১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বসছেন কর-কাস্টমসের আন্দোলনকারীরা

অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'মার্চ টু এনবিআর' কর্মসূচি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের তরফে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jun 2025, 02:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:17 PM

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন আন্দোলনরতদের প্লাটফর্ম-'এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ' এর একটি প্রতিনিধি দল।

রোববার বিকেল ৪টায় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এ বৈঠকে যোগ দেবেন আয়কর বিভাগের ১০ সদস্য ও কাস্টমস এন্ড ভ্যাট বিভাগের ১০ সদস্য।

এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এদিন দেশের সকল কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের দপ্তর 'কমপ্লিট শাটডাউন' করে টানা দ্বিতীয় দিনের মত 'মার্চ টু এনবিআর' কর্মসূচি পালন করেন। তাতে দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে 'স্থবিররা' দেখা দেয়।

অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'মার্চ টু এনবিআর' কর্মসূচি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের তরফে।

বলা হয়, যারা এনবিআরে আছেন, তারা প্রতিনিধিদল না ফেরা পর্যন্ত এনবিআরে অবস্থান করবেন। নতুন করে আর কেউ এনবিআরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন না। কমপ্লিট শাটডাউন আগের মত চলমান থাকবে।

তবে মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি বন্ধের কোনো প্রভাব আদতে পড়বে না। আন্দোলনে যোগ দিতে যারা এনবিআরে আসবেন, তারা ইতোমধ্যে চলে এসেছেন। শুল্কায়নসহ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এর আগে বুধবার কর ও কাস্টমস ক্যাডারদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানালে সে বৈঠক হয় বৃহস্পতিবার।

তবে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম-এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদকে সরাসরি আমন্ত্রণ না জানানোয় তারা সেখানে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত জানান।

অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ওই সভায় অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) ও বোর্ডের ১৬ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

সেদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে ‘সিদ্ধান্ত’ এলে ‘আজকের মধ্যেই’ একটা সমাধান আসতে পারে।

তখন সমাধান না এসে উল্টো কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে হাঁটেন আন্দোলনকারীরা। এনবিআরের তরফে তখন কর্মস্থলে অনুপস্থিতির জন্য শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়।

তাতে সাড়া না দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, আরেকটি বৈঠক তিনি করবেন। ওই বৈঠকের মাধ্যমে 'একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে' বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে 'এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ' বলেছিল, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।

গত মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেটি বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মীরা।

তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি দায়িত্বে এসে আন্দোলনে থাকা কয়েক কর্মকর্তাকে বদলি করেন। আন্দোলনকারীরা সেমিনার করতে চাইলে সে জন্য কক্ষ বরাদ্দও আটকে দেন। সব মিলিয়ে তার সঙ্গে কর্মকর্তাদের দূরত্ব আরো বেড়ে যায়।