Published : 17 Jun 2026, 01:12 PM
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীর বা কোরাল রিফ ধ্বংসের আশঙ্কার মধ্যেই এল নতুন আশার আলো।
আগের অনুমানের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি প্রবাল প্রাচীর বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর ধাক্কা সয়ে টিকে থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
বিজ্ঞানীরা প্রায় এক লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এমন কিছু প্রবাল প্রাচীর চিহ্নিত করেছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সহ্য করে টিকে থাকতে ও আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
বিশ্বের প্রবাল প্রাচীরগুলো সমুদ্রের মোট জলজ জীবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়, যা বর্তমানে তীব্র ক্রান্তীয় ঝড়, দূষণ ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে তৈরি ‘ব্লিচিং’ বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার ফলে চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এগুলো হয়ত স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
তবে ৪৫ হাজার প্রবাল সমীক্ষা এবং কয়েক দশকের জলবায়ু ও সমুদ্রের ডেটা বিশ্লেষণ করে ৭১টি দেশ ও একশটি অঞ্চলের মধ্যে জলবায়ু-সহনশীল প্রবাল প্রাচীরের খোঁজ মিলেছে। যার মধ্যে ক্যারিবিয়ান, প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের এমন কিছু অংশও রয়েছে, যা এর আগে কখনোই এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি’-এর প্রবাল সংরক্ষণ শাখার পরিচালক ও এ গবেষণার অন্যতম লেখক এমিলি ডার্লিং বলেছেন, “প্রবাল প্রাচীরগুলোকে এমন এক বাস্তুতন্ত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা আর কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে এ গবেষণা আমাদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।”
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ দশকের শেষদিকে নিজেদের স্থলভাগ ও সামুদ্রিক পরিবেশের ৩০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে, যা ‘৩০ বাই ৩০’ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে পরিচিত।
নতুন এ গবেষণাটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের পরিকল্পনায় বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীরের অবস্থান বিবেচনার সুযোগ করে দেবে।
এমিলি ডার্লিং বলেছেন, “বর্তমানে বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীরের কেবল ২৮ শতাংশ সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত এলাকার আওতায় রয়েছে। ফলে সুযোগ যেমন স্পষ্ট তেমনই এর জরুরি প্রয়োজনীয়তাও বেশি, বিশেষ করে যখন আমরা আসন্ন বড় ধরনের ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছি।”
‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি’-এর গ্লোবাল মেরিন প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ও এ গবেষণার সহ-লেখক স্টেসি জুপিটার বলেছেন, এসব তথ্য সরকারগুলোকে সীমিত তহবিল কোথায় ব্যবহার করা উচিত সে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি সহনশীল বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীরকে টিকে থাকার সেরা সুযোগ দেবে।
“বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, যেখানে বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীর বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতার নির্দিষ্ট মানদণ্ডের নিচে নেমে গেছে, সেখানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অর্থাৎ সেসব জায়গাকে হয়ত আমাদের তাদের নিজেদের ভাগ্যেই ছেড়ে দিতে হবে।”