১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রত্যাহারের দাবি

“বর্তমান মহাপরিচালক দমন-পীড়ন ও কূটকৌশলের মাধ্যমে নৌ-সেক্টরকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন”, অভিযোগ বিএমএমওএ সভাপতির।

নৌ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রত্যাহারের দাবি
চট্টগ্রামে মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সংবাদ সম্মেলন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Oct 2024, 11:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:38 AM

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলমকে প্রত্যাহারসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএমওএ।

বুধবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বারেক বিল্ডিং মোড় এলাকায় সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরীর অভিযোগ, “বাংলাদেশ স্বৈরাচার মুক্ত হলেও ফ্যাসিবাদী প্রশাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হতে পারেনি নৌ-সেক্টর।...নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম অজ্ঞাত মহলের নির্দেশনায় বিভিন্নভাবে দমন-পীড়ন ও কূটকৌশলের প্রয়োগ করে নৌ-সেক্টরকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।

“কাজেই প্রথম দাবি মহাপরিচালককে অতিদ্রুত প্রত্যাহার করে ওই পদে ‘নিগৃহীত’ মেরিন ক্যাপ্টেন শফিকুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মাকসুদ আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস মাত্র।“ 

বিএমএমওএ সমুদ্রগামী দেশি ও বিদেশি জাহাজে এবং স্থলে কর্মরত বাংলাদেশি মেরিন অফিসারদের নিয়ে গঠিত শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন। সংগঠনটি প্রায় ১২ হাজারের মত বাংলাদেশি মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিনিধিত্ব করে।

সংবাদ সম্মেলনে আনাম চৌধুরী বলেন, “৫০ এর বেশি মেরিটাইম কনভেনশনের কোনো জ্ঞান ছাড়াই মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান বনে যাওয়া মাকসুদ আলম নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরে পদোন্নতি যোগ্য ও নিয়োগযোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সরকারকে উপযুক্ত কোনো প্রার্থী নেই মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন।

“নৌ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার, চিফ ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভেয়ার, নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার পদ মন্ত্রণালয়ের অনীহা সত্ত্বেও মেরিনারদের বঞ্চিত করে ভিন্ন জায়গা থেকে অনুপযুক্ত লোক এনে পূরণ করার খেলায় মত্ত তিনি। এতে বাংলাদেশের মেরিটাইম প্রশাসন আইএমও প্রবর্তিত ‘আইএমও মেম্বার স্টেট অডিট স্কিম’ পাস করতে পারবে না। ফলে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বিশ্বে চলতে পারবে না। এতে মেরিনারদের বিশাল অংশ বেকার হয়ে পড়বে এবং দেশের সম্ভাবনাময় জাহাজ সেক্টরের মৃত্যু ঘটবে।”

গণ আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক রদবদলের মধ্যে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও প্রত্যাহারের দাবি তুললেন মেরিন অফিসার্সরা।

সংবাদ সম্মেলনে মেরিন একাডেমি বরিশালের কমান্ড্যান্ট পদেও বদল এনে ওই পদে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ, সব প্রশিক্ষক পদে নিয়োগ বিধি মোতাবেক নিয়োগ, চট্টগ্রাম বন্দরের মেম্বার (হারবার) পদে পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থীর পদোন্নতি এবং নৌ সেক্টরের সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষ জ্যেষ্ঠ মেরিনারদের সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ ও পরামর্শ গ্রহণেরও দাবি তুলে ধরা হয়।

বিএমএমওএ এর সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. শাখাওয়াত হোসেন, সদস্য মনিরুজ্জামান, মাসরুফ আহমেদ পিয়াল, মো. বজলুর রহমান, আতিক উল্ল্যাহ, মো. আমির হোসেন সৈকত ও তৌহিদ মো. আনিসুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।