১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জন্মদিনে জহির রায়হানকে স্মরণ

“জহির রায়হানের একটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিদ্যুতের গতিতে ত্বরান্বিত করেছিল।"

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2025, 08:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র জহির রায়হানের নব্বইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করল জহির রায়হান ফিল্ম ইনস্টিটিউট। 

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে ‘বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনে চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের দর্শন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। 

জহির রায়হানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর তার স্মরণে একক সংগীত পরিবেশন করেন আশিকুর রহমান। 

আবৃত্তিকার বেলায়েত হোসেন পাঠ করেন জহির রায়হান রচিত 'সময়ের প্রয়োজনে' গল্পের অংশ বিশেষ।

জহির রায়হান ছেলে অনল রায়হান, মাহির শাহরিয়ার রেজা, রুস্তম আলী খোকন, বিধান রিবেরু, মাহমুদ সেলিম উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। 

জহির রায়হান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ বলেন, “১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনে পরিপ্রেক্ষিতে জহির রায়হান নির্মিত 'জীবন থেকে নেওয়া' চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে সামরিক শাসকরা গড়িমসি করায় প্রথমবারের মত চলচ্চিত্র দেখার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল জনসাধারণ। জহির রায়হানের একটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিদ্যুতের গতিতে ত্বরান্বিত করেছিল।"

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন,"জহির রায়হান বাঙালির এক মেধাবী সন্তান যিনি তার রাজনৈতিক দর্শন তার চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছি জহির রায়হান তখন ক্যামেরা নিয়ে ছুঁটেছেন শরনার্থী শিবিরে। 

“বিশ্ববাসীকে তিনি জানাতে চেয়েছেন যে, কীভাবে পাক বর্বর বাহিনী এই বাংলায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তার অমর সৃষ্টি স্টপ জেনোসাইড বাংলাদেশের জন্মের দলিল হয়ে রয়েছে।" 

আলোচনা পর্ব শেষে জাহির রায়হানের ‘স্টপ জানোসাইড’ প্রামাণ্যচিত্রটি দেখানো হয়।

১৯৩৫ সালের ১৯ অগাস্ট ফেনীর মজুপুর গ্রামে জহির রায়হানের জন্ম। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক শেষ করা এই কিংবদন্তী সাংবাদিকতাও করেছেন। 

১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্প ‘সূর্যগ্রহণ’। এরপর একে একে জন্ম নেয় কালজয়ী সব রচনা- হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, তৃষ্ণাসহ বহু উপন্যাস।

এর মধ্যে হাজার বছর ধরে উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে ‘আদমজী পুরস্কার’ পায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলা উপন্যাসে অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়।

১৯৬১ সালে ‘কখনো আসেনি’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন জহির রায়হান।

তিনি ১৯৭০ সালে নির্মাণ করেন ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। ২০ মিনিটের এ প্রামাণ্য চিত্রটিতে তুলে ধরা হয় হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা আর শরণার্থীদের অবস্থা।

ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিকবার জেলে যেতে হয়েছে তাকে। ভাষা আন্দোলনের সময় ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুর থেকে আর ফিরে আসেননি জহির রায়হান। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার ধারণা করলেও তার মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।