নাফ নদীর তীর ধরে সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১৬১%

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নদী তীর ধরে ৫০ কিলোমিটার বাঁধ ও ইটের সড়ক হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 02:44 PM
Updated : 1 August 2022, 02:44 PM

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নির্ধারণী নাফ নদীর তীর ধরে ৫০ কিলোমিটার বাঁধ ও ইটের সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের ব্যয় ১৬১ শতাংশ বাড়ছে।

‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারসমূহের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন’ প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১৪১ কোটি ৬৫ টাকা।

এখন তা সংশোধন করে ব্যয় ২২৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৬৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির এই সংশোধনী অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. মামুন আল রশীদ।

আরও ১৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ২৫টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো তৈরিসহ নানা কিছু যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

“১৮.৫৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, অতিরিক্ত ১.১৩ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন/ পুনঃনির্মাণ এবং ২৫টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ কাজ নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তি এবং আরসিসি বক্স আউটলেট, নিষ্কাশন/পানি সংরক্ষণ খাল পুনঃখনন, বাঁধের উপর এইচবিবি সড়ক নির্মাণ, বাঁধের বিভিন্ন অবস্থানে বে নির্মাণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রম নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তি।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একজন কর্মকর্তা জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্পটি ২০১৭ সাল থেকে বাস্তবায়ন করে আসছে পাউবো।

প্রথমে প্রকল্পটিতে শুধু নাফ নদীর ও বর্ষাকালের পানি ব্যবস্থাপনা করে ওই এলাকাকে বন্যা মুক্ত রাখা ও পানির উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য বাস্তবায়নের কথা ছিল।

কিন্তু পরে প্রকল্পটির মাধ্যমে পোল্ডার তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশ-মিয়ানমার পুরো সীমান্তজুড়ে রাস্তা তৈরি করে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির টহল গাড়ি চলাচল উপযোগী সড়ক তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির সাইফ আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্পটির মাধ্যমে এখন নাফ নদীর তীরের ওপর উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটারের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

“এরপর এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে ওই এলাকার নিরপত্তা ও চোরাচালান রোধ করতে হলে বিজিবির চলাচল ব্যবস্থা তথা পরিবহণের মাধ্যমে টহল ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।”

তিনি জানান, বর্তমানে উখিয়ার বালুখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার ২৪ ফুট প্রস্থের মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন ওই বাঁধের উপর ইট বিছিয়ে সড়ক হবে। এতে তিনটি সেতু ও কালভার্টও নির্মাণ করতে হবে।

এছাড়াও উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার বাঁধের উপর ৩৩টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো মেরামত ও ৪৮টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো অপসারণ এবং ৬টি আরসিসি বক্স আউটলেট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় ২৫ কিলোমিটার নিষ্কাশন-পানি সংরক্ষণ খাল পুন:খনন এবং বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ২০টি বে নির্মাণ করা হবে। এসব কাজ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে বলে জানান তিনি।

“প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এখনও এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ বাকি রয়েছে। ওই এক কিলোমিটার বাঁধের জন্য প্রায় সাড়ে ১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে,” বলেন প্রকৌশলী তানজির।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০২০ সালে শেষ হওয়ার মেয়াদ থাকলেও এখন ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, “এই প্রকল্পের আওতায় এখন মাটি ভরাটের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর কাঁটাতারের বেড়া নির্মান হবে, রিং রোড হবে।

“এটা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আমাদের মুভমেন্ট বাড়বে, কাজের পরিধি বাড়বে ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা অনেক বেশি জোরদার হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক