১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী খুনে ছাত্রদল কর্মী, নেপথ্যে ‘আধিপত্য বিস্তার’

“মূলত স্থানীয় প্রভাব বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি,” বলেন এসপি মাসুদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Oct 2026, 04:03 PM

Updated : 18 Oct 2026, 04:03 PM

স্থানীয় ‘আধিপত্য বিস্তারকে’ কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি খুন হন দাবি করে পুলিশ বলছে, হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাপ্পিকে গুলি করা আরিফ হোসেনও আছে। আরিফ স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে আধিপত্য বিস্তার ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্টিল রি রোলিং মিলের স্ক্র্যাপ কেনাবেচার বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের আলি নগর এলাকায় গুলিতে নিহত হন স্থানীয় যুবদল কর্মী ২৬ বছর বয়সি তারেক হোসেন বাপ্পি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ২২ বছর বয়সি তাফসির আলম শাওন।

ওই ঘটনায় হোতা ২৯ বছর বয়সি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “মূলত স্থানীয় প্রভাব বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি।

“ওই এলাকায় অনেক ইন্ডাস্ট্রি আছে। বিশেষ করে স্টিল কারখানায় তারা স্ক্র্যাপ কেনাবেচা করে। আর্থিক স্বার্থ জড়িত। পাশাপাশি অনেক বিষয় থাকতে পারে। সব তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

বাপ্পি হত্যার পর বালির ব্যবসার বিরোধের কথা জানিয়েছিল স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, “বালি উত্তোলণ ও বালির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও থাকতে পারে। সেটা হয়ত তদন্তে আসবে।

“আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল- কারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সেটা আমরা করেছি। বাকি তদন্ত এখনো চলমান। কে কার অনুসারী, সেটা তখন জানা যাবে। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। রাজনৈতিক পরিচয় বিষয় না।”

সম্প্রতি বেশকিছু অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যাচ্ছে মন্তব্য করে এক সাংবাদিক এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চান।

উত্তরে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ বলেন, “যারা অপরাধ করছে, তারা কি বুঝতে পারছে না সে যে দলেরই হোক, যে বড় ভাইয়ের ছত্রছায়ায় হোক বা যার ছায়াতলেই থাকুক—এখানে কিন্তু পুলিশ কোন কিছু দেখে না। আমরা জানিও না কার ছায়াতলে আছে।

“এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ কোন তদবির করেনি। বরং সবাই বলেছে সহযোগিতা করতে চায়। যে অপরাধ করবে, তাকেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”

তিনি বলেন, “এখানে যে মারা গেছে, সে যুবদলের ওখানকার কর্মী। আর গ্রেপ্তার আরিফ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বড় বিষয় তারা নৃশংস অপরাধ করেছে।

“সেটা আমরা উদঘাটন করতে পেরেছি। তাদের চিহ্নিত করতে পেরেছি, তাদের ধরেছি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছি।”

‘পূর্ব পরিকল্পিত’ হত্যা

১৬ অক্টোবর রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “রাত ১০টা ৪০ এর দিকে বাপ্পি ও তার বন্ধু ইমন মোটর সাইকেলে করে বাড়বকুণ্ডের অলিনগর এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়।

“সেখানে আগে থেকে পরিকল্পনা মতে অবস্থান নেওয়া ছিল আরিফ ও তার অনুসারী ১০-১৫ জন। বাপ্পিরা সেখানে পৌঁছাতেই তাকে অতর্কিত মারধর শুরু করে। এসময় বাপ্পি মোটর সাইকেল থেকে পরে যায়। তখন ইমন কৌশলে পালিয়ে যায়।”

এরপর দেশিয় অস্ত্র দিয়ে বাপ্পিকে আঘাত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “পরে তাকে গুলি করে। ধারণা করছি পিস্তল দিয়ে। তার শরীরে দুইটা গুলি লাগে। একটা বুকের কাছাকাছি। এসময় শাওন নামের আরেকজন বাপ্পিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে তাকেও গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়।”

বাপ্পি খুনের ঘটনা তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের একটি দল কাজ শুরু করে।

শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামরা ও স্থানীয়দের বক্তব্য এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে, বাপ্পির মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম জাবেদকে শনাক্ত করে।

জাবেদকে গ্রেপ্তার ও তার কাছ থেকে বাপ্পির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “বাপ্পিকে গুলি করা শুটার আরিফসহ তিনজনকে জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

“তাদের দেওয়া তথ্য মতে আরিফের বাড়ির পাশ থেকে তিনটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করি। এরমধ্যে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি এলজি। এই হত্যাকাণ্ডে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়ারা।”

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন ২৯ বছর বয়সি মো. আরিফ হোসেন, ৩২ বছর বয়সি ফখরুল ইসলাম, ২৮ বছর বয়সি আব্দুল মান্নান, ৩৫ বছর বয়সি মো. ইফতেখার, ২৫ বছর বয়সি আরিফুল ইসলাম জাবেদ এবং রনি। গ্রেপ্তার সবাই সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুরনো খবর:

সীতাকুণ্ডে গুলিতে যুবক খুন