০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে ৩৪%, কমেছে আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 11:42 PM

Updated : 05 Oct 2026, 11:42 PM

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। সংকটে পড়া দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে রেমিটেন্স।

আর এই চাকা ঘোরাতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীরা; মোট রেমিটেন্সের পাঁচ ভাগের এক ভাগই আসছে দেশটি থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিটেন্স প্রবাহের দেশভিত্তিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৫৯ কোটি ২৫ লাখ (৮.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আসা মোট রেমিটেন্সের ১৯ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে সৌদি থেকে। দেশটি থেকে এ সময়ে এসেছে মোট ১৬৪ কোটি ৯৭ লাখ (১.৬৫) ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি থেকে ১২৩ কোটি ১০ লাখ (১.২৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল।

গত ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন) মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে অবস্থানকারী প্রবাসীরা; ৫৮৪ কোটি ৮৯ লাখ (৫.৮৫ বিলিয়ন) ডলার। ওই হিসাবে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মোট রেমিটেন্সের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছিল সৌদি থেকে।

সতের কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে দেড় কোটির বেশি মানুষ নানা কাজে ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আছে সৌদি আরবে। পশ্চিম এশিয়ার এই এক দেশেই ৩৫ লাখের মত বাংলাদেশির কর্মসংস্থান। ফলে রেমিটেন্সও সেই দেশ থেকেই আসত বেশি।

তবে মাঝে দুই অর্থবছরে সৌদি আরবকে পেছনে ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল দেশে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিটেন্সে শীর্ষে উঠে আসে আরব আমিরাত। ওই আর্থিক বছরে দেশটি থেকে ৪৬০ কোটি (৪.৬০ বিলিয়ন) ডলার আসার বিপরীতে সৌদি প্রবাসীরা পাঠান ২৭৪ কোটি (২.৭৪ বিলিয়ন) ডলার।

ওই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রেরও পেছনে পড়ে যায় সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই সময়ে দেশে রেমিটেন্স আসে ২৯৬ কোটি (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার।

পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৭৩ কোটি ৩০ লাখ (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সৌদি আরব থেকে ৪২৬ কোটি ৪০ লাখ (৪.২৬ বিলিয়ন) ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসেছিল ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ (৪.১৬ বিলিয়ন) ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে, ১২১ কোটি ৬৭ লাখ (১.২২ বিলিয়ন) ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের এই তিন মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ৯২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এসেছিল। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার এসেছে আরব আমিরাত থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

এ হিসাবে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আমিরাত থেকে রেমিটেন্স কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এছাড়া রেমিটেন্সের আরেক বড় উৎস মালয়েশিয়া থেকেও অর্থ আসা কমেছে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ সময়ে এসেছে ৬৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮২ কোটি ৩ লাখ ডলার।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ; এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।