Published : 21 Aug 2025, 08:08 PM
এনবিআরকে বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে যে দুই ভাগ করা হচ্ছে সেগুলোর শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে সংশোধিত অধ্যাদেশে।
এটিসহ ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর সংশোধনে আগের আলোচিত অধ্যাদেশে ১১টি পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এরমধ্যে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের শীর্ষ পদে রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বিভাগের প্রধান শুল্ক ও কর বিভাগের অভিজ্ঞদের মধ্যে থেকে হওয়ার সুযোগ তৈরি হল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার এসব পরিবর্তনসহ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশের সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে।
দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী এ সংস্থাকে ভাগ করার এ অধ্যাদেশ নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনকে ঘিরে গত কয়েকমাসে তুলকালাম ঘটে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস বিফ্রিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ বিষয়ে বলেন, সংশোধিত অধ্যাদেশে আগের জারি করা অধ্যাদেশের ১১টি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে।
”সংশোধিত অধ্যাদেশে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটির সচিবসহ অন্যান্য পদে কোনো সুনির্দিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তার পরিবর্তে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।”
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম
এর আগে গত ১২ মে রাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। পরদিন থেকে আন্দোলনে নামেন দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটির কর্মীরা। অবস্থান, কলমবিরতিসহ কর্মবিরতির মত টানা কর্মসূচি পালন করেন তারা।
তাদের দাবি ছিল, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা সচিবদের যেন না বসানো হয়। এর পরিবর্তে বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের অভিজ্ঞদেরকেই যেন নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের দাবির মুখে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে সরকার। তখন সরকারের তরফে সংশোধনের কথা বলা হয়।
এনবিআর সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে মার্চ টু এনবিআরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। পরে সরকার কঠোর হলে কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকে সরকার। ইতোমধ্যে ২০ জনেরও বেশি কর্মকর্তাকে বিধি লংঘের দায়ে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তসহ ব্যাপক আকারে বদলি করা হয়েছে কর্মকর্তাদের।
এরমধ্যেই উপদেষ্টা পরিষদে বড় পরিবর্তনসহ অধ্যাদেশের সংশোধন অনুমোদন করা হল।
বৈঠকের পর সরকারের তরফে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব পদে সামস্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোন সরকারি কর্মচারীকে নিয়োগ করার বিধান করা হয়েছে।
”অপরদিকে রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন যোগ্য কোনো সরকারি কর্মচারিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে।”
নতুন সংশোধনের বিষয়ে বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগে আয়কর নীতি, দ্বৈতকর পরিহার চুক্তি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মতামত, শুল্ক নীতি, মূল্য সংযোজন কর নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কাস্টমস সংক্রান্ত চুক্তি অনুবিভাগ থাকবে।
আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, কাস্টমস আইন বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য হবে।
রাজস্ব নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটির অন্যান্য অনুবিভাগে সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিধানের প্রস্তাব করার কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।