১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন সচল হচ্ছে: বশিরউদ্দীন

“আমাদের হাইড্রোজেন পার অক্সাইডে পাকিস্তান অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসিয়ে রেখেছে। সেটা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি; তারা আশ্বাস দিয়েছ,” বলেন উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন সচল হচ্ছে: বশিরউদ্দীন
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: পিআইডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2025, 11:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

দেড় দশক ধরে অকার্যকর থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। 

বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে খুবই নিবিড় আলোচনা হয়েছে। যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন কার্যকর করা এবং নতুন করে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠনের আলোচনা করছি।”

তিনি বলেন, “দুই দেশ যৌথভাবে বা বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইন্টারমেডিয়েট পণ্য উৎপাদন করতে পারলে তা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।”

উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ওপর পাকিস্তান অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। আমরা সেটা প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া আমাদের চামড়া ও চিনি শিল্প উন্নয়নে সহায়তা চেয়েছি।”

বশিরউদ্দীন বলেন, “এক সময় পাকিস্তান আমাদের এক কোটি কেজি চা রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দিতো, তা আবার বহাল করতে  অনুরোধ করেছি।”

উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিবছর ৮০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে, যার মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ফুড অ্যান্ড ইন্টারমেডিয়েট পণ্য। দুই দেশের মধ্যে এসব পণ্য বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ আছে, সেটা খতিয়ে দেখার জন্য নতুন ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা কৃষি ও খাদ্য পণ্য, ফল আমদানি ও রপ্তানি নিয়ে আলোচনা করেছি। স্থানীয়ভাবে চিনি উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছি। মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনে পাকিস্তানের বিনিয়োগ চেয়েছি।”

বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কিনা এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সবার দিকে ঝুঁকছি। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে  ঝুঁকছি; ভারত থেকেও পেঁয়াজ আনছি। সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, যেখানে দেশের স্বার্থ আছে, সেখানেই ঝুঁকছি।”

বাণিজ্য সচিব মাহবুবর রহমান বলেন, “গত দেড় দশক পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য তেমন ছিল না বললেই চলে। খাদ্য ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমরা নানা দেশ থেকে আমদানি করি, প্রতিযোগিতা দরে পাকিস্তান থেকে এসব পণ্য আনা গেলে সমস্যা নেই। একই সঙ্গে আমাদের রপ্তানি বাড়ানোয় গুরুত্ব দিয়েছি।

“বর্তমানে পাকিস্তান থেকে আমদানি করি বেশি, রপ্তানি করি কম। আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।”