন কোথাও অসম্মানিত না হন, এজন্য ব্যক্তিগত জায়গা থেকে তাকে পরিস্থিতিটা বলেছি।”
মহাপরিচালক বলেন, “আমি চেয়েছি আরণ্যক প্রযোজিত 'রাঢ়াঙ' নাটকটি সারা দেশে মঞ্চায়ন হোক, এটি আমারও খুবই পছন্দের নাটক। সম্প্রতি ‘নিত্যপুরাণ’ নাটক নিয়ে যা হয়েছে, মামুনুর রশীদকে নিয়ে যেন এরকম কিছু না হয়। তার মতো গুণী শিল্পীকে ঘিরে কোনো রকম বিতর্ক যেন না আসে।
“মামুনুর রশীদকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই আমি বলেছিলাম, কিছুদিন আপনি অভিনয় না করলে ভালো হয়। কিছুদিন পর পরিস্থিতি ঠিক হলে, আপনি আবার অভিনয় করেন। তাকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মামুনুর রশীদ বলেন, “কারো ভয়ে তো নাটক বন্ধ হতে পারে না। ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করেছি, ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী আবার হয়েছে।। নাটকে কেউ বাধা দিতে আসলে সবাই মিলেই প্রতিবাদ করব।”
