Published : 28 Jul 2026, 01:24 PM
ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিজেপির এমপি, বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে তরুণদের এক প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষা ও আচরণ নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে কঙ্গনা তাদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘নর্দমার প্রজন্ম’ আখ্যা দেন, যা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোরগোল শুরু হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বহন করা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান ও মিমে নানা ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মধ্যে সৃজনশীল ও রসাত্মক উপাদানের পাশাপাশি অশালীন ভাষাও ছিল।
এসব নিয়েই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন কঙ্গনা। সেখাানে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে তার ‘বমি পাচ্ছে’।
কঙ্গনা লেখেন, “আমি জীবনেও এক জায়গায় এত কুৎসিত জিনিস দেখিনি। জেন জির বিক্ষোভের এসব রিল দেখে বমি পাচ্ছে। তারা যেভাবে কথা বলে, যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে—জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমে একসঙ্গে এত বিরক্তিকর ও অশালীন কিছু দেখিনি।”
এরপর বিক্ষোভকারীদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষমতাসীন বিজেপির এই এমপি বলেন, “উফফ! কারা এদের জন্ম দিচ্ছে আর বড় করছে?”
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এই অভিনেত্রী বলেন, “তোমরা নিজেদের ককরোচ বলছ, দেখতে ও আচরণেও তোমনা সেইরকম। এর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তোমরা শুধু তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা আর কুৎসিত আচরণ বিশ্বের সামনে তুলে ধরছ। এসব রিল দেখে আমি মানসিক আঘাত পেয়েছি । আমার ডিজিটাল ডিটক্স দরকার।”
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হিন্দু নারীদের নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যে।
তাদের ‘কথিত পাশ্চাত্যপন্থি ভারতীয় নারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা এতটাই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘কুৎসিত’ যে তারা ‘গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নন’।
তার দাবি, “তারা মাদক নেয়, মদ্যপান করে এবং বাবা-মায়ের উপার্জনের ওপর ভর করে জীবনযাপনকে গর্বের বিষয় বলে মনে করে।”
পোস্টের শেষদিকে তিনি এই প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ বলেন কঙ্গনা রানাউত।
তিনি লেখেন, “আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। এদের অনেকেরই সমাজকে দেওয়ার মত কিছু নেই।”
কঙ্গনার এসব মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।
কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে কঙ্গনার কোনো অনুতাপ আছে কি না।
তিনি বলেন, “আমাদের মেয়েদের ও সন্তানদের যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে, একজন নারী হিসেবে তার কি এতটুকুও অনুতাপ নেই? বিষয়টি আমাকে সত্যিই বিস্মিত করেছে।”
এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত তার দলের এমপিদের ভাষার দিকে নজর দেওয়া।
তার ভাষায়, “কঙ্গনা যদি এমন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি এনইইটির পূর্ণরূপ জানেন? তিনি পুরো জেন জির কাছে ক্ষমা চাইবেন।”
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তরুণদের ওই আন্দোলনের জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করতে হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার।