Published : 02 Jun 2025, 08:42 PM
আসছে অর্থবছরেও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ থাকছে, তবে এর জন্য বর্তমানের করহারের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়তি কর দিতে হবে।
সোমবার বেলা ৩টায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম উপস্থাপন করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব রেখেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বর্তমানে ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ২০০ বর্গমিটারের আয়তনের ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে প্রতি বর্গমিটারে ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে।
আগামী অর্থবছর থেকে এটি বেড়ে ভবন, ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে খরচ করতে হবে ২ হাজার টাকা করে; অর্থাৎ বর্গমিটারে (১০ দশমিক ৭৬৩৯ বর্গফুট) খরচ হবে ২১ হাজার ৫৩০ টাকা, যা ২৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
এবার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব এলাকায় অনধিক ২০০ বর্গমিটার পর্যন্ত কর দিতে হবে, প্রতি বর্গফুটে ৯০০ টাকা করে; এতে প্রতি বর্গমিটারে খরচ হবে ৯ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৫ টাকা।
এছাড়াও বর্তমানে ঢাকার গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত অনধিক ২০০ বর্গমিটার আয়তনের ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টে প্রতি বর্গমিটারে ৪ হাজার টাকা বিনিয়োগে কালো টাকা সাদা করা যায়।
এ ধরনের ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে আসছে অর্থবছরে প্রতি বর্গফুটে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে খরচ করতে হবে; এক্ষেত্রে ৩৮৪ শতাংশ পর্যন্ত কর বেড়ে প্রতি বর্গমিটারে খরচ হবে ১৯ হাজার ৩৭৭ টাকা।
এভাবে এলাকা ভেদে প্রতি ক্ষেত্রেই কর হার বাড়ানো হয়েছে।
দুই অর্থবছর পর কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ ফিরে আসে বিদায়ী অর্থবছরে।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করলে বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ, নগদ টাকা ও শেয়ারসহ যে কোনো বিনিয়োগ ঢালাওভাবে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিনে থাকলেও এলাকা অনুযায়ী বেঁধে দেওয়া কর দিয়ে প্রশ্ন ছাড়াই সেগুলো বৈধ করার সুযোগ রাখা হয় তখন।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বারবার বলা হয়েছিল, তারা কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করে সাদা করার সুযোগ রাখবে না।
গত সেপ্টেম্বরে সরকার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করে। তবে তখন আবাসন খাত তথা ফ্ল্যাট বা ভবনে বিনিয়োগের এ সুযোগ বাতিলের কথা না বলায় এ বিধান বলবৎ থেকে যায়।
এবার করের হার পাল্টে হলেও এটি রেখে সে বক্তব্য থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত জানাল সরকার।