অস্কারে মনোনীত পাকিস্তানি সিনেমা কেন দেশেই নিষিদ্ধ?

এক ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে এক যুবকের প্রেম ঘিরে নির্মিত সিনেমা ‘জয়ল্যান্ড’।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Nov 2022, 01:44 PM
Updated : 14 Nov 2022, 01:44 PM

অস্কারে মনোনয়ন পেয়ে আলোচনায় আসা পাকিস্তানি সিনেমা ‘জয়ল্যান্ড’ নিজ দেশেই নিষিদ্ধ।

এক ট্রান্সজেন্ডারের সঙ্গে এক যুবকের প্রেম ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় ‘আপত্তিকর’ উপাদান রয়েছে বলে আপত্তি তুলেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘গুরুতর অন্যায়’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ‘জয়ল্যান্ড’ নির্মাতা সাইম সাদিক।

পাকিস্তানের সেন্সর বোর্ড গত ১৭ অগাস্ট সিনেমাটির ছাড়পত্র দিয়েছিল। আগামী ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানে ‘জয়ল্যান্ড’র মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তা আটকে দেয় সরকার।

‘জয়ল্যান্ড’ সিনেমার গল্প পাকিস্তানের লাহোরের এক মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের ছোট ছেলে হায়দারকে ঘিরে আবর্তিত। তার পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, সে ভবিষ্যতে বিয়ে করে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে বংশ রক্ষা করবে। অথচ হায়দার গোপনে এক ইরোটিক ডান্স গ্রুপে যোগ দেয়। সেই দলের এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর প্রেমে পড়ে যায় সে।

গত ১১ নভেম্বর দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আপত্তি তুলে জানায়, সিনেমাটিতে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর উপাদান’ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আইন অনুযায়ী, সিনেমাটি ‘শালীনতা এবং নৈতিকতার’ সঙ্গে স্পষ্টভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ।

অস্কারে মনোনীত সিনেমাটি নিয়ে এক প্রতিবেদনে ভ্যারাইটি ডটকম এসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নির্মাতার প্রতিক্রিয়াও জানায়।

সাইম সাদিক তার সিনেমার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক এবং বেআইনি’।

দেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তটিকে পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন তিনিসহ সিনেমাটির কলাকুশলীরা।

জয়ল্যান্ড এ বছরের শুরুতে ‘কান’ চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতেছিল। এই সিনেমার মধ্য দিয়েই পাকিস্তান প্রথম অস্কার মঞ্চে পা রাখে।

গত শুক্রবার এনইটিপিএসি এবং গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের ‘এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ও জেতে জয়ল্যান্ড।

এপিএসএ এক বিবৃতিতে বলেছে, জয়ল্যান্ডকে পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে নতুন প্রতিভার প্রতিনিধিত্ব করছে।

সাইম সাদিকের সাহস, বৈচিত্র্যময়তা এবং প্রেমের সার্বজনীনতা প্রকাশের প্রশংসাও করেছেন বিচারকরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক