আওয়ামী লীগ আমজনতার, বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে: নাছির

বিএনপি এদেশকে ‘পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার নীল-নকশা তৈরি করেছিল’ বলেও মন্তব্য করেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2023, 11:49 AM
Updated : 24 Jan 2023, 11:49 AM

জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরীরা ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে চায়’ মন্তব্য করে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, তার দল আওয়ামী লীগ আমজনতার সংগঠন।

‘চট্টগ্রাম গণহত্যার’ ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার আদালত ভবন এলাকার পুরাতন বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনের চত্বরে নগর আওয়ামী লীগের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক মেয়র নাছির বলেন, “আজ থেকে ৩৫ বছর আগে এই দিনে চট্টগ্রাম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে। সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যা অপচেষ্টায় তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) সেই সময়ের কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়।”

বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মির্জা রকিবুল হুদা তখন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। স্বৈরশাসক জিয়া সিএমপির কমিশনার নিযুক্ত করেছিলেন রকিবুল হুদাকে। তাই খুনি রকিবুল হুদা মেজর জিয়ার সৃষ্টি।”

জিয়াউর রহমানের বিএনপি স্বাধীনতা-বিরোধী জামায়াতকে নিয়ে এদেশকে ‘পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার নীল-নকশা’ তৈরি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন নাছির।

তিনি বলেন, “আজও তার (জিয়াউর রহমান) উত্তরসূরীরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে মাঠ গরম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের কুমতলব হাসিল করতে চায়। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে এদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর বার বার আঘাত এসেছে।

“আওয়ামী লীগ ভূঁইফোড় সংগঠন নয়। আওয়ামী লীগ আমজনতার সংগঠন। বিএনপি ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নিয়েছে। জামায়াত একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এই দুই অপশক্তির কোনো ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না ।”

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বন্দরনগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিল। ওইদিন বেলা ১টার দিকে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকটি আদালত ভবনের দিকে যাওয়ার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়।

পরে ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ এ বিষয়ে মামলা করেন আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা; মামলার সাক্ষীরা আদালতে বিভিন্ন সময় বলেছেন, ওইদিন পুলিশের গুলিতে মোট ২৪ জন মারা যান।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন।

মঙ্গলবারের আলেচনাসভা শেষে নিহতদের স্মরণে ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নগর কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নঈম উদ্দীন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও জহিরুল আলম দোভাষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, উপদেষ্টা শফর আলী ও শেখ মাহমুদ ইছহাক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, জোবাইরা নার্গিস খান সভায় বক্তব্য দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক