২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘দাবাং’ কায়দায় সালমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

মুম্বাইয়ে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বহু মানুষ অপেক্ষা করেন সালমানকে একঝলক দেখার জন্য।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Dec 2025, 06:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:24 PM

মুম্বাইয়ে বলিউডের অভিনেতা সালমান খানের প্যানভেলের ফার্মহাউস সেজেছে আলোয়। ভরে উঠেছে আনন্দ-হুল্লোড়ে। 

কারণ শনিবার সেখানে বন্ধুবান্ধব ও ঘনিষ্ঠজন নিয়ে ৬০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের মেতেছেন সালমান খান। 

এনডিটিভি লিখেছে আলোকিত্রীরা রাতেই বিশাল আকৃতির রেড ভেলভেট কেক এনেছিলেন নায়কের জন্য। তাদের দুপাশে নিয়ে সেই ‘দাবাং’ সিনেমার স্টাইলে কেক কেটেছেন সালমান। 

কেকের পেটে ছুরি গেঁথে পাপারাজ্জিদের সঙ্গে রসিকতাতেও মাততে দেখা যায় বলিউড সুপারস্টারকে।

শুক্রবার সূর্যাস্তের পর থেকেই প্যানভেলে এক এক করে তারকাদের গাড়ি ঢোকা শুরু করে।

তাদের মধ্যে ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি এসেছিলেন সপরিবারে। এছাড়া আদিত্য রায় কাপুর, রকুলপ্রীত সিং, হুমা কুরেশি, মনীশ পালসহ আরও অনেকে ছিলেন। 

পরিবার থেকে ভাই আরবাজ খান, আরহান ও নির্বাণ খান, জামাই আয়ুষ শর্মার সঙ্গে বোন অর্পিতা খানও এসেছিলেন দুই সন্তানকে নিয়ে। 

তবে সব আয়োজনই হয়েছে কড়া নিরাপত্তায়। 

এমনিতে অন্য সময়ের জন্যও মুম্বাই পুলিশ সালমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। চলাফেরার জন্য নায়ককে দেওয়া হয়েছে বুলেটপ্রুফ বিশেষ গাড়ি, সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরাও থাকেনই। কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দলের পক্ষ থেকে সালমানকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

কিছুদিন আগে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় ভাইজানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যুবক। 

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কৃষ্ণকায় হরিণ হত্যার অপরাধে বদলা হিসেবে সালমানকে তারা ‘হত্যা করবেন’।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সালমান তার সিনেমার শুটিং সারছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাগ্যে যা লেখা আছে তাই হবে’।

এদিন মুম্বাইয়ে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে এদিন বহু মানুষ অপেক্ষা করেন তাকে একঝলক দেখার জন্য। 

১৯৬৫ সালে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম নেওয়া সালমানের বেড়ে ওঠা মুম্বাইয়ে। পুরো নাম আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান, রেখেছিলেন তার বাবা সেলিম খান ও মা সুশীলা চরক।

সালমানের বাবা সেলিম খান খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার। সালমান সব সময়ই বলে এসেছেন, তার মূল ভরসার জায়গা তার পরিবার। বিপদ বা যে কোনো বিতর্ক বা সংকটে পরিবারের সদস্যরাই তার পাশে দাঁড়িয়েছে।

চাইলে সাঁতারু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন সালমান। স্কুলে পড়ার সময় বহুবার সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দেশের বাইরেও সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।  

সালমানের হিন্দি সিনেমার জগতে অভিষেক হয় ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ সিনেমার মাধ্যমে। এর পরের বছর সালমান ঝড় তোলেন ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ সিনেমা দিয়ে। রাতারাতি তিনি বনে যান এক ‘রোমান্টিক নায়ককে’।

‘সাজন’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘টাইগার’সহ বহু সফল সিনেমার ইতিহাসের সঙ্গে তার নামটি জুড়ে আছে। ফ্লপ সিনেমার ধাক্কাও কম নেই তার ক্যারিয়ারে। বিশেষ করে কিছুদিন ধরে সিনেমার ব্যাপারে ভাগ্য সহায় হচ্ছে না নায়কের।

ক্যারিয়ারে পাশাপাশি সালমান আলোচিত হয়েছেন তার একের পর এক প্রেম আর এবং একাকী জীবন নিয়ে। 

সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে সালমানের প্রেম বহুল চর্চিত এক বিষয়। এছাড়া প্রেম নিয়ে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। বছরখানেক আগে সালমানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ক্ষোভ ও যন্ত্রণা উগরে দিয়েছিলেন তার সাবেক প্রেমিকা সোমি আলি।

এছাড়া অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানী ও ক্যাটরিনা কাইফের নামও আছে সালমানের প্রেমিকার তালিকায়।  

এদিকে নানা ধরনের দাতব্য কাজে সালমানের সম্পৃক্ততা অনেক বছর ধরে। 

নিজের দাতব্য সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যানের’ মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ করেন সালমান। নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।