১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার প্ল্যান রয়েছে: উপাচার্য

“আমার প্রশাসনিক মিশন হল ন্যায্য নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখা; একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা,” বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Mar 2026, 11:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

মঙ্গলবার বিকালে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার প্ল্যান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখি, যাতে করে তা জাতীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার ধারণার পটপরিবর্তনকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন হবে এবং যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে।”

তিনি বলেন, “আমার অ্যাকাডেমিক মিশন হল গবেষণাভিত্তিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

“আমার অ্যাকাডেমিক ভিশন হল অ্যাকাডেমিক স্বায়ত্তশাসন, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ও প্রমাণনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া, যেখানে শিক্ষকরা উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবেন এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গবেষক, পেশাজীবী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি হতে হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। বিএনপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় এ পদে আবার পরিবর্তন এল।

নতুন উপাচার্য আল-ফোরকান বলেন, “আমার প্রশাসনিক মিশন হল বিশ্ববিদ্যালয় শাসনব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ন্যায্য নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সম্মানিত ও সুরক্ষিত বোধ করবেন।

“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক নয়, বরং এটি সেবামুখী হওয়া উচিত, যা দক্ষ শাসনের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষকে সহায়তা করে।”

উপাচার্যের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোশারফ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।