১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জাতীয় কনভেনশন: সাম্প্রদায়িকতা রুখে ঐক্য ধরে রাখার ডাক

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 08:56 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

সমাজের মৌলিক পরিবর্তন এবং শোষণ-বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন। 

‘কণ্ঠে মোদের কুন্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানে শুক্রবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে আলোচনা, গানসহ নানা অনুসঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উগ্রতাকে রুখে দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।   

একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে সকালে আয়োজনের উদ্বোধন করেন সাংবাদিক ও লেখক নূরল কবীর। পরে লেখক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় শোভাযাত্রা। এরপর দিনব্যাপী দুটি অধিবেশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

কনভেনশনের আলোচনা পর্বে নূরুল কবীর বলেন, “পৃথিবীর বড় পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য করে দেখবেন, রাজনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তন ততক্ষণ সাধিত হয়নি, যতক্ষণ সেই রাজনীতি একটি প্রগতিশীল, জনস্বার্থপরায়ণ ও গণতন্ত্রপরায়ণ সংস্কৃতির পাটাতনের ওপর দাঁড়ায়নি। 

“সেটা হোক ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, চীনের বিপ্লব এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। সেই সংগ্রামে সফল হওয়ার আগেও একদল লেখক, শিল্পী, সংগীতকার, কবি ও সাহিত্যিকের ভূমিকা দেখতে পাবেন। একটি আন্দোলন যখন সমাজের ভেতরে গভীরতা লাভ করে, মানুষ যখন রাস্তায় বেরিয়ে আসে, তখন সেই মানুষের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর প্রকাশ আমরা দেখতে পাই মিছিলের মধ্যে, উচ্চারিত স্লোগানের মধ্যে, দেয়াললিখনের মধ্যে, গানের মধ্যে।”

আলোচনায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন অর্থনতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, “কে কী চিন্তা করে, কে কী প্রত্যাশা করে, কার কী স্বপ্ন, কার কী আকাঙ্ক্ষা, সেটা তার সংস্কৃতির মধ্যে প্রকাশিত হয়। এমন অনেক উচ্চশিক্ষিত ও ডিগ্রিপ্রাপ্ত মানুষ আছেন, যারা বলবেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি খুব ভালো, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিই আমাদের ভরসা। 

“এই যে চিন্তা এটিও সংস্কৃতি। এটা হচ্ছে দাসত্বের সংস্কৃতি। উপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদের দাসত্বের মধ্য দিয়ে যে শান্তি, যে তৃপ্তি, যে গৌরববোধ তৈরি হয়, এটি সেই গৌরবের সংস্কৃতি।”

অনুষ্ঠানে বাউল শিল্পী আবুল সরকার বলেন, “আমি গান করতে পারি। আমার এটাই অস্ত্র। আমাকে যদি আমার মনের কথাটা সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করতে দেওয়া হয়, এটাই আমার স্বাধীনতা, এটাই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন।”

ইতিহাসে সংস্কৃতি বা সংস্কৃতিকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাংস্কৃতিক সম্মেলনের কথা তুলে ধরেন ৬৯ গণঅভ্যুত্থানের নেত্রী দীপা দত্ত। সাংস্কৃতিক সম্মেলনের পেছনে মাওলানা ভাসানীর ইচ্ছের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “তাঁর ইচ্ছা ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমাদের দেশের শিল্পী ও সাহিত্যিকদের একটি সম্পর্ক তৈরি হোক। সেখান থেকেও আমাদের অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে।” 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপন, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কবি মোহন রায়হানসহ সারাদেশ থেকে আসা লেখক, শিল্পী, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।