Published : 02 Aug 2026, 01:06 AM
প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’, বহুল প্রতীক্ষিত, আলোচিত-সমালোচিতও বটে। কারণ ভারতের দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘সাহসী দৃশ্যে’ অভিনয় করেছেন বলিউডের কিয়ারা আদভানি।
উষ্ণ দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী দুজনেই কাজ করলেও সমালোচনার বড় অংশই গিয়ে পড়ে কিয়ারার ওপর, যেখানে একই দৃশ্যে অভিনয় করেও প্রশংসিত হন যশ।
জুলাইয়ের প্রথম ভাগে প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তাবাহি’; এর পর থেকে এই নিয়ে কটূক্তির বিরাম নেই। যদিও কিয়ারার চরিত্রটির নাম ছাড়া সে সম্পর্কে কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
সিনেমার এই দৃশ্য নিয়ে কিয়ারা ওই সময়ে নিজের কিছু মতামত তুলে ধরলেও এবার কিয়ারা জানিয়েছেন, ‘টক্সিকে’ তার অভিনয় করার কারণ।
কিয়ারা নারী চরিত্র নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে নারাজ।
তার কথায় “নারীদের একটি নির্দিষ্ট ছকে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি বিরক্তির। আমাদের চরিত্রগুলো কেন এর চেয়ে বেশি কিছু হবে না, যেখানে বাস্তব জীবনে নারীরা নিজেদের ভাঙতে পারে।”
কিয়ারার মতে, নারী চরিত্রগুলো জটিল, বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত।
“‘টক্সিকে’ আমার চরিত্রটিও তেমন। যখন আমি চরিত্রটির বর্ণনা শুনি, তখন এর পরিপূর্ণ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন অভিনয় শিল্পী যা চান, ‘টক্সিক’ সেই সমস্ত সুযোগ দিয়েছে এবং সাহসী কিছু করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।
“আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি এই ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।”
গত বছর ছবিতে তার চরিত্রের প্রথম পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর কিয়ারা ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, “এই চরিত্র আমাকে শারীরিক, মানসিক এবং আবেগের দিক থেকে নিজের সীমা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য করেছে। আমার ক্যারিরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চরিত্র এটি। অনেক মাসের পরিশ্রম আর এক সাহসী পদক্ষেপের ফল। প্রথম ঝলক প্রকাশেই এত ভালোবাসা পেয়েছি আমি আপ্লুত। ভাষায় কৃতজ্ঞতা জানাতে পারছি না।”
‘টক্সিক’সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ এবং গীতু মোহনদাস। পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। সিনেমাটি একসঙ্গে ইংরেজি এবং কন্নড় ভাষায় শুট করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, মলয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।
গানের দৃশ্যে কি ছিল
বিশাল মিশ্রের গাওয়া ও সুর করা ‘তাবাহি’ শিরোনামের রোমান্টিক গানে যশ ও কিয়ারার চরিত্রকে একে অপরের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট দেখা যায়।
গানের শুরুতেই গির্জার বাইরে কিয়ারা থাকেন। সেখানে তাকে দেখে কোলে তুলে নেন যশ। পরে সার্কাসের মঞ্চে ওঠার আগে কিয়ারাকে মঞ্চের পেছনে নিয়ে গিয়ে চুম্বন করেন। এরপর গাড়ির ভেতর, সমুদ্রসৈকতসহ নানা জায়গায় তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখানো হয়েছে।
গানটি প্রকাশের পর কেবল কিয়ারার কপালে কেবল কটাক্ষই জুটেছে তা নয়। অনেক দর্শকই যশ ও কিয়ারার পর্দার রসায়নের প্রশংসা করেছেন।
একজন লিখেছিলেন, “অনেক দিন পর এমন একটি তীব্র প্রেমের গল্প দেখলাম, যেখানে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো শুধু সস্তা প্রচারণার জন্য নয়। বরং আবেগও রয়েছে।’
আরেকজনের কথায়, “পর্দায় আকর্ষণীয় দেখানো আর অশালীন হয়ে ওঠার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। সৌভাগ্যবশত ‘তাবাহি’সেই সীমা অতিক্রম করেনি।”
সিনেমার টিজার প্রকাশের পরও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। টিজারের কিছু দৃশ্যকে অনেকেই ‘অতিরিক্ত অশালীন’ ও ‘যৌন আবেদননির্ভর’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
সব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই আগামী ২৬ অগাস্টে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ সিনেমাটি।
এতে কিয়ারা-যশ ছাড়াও নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত অভিনয় করেছেন।