Published : 12 Dec 2025, 06:42 PM
পচাঁত্তর বছরের জীবনে সিনেমার সঙ্গে বসবাস ৫০ বছর ধরে। তিনি ভারতের দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মহাতারকা রজনীকান্ত। যার শিবাজী রাও গায়কোয়াড় নামটি এখন বিস্মৃত। জীবিকার জন্য করেছেন কুলিগিরি, ছিলেন বাস কন্ডাক্টরও। তবে নাটক-সিনেমার প্রতি প্রবল টান ছিল কৈশরকাল থেকে। ১৯৭৫ সালে প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাৎ করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তরুণ রজনীকান্ত। দক্ষিণের মানুষ তাকে ডাকে ‘থালাইভা’ নামে, যার অর্থ গুরু। সেই থালাইভার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী শুক্রবার। জন্মদিনে কয়েকটি ছবিতে অভিনেতার জীবনের গল্প তুলে ধরছে গ্লিটজ।
রজনীকান্তের জন্ম মারাঠি পরিবারে ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর। বাবা রামোজি রাও গায়কোয়াড় ছিলেন পুলিশ কন্সটেবল আর মা জীজাবাঈ ছিলেন গৃহিনী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রজনীকান্ত ছিলেন সবার ছোট।
পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে কুলি, দিনমজুর, অফিস বয় ও বাস কন্ডাক্টরের মত কাজও করতে হয়েছে রজনীকান্তকে। তবে তার বাসে টিকেট ও খুচরা ফেরত দেওয়ার ভঙ্গি এতই জনপ্রিয় ছিল যে যাত্রীরা তার জন্য বাসের ভেতরে অপেক্ষা করতেন।
পাশাপাশি পাড়ার নাটকেও রজনীকান্ত চালিয়ে যেতেন শখের অভিনয়। পরবর্তীতে এক বন্ধুর সহায়তায় মাদ্রাজ ফিল্ম স্কুলে অভিনয়ের উপর প্রশিক্ষণ নেন রজনীকান্ত। সেখান থেকেই নজরে পড়েন সে সময়ের খ্যাতিমান পরিচালক কে. বালাচরণের। বালাচন্দর তাকে নতুন নাম দেন-রজনীকান্ত।
১৯৭৫ সালে কে. বালাচরণের ‘অপূর্ব রাগাঙ্গল’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল সিনেমায় অভিষেক ঘটে ‘থালাইভা’ খ্যাত রজনীকান্তের। প্রথম সিনেমাতেই রজনীকান্তকে লুফে নেন দর্শকরা। প্রথম দিকে খ্যাতিমান অভিনেতা কমল হাসানের সঙ্গী হিসেবেই সিনেমাতে দেখা গেছে তাকে।
অত্যাচারিত কৃষক, দিনমজুর ও কুলিসহ বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শক্ত জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের মনে। কে বালাচন্দর বলেছিলেন, রজনীকান্ত তার সংলাপ বলার ধারা দিয়ে নিজেকে প্রচলিত নিয়মের বাইরে নিয়ে যেতে পেরেছেন। তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে ছোট ছোট সংলাপ আর ক্যামেরার কাছে কথা বলার স্টাইল তাকে অনন্য করেছে।।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তামিল, হিন্দি ও তেলেগু মিলিয়ে ১৭০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রজনীকান্ত। এক সময় এই অভিনেতার সিনেমা মুক্তির দিনে দক্ষিণে রাজ্যে রাজ্যে ছুটি ঘোষণা করা হত।
রজনীকান্ত তার পর্দার রূপকে বাস্তবে টেনে আনেন না। তিনি জনসমক্ষে হাজির হন মেকআপ ছাড়া। তখন তার মাথায় পরচুলা থাকে না, পরনে থাকে সাধারণ পোশাক।
কিছুদিন আগেই ‘কুলি’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের কুলি হয়ে কাজ করার স্মৃতি মনে করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এই তারকা। রজনীকান্ত বলেন, “কুলি হয়ে কাজ করার সময় অনেকবার অপমান সহ্য করেছি। একদিন এক ভদ্রলোক আমাকে দুই রুপি দিয়ে বলল, ওর লাগেজ টেম্পোতে তুলে দিতে। কণ্ঠটা কেমন যেন চেনা লাগছিল। পরে বুঝি, সে আমার কলেজের বন্ধু!”