Published : 28 Sep 2025, 06:17 PM
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে অভিযান চালিয়ে উত্তরপত্রের নম্বর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
একই বিষয়ে বোর্ডের তদন্ত চলার মধ্যে রোববার এ অভিযান চালায় দুর্নীতি মোকাবিলাকারী সংস্থাটি।
এর আগে বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে নিজের ছেলের পরীক্ষার ফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে মামলা করে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বাতিল করা হয় তার ছেলের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল। জেলেও যেতে হয়েছে নারায়ণকে। তার ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ২০২৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, এবছরও ১৯ শিক্ষার্থীর ৩৪টি উত্তরপত্রের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ তদন্তে রোববার বোর্ডে অভিযানে চালান তারা।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন বলেন, “আমাদের অভিযানে এখানে অনিয়ম পেয়েছি। অনিয়মের বিষয়ে আমাদের যেটা করণীয়, সেটা আমরা কমিশনকে রিপোর্ট দেব।
“মূলত এখানে অনিয়মটা হয়েছে প্রোগ্রামার ও সহকারী প্রোগ্রামারের রুম থেকে। এখানে টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।”
জালিয়াতির বর্ণনায় দুদক কর্মকর্তা ইমরান বলেন, অভিযোগ আসা উত্তরপত্রগুলোতে মূল খাতা এবং টপ শিটে নম্বর ঠিক আছে; কিন্তু কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার সময় ‘নম্বর বাড়িয়ে’ দেখানো হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা ইমরান জানান, যেসব উত্তরপত্রে নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তারা দেখেছেন। যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, তাদের সাথেও কথা বলেছেন। পাশাপাশি কিছু কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সিস্টেম অ্যানালিস্ট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে অ্যাসিসটেন্ট অ্যানালিস্ট এখানে এসেছিলেন। এ অনিয়ম প্রথমে তার চোখে পড়ে। উনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
“পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবরে একটা পত্র দেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান মহোদয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
“এ মাসের ১৮ তারিখ প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও উনারা (তদন্ত কমিটির সদস্য) সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তার প্রেক্ষিতে আরও ১৫ কার্য দিবস সময় বাড়ানো হয়েছে। উনাদের বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে, আমরা আমাদের কাজ করছি।”
দুদক কর্মকর্তা ইমরানের ধারণা, ফল জালিয়াতি একজনের পক্ষে সম্ভব না। সেখানে চক্র আছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ডে এ ধরনের নম্বর জালিয়াতি হয় বলে দুদক অনেকদিন ধরে অভিযোগ পেয়ে আসছিল।
দুদকের সহকারী পরিচালক ইমরান হোসাইন বলেন, রোববারের অভিযানে পাওয়া অনিয়মের বিষয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করবেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন আহম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসএসসি’র খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সময় এটা ধরা পড়েছিল। আমাকে ৩১ অগাস্ট পরীক্ষা শাখা থেকে আমাকের জানানোর পর ২ সেপ্টেম্বর আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এ বিষয়টা নিয়ে দুদক আজকে (রোববার) জানতে চেয়েছে।
“আমি বলেছি কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার আগে আমার কাছে সময় চেয়েছিল। আমি বাড়িয়ে দিয়েছি।”
অধ্যাপক ইলিয়াছ বলেন, “পুনঃনিরীক্ষণের আগেই জালিয়াতিটা ধরা পড়েছে। যার কারণে আমার কাছে মনে হচ্ছে সুবিধাটা তারা ওভাবে নিতে পারেনি।
“যেগুলো আমরা তথ্য পেয়েছি, সেটাতে তারা আগাতে পারেনি। এর বাইরে আর কিছু আছে কি না, সেটা তদন্তের বিষয়।”
গত ১০ জুলাই সারা দেশে এক যোগে প্রকাশিত হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবছর চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮১ জন।
ফল নিয়ে যাদের আপত্তি ছিল তাদের ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা টেলিটক মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করে।
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার ৭৮ হাজার ১৯২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৩২ হাজার ৩০৭ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিল।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল পাল্টেছে এক হাজার ৬৬৯ জন শিক্ষার্থীর, সেখানে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ জন।
প্রথমে অকৃতকার্য হলেও পুনর্নিরীক্ষণে পাস করেছে ৬৪ জন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ৬৬৪ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে এবং ১ হাজার ৭৪২ জনের পরীক্ষার নম্বর বাড়লেও জিপিএ পরিবর্তন হয়নি।
আরও পড়ুন:
ছেলের ফল জালিয়াতি: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিব কারাগারে