১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মীনা কুমারী কবিতা লিখতেন ছদ্মনামে

মীনা কুমারীর কবিতাকে ধরা হয় দিন দিনপঞ্জির পাতার মত, এক অকপট স্বীকারোক্তি।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 04:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

বলিউড সিনেমার ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ খ্যাত নায়িকা মীনা কুমারী উর্দুতে কবিতা লিখতেন। সেই লেখালেখিতে তিনি ব্যবহার করেছেন ছদ্মনাম ‘নাজ’।

তার লেখায় ফুটে উঠত এক কবির হৃদয়ের গভীর অনুভূতি। যে অনুভূতিতে খেলা করত আকুলতা, বিষন্নতা এবং প্রেম ও একাকিত্ব।

মীনা কুমারীর এই পরিচয় তুলে ধরেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

১৯৭২ সালে মীনা কুমারী মারা যাওয়ার পর তার লেখা কবিতার গ্রন্থ ‘তানহা চাঁদ’ প্রকাশিত হয়। 

ওই গ্রন্থের কবিতাগুলো এক সংবেদনশীল মনের কথা বলে, যে মন বা হৃদয় হারানোর বেদনা আর নিজের পরিচয় খুঁজে ফেরার সন্ধানে ছিল জর্জরিত।

সে সব কবিতা রুপালি পর্দার আড়ালের এক অন্য মীনা কুমারীকে চিনে নেওয়ার সুযোগ এনে দেয় ভক্তদের সামনে। 

মীনা কুমারীর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে একাকিত্ব আর অপূর্ণ ভালোবাসার কথা।

কোনো একটি কবিতায় একটি পংক্তি ছিল এমন, “জীবন কেবল ভালোবাসা দিয়ে চলে না।“

মীনা কুমারীর কবিতাকে ধরা হয় দিনপঞ্জির পাতার মত, যেন এক অকপট স্বীকারোক্তি।

মীনা কুমারীর সাহিত্যিক প্রতিভা, উর্দু কবি ও সাহিত্যিকদের কাছ থেকে গুরুত্ব পেয়েছে। একটা সময়ে এই অভিনেত্রী আমন্ত্রণ পেতেন কবিতার আসরে। সাহিত্যিকেরা তার গভীর ভাবনার প্রকাশের ক্ষমতার প্রশংসা করতেন।

মীনার ঘনিষ্ঠজন অভিনেত্রী নার্গিস বলেছিলেন, অভিনেত্রীর কাছে লেখালেখির বিষয়টি কেবল সৃজনশীলতার চর্চা ছিল না, ছিল নিজেকে খুঁড়ে দেখার আপ্রাণ চেষ্টা। 

হতাশার মুহূর্তে মীনা কুমারী লেখালেখির আশ্রয় নিতেন, ছন্দ আর ভাবনা দিয়ে ভরিয়ে দিতেন পাতার পর পাতা।

নার্গিস বরেন, “একাকিত্বের বেদনা সামলাতে কবিতাই তাকে ভরসা দিত।“

মীনা কুমারী একজন  প্লেব্যাক গায়িকা ও পোশাক শিল্পীও ছিলেন। ১৯৪৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করেন ‘বাচ্চো কি খেল’ সিনেমায়। অর্থনৈতিক চাপে পড়ে হাতে নেন একের পর এক সিনেমা।

কেবল সুর্দশনাই নয়, অভিনেত্রী হিসেবেও মীনা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দী। ১৯৫৪ সালে ‘বাইজু বাউরা’ সিনেমার জন্য প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন তিনি। পরের বছর ‘পরিনীতা’র জন্য আবারও পুরস্কৃত হন তিনি। তবে ১৯৬৩ সালে ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’ ছবির জন্য সব বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েন তিনি!

রূপালি পর্দায় সাফল্যের শীর্ষে থাকলেও বাস্তব জীবন মোটেও সুখকর ছিল না মীনা কুমারীর। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিলো বনিবনার অভাব। ১৯৫২ সালে খ্যাতিমান পরিচালক কামাল অমরোহির সঙ্গে বিয়ে হলেও তাদের দাম্পত্য জীবন ছিলো সংঘাতপূর্ণ। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সিনেমায় কাজ করা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য ঘটে তার। ফলে বিয়ের অল্পদিনের মাথায় স্বামী-সংসার ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে হতাশা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য অল্প বয়সেই লিভার সিরোসিসের মত জটিল রোগে আক্রান্ত হন। ১৯৭২ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়েসে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি।