০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমিও মারা যেতে পারতাম’

মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারীর পিছু ধাওয়ার সময় বাস চাপায় সহকর্মী কনস্টেবল আল আমিন সরদারের মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে কথাগুলো বলছিলেন এএসআই হিরণ মিয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 08:19 PM

Updated : 05 Oct 2026, 08:52 PM

“মনকে কোনভাবে সামাল দিতে পারছি না। সে আমাকে বাইক থেকে নামিয়ে দিয়েছিল, না হয় আমিও মারা যেতে পারতাম।”

কথাগুলো বলছিলেন, চট্টগ্রামে ‘ছিনতাইকারী’ ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদারের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা কোতোয়ালী থানার এএসআই হিরণ মিয়া। তার নেতৃত্বেই রোববার ওয়াসা মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল আল আমিন।

ঘটনার বর্ণণা দিয়ে এএসআই হিরণ মিয়া সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার নেতৃত্বে আল আমীনসহ ৪ জন রাত্রিকালীন ডিউটি করছিলাম। সকালে যাত্রী ছাউনির সামনে অবস্থানের সময় রাস্তার বিপরীত দিক থেকে তিনজন হেঁটে আসছিল। এ সময় তাদের থামার সংকেত দিলে একজন আলমাস মোড়ের দিকে দৌঁড় দেয়।”

হিরণ মিয়ার দাবি, যে যুবক দৌঁড়ে পালিয়ে যায় তার কোমরে ধারাল অস্ত্র জাতীয় কিছু লুকানো ছিল।

Image

কনস্টেবল আল আমিন সরদার

তিনি বলেন, “আমার নামে ইস্যু করা সরকারি মোটরসাইকেলটিতে চাবি লাগানো অবস্থায় রাখা ছিল। ওই যুবক আলমাস মোড়ের দিকে দৌঁড় দেওয়ায় আল আমীন মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে আমাকে পেছনে নিয়ে তাড়া করে। এ সময় ওই যুবক রাস্তা পার হয়ে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের উত্তর গেইট দিয়ে মাঠে ঢুকে যায়। আল আমীন মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে আমাকে গেইটে নামিয়ে দিয়ে সে মূল সড়ক ধরে পশ্চিম গেইটের দিকে চলে যায়।

“আমি মসজিদের পকেট গেইট দিয়ে ঢুকে দৌঁড়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় চিৎকার শুনে দেখি একটি বাস আল আমিনকে চাপা দিয়ে টেনে নিয়ে গেছে। এ সময় পথচারীরা বাসটি আটকে ফেলে।”

হিরণ মিয়া যখন কথাগুলো বলছিলেন তার চোখে জল ছলছল করছিল। তিনি বলেন, “আমি কোনমতেই মানতে পারছি না। তার সাথে তো আমিও ছিলাম। আমাকে সে নামিয়ে দিয়ে একা ধাওয়া করল। সাথে থাকলে আমিও মরে যেতাম। কোনভাবেই চোখ বন্ধ করতে পারছি না, কিছু মুখে নিতে পারছি না। তার কথা মনে আসছে।”

হিরণ মিয়ার ভাষ্য, “আল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠে। তার জন্য আইসিইউ বেড দরকার হওয়ায় ডাক্তারদের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করেছি। পরে একটি বেড ম্যানেজ করে দিয়েছিল ডাক্তাররা। কিন্তু আল আমীন বাঁচল না।”

নিহত আল আমিন সরদার সিএমপি পুলিশ লাইন্সের এস এ এফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগদান করেছিলেন। তার বাড়ি মাদারিপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী এলাকায়।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ওয়াসা মোড় থেকে ইস্পাহানি মোড়ের দিকে বাইক চালিয়ে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করেছিলেন কনস্টেবল আল আমীন। জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেইটে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ১০০ ফুট টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ বাসের চালক মোশারফ হোসেন ও সহকারী জয় দাশকে আটক করেছে।

স্থানীয় লোকজন আল আমিনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন:

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় কনস্টেবলের মৃত্যু