আঘাত এলে প্রতিরোধ করুন: জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কয়েক মাইল দীর্ঘ শোভাযাত্রায় অংশ নেন নানা বয়সী হাজারো মানুষ।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 August 2022, 09:31 AM
Updated : 19 August 2022, 09:31 AM

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কেউ আঘাত হানলে, ‘প্রতিরোধ’ করার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও সরকার তাদের পাশে থাকবে।

শুক্রবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের এই আহ্বান এল।

প্রতিবছরের মত এবারও বন্দরনগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ থেকে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ ছিলেন প্রধান অতিথি।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কয়েক মাইল দীর্ঘ শোভাযাত্রা শুরু হয়। নানা বয়সী হাজারো মানুষ অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়। বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ভক্তরা আসেন শোভাযাত্রায় অংশ নিতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। এই উৎসবে শামিল হয়েছি। চট্টগ্রামের এই আয়োজন জাতীয় অনুষ্ঠান। চট্টগ্রামে দুর্গা পূজার আয়োজনও অনেক বড় করে হয়।

“একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে গত দুর্গা পূজার মত দেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি। কিন্তু বরাবরের মত সরকার তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করবে।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই দেশ আপনাদের। সবার মিলিত রক্ত স্রোতের বিনিময়ে এই দেশ রচিত হয়েছে। আপনারা কেউ হীনমন্যতায় ভুগবেন না।

“এ দেশের মাটিতে আপনারা জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ আঘাত হানলে প্রতিরোধ করবেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে থাকবে। সরকার আপনাদের পাশে আছে।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার ‘মিলিত রক্তস্রোতের’ বিনিময়ে।

“আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল আছে, একটি রাজনৈতিক পক্ষ আছে, যারা সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে, তারা নির্বাচন এলে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেয়।

“আওয়ামী লীগকে গালাগাল করে যে, আমরা হিন্দুদের দল। আমরা সব মানুষের দল। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সব মানুষের দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচন এলে একটি দল এই ধরণের সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেয়।”

যখনই যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছে, সরকার তাদের ‘কঠোর হস্তে’ দমন করেছে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় যে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেয়, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়, তাদের আপনারা চেনেন। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার বিনীত অনুরোধ জানাই।”

অন্যদের মধ্যে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরে শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথির স্মরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। কৃষ্ণ, রাধা, দেবকী ও বাসুদেব, কংস রাজার কারাগারসহ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ট্রাকে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় শিশু-কিশোরেরা।

শোভাযাত্রায় ঢোলের বাজনার সাথে সাউন্ড সিস্টেমে বাজানো হয় গান। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নিজেদের ব্যানারে র‌্যালিতে অংশ নেয়। দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এ শোভাযাত্রা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারি রাজা কংসের কারাগারে জন্ম হয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের।

অবতার হিসেবে তিনি প্রেম, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ব্রতী হন অত্যাচারী ও দুষ্টের বিরুদ্ধে শিষ্টের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।

দুষ্টের দমন করতে একইভাবে যুগে যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আসেন, সত্য ও সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন- এটাই সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস।

তারা মনে করেন, জন্মাষ্টমী ব্রত (উপবাস) পালনে সমস্ত পাপমোচন ও পূণ্যলাভ হয়। যারা নিয়মিত এ ব্রত পালন করেন, তাদের সৌভাগ্য, আরোগ্য ও সন্তান লাভ হয়। এছাড়া পরকালে স্বর্গপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃঞ্চের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বন্দর নগরীতে শোভাযাত্রা এবং নামসংকীর্তনসহ পাঁচ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত নগরীর জেএম সেন হলে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ’।

মহাশোভাযাত্রার পাশাপাশি ধর্ম মহাসম্মেলন, মাতৃ সম্মেলন, পূজা এবং নামসংকীর্তন হবে এই পাঁচ দিনে।

শুক্রবার দুপুরে মাতৃসম্মেলন এবং বিকালে ধর্মসভা হবে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সেখানে।

শনি ও রবিবার মহানাম সংকীর্তন শেষে সোমবার সকালে পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক