টাকা-গয়নার ‘লোভেই’ গৃহবধূকে খুন করেন প্রতিবেশী যুবক: পুলিশ

টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের ‘লোভে’ একাই খুন করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার জাফর।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 12:36 PM
Updated : 12 Sept 2022, 12:36 PM

টাকা আর গয়নার ‘লোভেই’ পাশের বাসার ভাড়াটিয়া নারীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রামে একদিন আগে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক।

বন্দর নগরীর ইপিজেড থানার নিউমুরিংয়ের একটি ভবন থেকে রোববার বিকালে শামীমা আক্তার নামে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায় তাকে শ্বাসরোধে খুন করে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মোবাইল লুট করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মো. কিবরিয়া ওরফে জাফরকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানায় নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের ‘লোভে’ একাই খুন করার কথা স্বীকার করেছেন জাফর।

টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদন্ত বিভ্রান্ত করতে প্রথমে ওই যুবক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও দুইজন সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছিলেন।”

জাফরের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম কুধুরখীল এলাকায়। স্ত্রীকে নিয়ে নিউমুরিং তক্তারপুল আজিজ শাহ রোডের আবুল ফয়েচের বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকেন।

মাবিয়া ভিলা নামের ওই ভবনটির পঞ্চম তলাতেই পাশের বাসায় একা ভাড়া থাকতেন শামীমা আক্তার। তার স্বামী জামাল উদ্দিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সুবেদার হিসেবে রাঙামাটিতে কর্মরত আছেন।

উপ-কমিশনার শাকিলা বলেন, “নিহত শামীমা ও গ্রেপ্তার জাফর পাশাপাশি দু’টি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। শামীমাকে আপা বলে ডাকতেন জাফর। আর শামীমাও ছোট ভাইয়ের মত দেখতেন তাকে।”

হত্যার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “শনিবার রাতে জাফর দরজায় নাড়া দিলে ভেতর থেকে শামীমা খুলে দেয়। এ সময় সে ঘরে ঢুকেই শামীমার মুখ চেপে ধরে।

“ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে শামীমাকে জখম করে মুখ-হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং শ্বাসরোধ করে খুন করে।”

পুলিশ জানায়, শামীমার স্বামী তাকে ফোনে না পেয়ে বাড়ির মালিককে ফোন করেন। পরে স্বজনরা ওই বাসায় যান। শামীমার ছোট বোন বাসায় গিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পান।

“খাঁটে উপুড় করে শোয়ানো অবস্থায় এবং ঘরের কাপড় চোপড় এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি জীবিত ভেবে হাত-পা ও মুখের বাঁধন খুলে দেন।”

পুলিশ কর্মকর্তা শাকিলা জানান, ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমার লাশ উদ্ধার করে। শামীমার ছোট বোন পুলিশকে জানায়, তার বোন অপরিচিত কারও ডাকে ঘরের দরজা খোলেন না।

তিনি বলেন, “এ কথাটি ছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের হাতে আর কোনো ক্লু ছিল না।

“সে ক্লু ধরে আমরা ভবনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করি। নিশ্চিত হই বাইরের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। শামীমার প্রতিবেশী কেউ এ খুনের সাথে সম্পৃক্ত।”

পরে শামীমার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া জাফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “জাফরের হাতে কামড়ের দাগ দেখে আমরা অনেকটা নিশ্চিত হই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা আছে।

“জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বর্ণ লুটের কথা স্বীকার করলেও হত্যার সাথে সে জড়িত নয় বলে দাবি করে।”

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জাফর জানিয়েছিলেন তার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে আরও দুইজন জড়িত ছিলেন। তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং তিনি মালামাল নিয়েছেন।

পরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকার লোভে জাফর নিজেই রাতের বেলা শামীমাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর বাইরে থেকে দরজা আটকে জাফর তার বাসায় ঢুকে পড়ে জানিয়ে উপ কমিশনার শাকিলা বলেন, “বিষয়টি বাসায় থাকা জাফরের স্ত্রীও টের পাননি।”

জাফর পুলিশকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বেকার থাকায় আর্থিক টানাপড়েনে ছিলেন তিনি। তার ধারণা ছিল শামীমার কাছে অনেক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আছে।

“মূলত সে লোভেই শনিবার রাত ১২টার দিকে ঘরের দরজায় নাড়া দেন তিনি। আর তাকে দেখেই মূলত ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন শামীমা।

“ঘরে ঢুকেই শামীমাকে মুখ চেপে ধরলে হাতে কামড় দেয়। তখন সে শামীমাকে মারধর করে হাত-পা- মুখ বেঁধে ফেলে এবং শ্বাসরোধ করে খুন করে।”

শামীমার স্বামী জামাল উদ্দিন জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে তিনি শামীমাকে ফোন করেন। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আরেকটি নম্বরে ফোন করলে সেটি খোলা পাওয়া গেলেও কেউ ফোন ধরছিল না।

বেশ কয়েকবার ফোন করে শামীমাকে না পেয়ে তিনি বাড়িওয়ালার ছেলেকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন।

রোববার গভীর রাতে শামীমার ছোট ভাই মো. আজম বাদী হয়ে জাফরকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছে বলে জানান ইপিজেড থানার ওসি আব্দুল করিম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক