বাঘে ‘শ্রী ফিরল’ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার

সাড়ে পাঁচ বছরে এক জোড়া থেকে এখন চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টি; যেগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 03:39 PM
Updated : 1 August 2022, 03:39 PM

চার বছর বাঘহীন থাকার পর ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক জোড়া বাঘ এনে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়ানো হয়েছিল; সংখ্যা বাড়ায় সেগুলো এখন সেখানকার প্রধান দর্শনীয় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।

সাড়ে পাঁচ বছর পর ওই এক জোড়া থেকে এখন বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬টি। যেগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ।

এই সময়ের মধ্যে এতগুলো বাঘ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহদাত হোসেন শুভ এর পর্যবেক্ষণ চিড়িয়াখানায় নজরদারি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কারণেই নিয়মিত বাঘের প্রজনন হচ্ছে। বাঘের কারণে সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে চিড়িয়াখানাটিও।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তিনি বলেন, “বাঘ কখন মেটিং করছে আমরা সবসময় সেটি খেয়াল রাখি। মেটিংয়ের পরে ১০৫ দিনের সাথে ১০ দিন যোগ-বিয়োগ করে বাচ্চা প্রসবের একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

“এসময়ে বাঘ অন্তঃসত্তা হয়েছে বুঝতে পারলেই প্রসবের তারিখের ৩০/৩৫ দিন আগে সেটিকে আলাদা করে একটি খাঁচায় রাখা হয়, যাতে সেখানে সে নিরাপদে থাকতে পারে।”

তিনি জানান, ‘সেইফ হাউসে’ বাঘ যেন তার বাচ্চাকে যত্ম নিতে পারে সেটি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি মানুষের স্পর্শ পাবে না এমন একটি ফিলিংস বাঘের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়।

এসব পদক্ষেপের কারণে চিড়িয়াখানায় নিয়মিত বাঘের প্রজনন হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

Also Read: চট্টগ্রামে নতুন ঠিকানায় আফ্রিকার বাঘ-বাঘিনী

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রত্যেকটি বাঘ শাবকের জন্মের আগে ও পরে নজরদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক শুভ বলেন, অন্তঃসত্তা বাঘকে যখন আলাদা খাঁচায় রাখা হয় তার নজরদারির জন্য সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাচ্চা দেওয়ার পর সেগুলোকে তাদের মা দুধ দিচ্ছে কি না, সেটির প্রতি বেশি নজর দেওয়া হয়।

মায়ের দুধ না পেলে শাবকটিকে খাঁচা থেকে বের করে মানুষের স্নেহে বড় করে তোলা হয়। এভাবে দুটি বাঘ শাবককে বড় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত সাড়ে পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া বাঘের মধ্যে ১০টি শাবক দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা রাজ-পরীর। তাদের গর্ভে প্রথম জন্ম নেওয়া জয়ার গর্ভে দুই দফায় তিনটি এবং বিরল প্রকৃতির প্রথম সাদা বাঘ শুভ্রা একটি করে শাবকের জন্ম দিয়েছিল ২০২০ ও ২০২১ সালে।

এ চিড়িয়াখানায় থাকা আগের তিনটি বাঘের মধ্যে ২৩ বছর বয়সে ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর মারা যায় ‘ভিম’। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই ১০ বছর বয়সে ‘চন্দ্র’ ও ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর তার সঙ্গী পূর্ণিমা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এরপর প্রায় চারবছর বাঘহীন ছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এসময়ে বেশ কয়েকবার ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলাজাহার সাফারি পার্কে চিঠি চালাচালির পর কোনও সাড়া না পেয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের বাইরে থেকে বাঘ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকায় ১১ মাস ও ৯ মাস বয়সী বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির এক জোড়া বাঘ আনা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। যেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছিল রাজ-পরী। এগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার কেপটিভ ব্রিডিং প্রতিষ্ঠান ‘মেফুয়েন গেইন রিসোরট’ থেকে আনা হয়েছিল।

এই রাজ-পরীর গর্ভে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই একটি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘসহ তিনটি শাবক জন্ম নেয়। একটি পরদিন মারা যায়। সাদা বাঘটির নাম দেওয়া হয় শুভ্রা আর অন্যটির নাম দেওয়া হয়েছিল জয়া।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক