চবি: ছাত্রলীগের অবরোধে টানা দ্বিতীয় দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

প্রক্টর বলছেন, আন্দোলনকারীরা কর্মচারীদের ‘হুমকি দেওয়ায়’ নিরাপত্তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস-ট্রেন বন্ধ আছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 06:24 AM
Updated : 2 August 2022, 06:24 AM

ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের অবরোধে দ্বিতীয় দিনের মত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিরাপত্তার কারণে মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস-ট্রেন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা গতকাল (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে। কিছু ছেলে শাটল ট্রেনের লোকো মাস্টারকে নিয়ে যায়।

“আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করবে গতকাল এমন আশ্বাস দেওয়ার পরও সকালে ট্রান্সপোর্টের কর্মচারীদের তারা হুমকি দিয়ে এসেছে। নিরাপত্তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস-ট্রেন বন্ধ আছে।”

আর বাস-ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে বলে জানান প্রক্টর।

রোববার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেইজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ সেই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনের মুখে সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকে।

অবরোধের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরের বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে কোনো শাটল ট্রেন ছেড়ে যায়নি বলে জানান চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন কুমার চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নিরাপত্তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কনর্সানে শাটল ট্রেন বন্ধ আছে।”

ক্লাস-পরীক্ষার বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রক্টর বলেন, “আমরা তাদের নিয়ম মেনে আন্দোলন করার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানতে নারাজ। এ বিষয়ে উপাচার্য ম্যামের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া শিক্ষার্থী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সংবাদ সম্মেলন করে পাঁচ দাবি তুলে ধরেন।

সেগুলো হল- সদ্য ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়া মো. ইলিয়াস ‘অছাত্র, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং টেন্ডারবাজ’ হওয়ায় তাকে আজীবনের জন্য ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি বর্ধিত করা। সকল অছাত্র, জামায়াত-বিএনপি ও বিবাহিতদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া। ৫০ জন ত্যাগী, মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্রকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পদবীতে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ ক্রম বজায় রাখা।

২০১৯ সালে ১৪ জুলাই রেজাউল হককে সভাপতি ও ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেসময় তা হয়নি। এর তিন বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে তাতে আপত্তি জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক